পড়াশোনা ও বৃত্তি

বর্তমানে বাংলাদেশে যেখানে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ হওয়ার সুযোগ আছে

-বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ঃ

  1. DPM (Diploma in Psychiatry Medicine)
  2. M.Phil. (Psychiatry)
  3. MD (Psychiatry)

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগ বিদ্যাবিভাগে, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ হওয়ার সুযোগ রয়েছে। বর্তমানে এখানে MD (Psychiatry) কোর্সটি চালু আছে। পূর্বের পিজি হাসপাতালে, ১৯৭৫ থেকে মনোরোগ বিদ্যা বিষয়ে DPM (Diploma in Psychiatry Medicine) কোর্সটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিনস্থ ছিল। পরবর্তিতে পিজি হাসপাতাল মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে রুপান্তরিত হওয়ার পর ১৯৯৮ সালে DPM কোর্সটিকে M.Phil. (Psychiatry) কোর্স নাম করন করা হয়। যা ২০০৭ জুলাই পর্যন্ত চালু ছিল। পরবর্তিতে M.Phil (Psychiatry) কোর্সটি বন্ধ হয়ে যায়।

বর্তমানে চলতে থাকা MD (Psychiatry) কোর্সটি মূলতঃ ২০০১ সালে চালু হয়, যা MD Residency নামে শুরু করা হয়। মাঝে কয়েক বছর শুধু MD (Psychiatry) হিসেবে চালু থাকলেও বর্তমানে অর্থাৎ ২০১০ সালের জানুয়ারী থেকে পুনরায় MD Residency নামে চালু আছে।

-জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট ও হাসপাতাল

  • MD (psychiatry):
    মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট বর্তমানে শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত। ১৯৮১ সালে এর কার্যক্রম শুরু হলেও এখানে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে     উচ্চতর ডিগ্রী বা মানসিক বিষয়ে কোর্স শুরু হয় জুলাই ২০০৯ সালে। বর্তমানে এখানে MD (psychiatry) কোর্সটি চালু আছে।

-বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ান এবং সার্জন (বিসিপিএস বা BCPS):

  • FCPS (Psychiatry):
    বিসিপিএস একটি প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান। বেসরকারী উদ্যোগে এই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে উঠে স্বাস্থ্য বিষয়ক বিভিন্ন বিভাগে যুগোপযোগী ও মানসম্পন্ন উচ্চতর ডিগ্রী প্রদানের জন্য। বিসিপিএস থেকে প্রদত্ত ডিগ্রীর নাম এফসিপিএস (FCPS). বাংলাদেশে মনোরোগ বিদ্যা বিষয়ে প্রথম এফসিপিএস ডিগ্রি দেয়া শুরু হয় ১৯৮২ সালের জুলাই মাসে।

এই কোর্সটির একটি বিশেষ দিক হলো, বিসিপিএস শুধু মাত্র পরীক্ষার কৌশল ও মান নিয়ন্ত্রন করে। বাকি ট্রেনিং, ক্লাস বা শিক্ষকের জন্য বিসিপিএস নির্ভর করে, নির্ধারিত মেডিকেল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় বা ইন্সটিটিউটের উপর।

-সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজঃ

  • M.Phil (Psychiatry):

বাংলাদেশের সরকারি/বেসরকারি মেডিকেল কলেজ গুলোর মধ্যে একমাত্র সিলেট মেডিকেল কলেজেই মনোরোগবিদ্যা বিষয়ে উচ্চতর পড়াশুনা বা মানসিক বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রী নেয়ার সুযোগ রয়েছে। সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজে M.Phil (Psychiatry), কোর্সটি চালু করা হয় ২০০৩ সালে।

-বর্তমানে বাংলাদেশে কোথায় চিকিতসা মনোবিজ্ঞানী হওয়ার সুযোগ আছে?

বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে যারা মনোবিজ্ঞান বিষয়ে বিএসসি এবং ক্লিনিকাল সাইকোলজি এর উপর এমএসসি এবং এমফিল ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
-কোথায় ক্লিনিকাল সাইকোলজি ডিগ্রী দেয়া হয়?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লিনিকাল সাইকোলজি বিভাগটি রয়েছে। এবং ১৯৯৬ সালে এই বিভাগটি চালু করা হয়। এই পর্যন্ত মোট ১৮ টি ব্যাচ এমএসসি সম্পন্ন করেছে এবং ১৯ তম ব্যাচ অধ্যায়নরত আছে। এবং এখানে এমফিল কোর্স চালু আছে।
ক্লিনিকাল সাইকোলজির ছাত্র ছাত্রীদেরকে হাতে-কলমে প্রশিক্ষন দেয়া হয়। আর এ জন্য তাদের প্লেসমেন্ট ব্যবস্থা রয়েছে। অর্থাৎ, তাদেরকে বিভিন্ন মেয়াদে বিভিন্ন হাসপাতালে (যেখানে মানসিক রোগের সেবা দেয়া হয়) প্লেসমেন্ট করা হয়। যেখানে তাদের প্লেসমেন্ট ব্যবস্থা রয়েছে সে প্রতিষ্ঠান গুলো হলো- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট ও হাসপাতাল।

-সাইকোথেরাপিস্ট কারা হতে পারেন।

বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত সাইকোথেরাপি কোন ডিগ্রী নাই। তবে সাইকোথেরাপি ট্রেনিং চালু আছে। সাইকোথেরাপি ট্রেনিং করতে হলে অবশ্যই সাইকোলজি বিষয়ে বিএসসি ও এমএসসি ডিগ্রী থাকতে হবে।
-কোথায় সাইকোথেরাপি ট্রেনিং করা যাবে?

-বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ঃ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০০৬ সালে সাইকোথেরাপি ট্রেনিং কোর্স চালু করা হয়। এই পর্যন্ত ১৮ টি ব্যাচ ট্রেনিং সম্মপন্ন করেছে। এবং বর্তমানে ১৯ তম ব্যাচ চলছে।

-জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালঃ
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালে ও সাইকোথেরাপি ট্রেনিং চালু আছে।