তারকার মন সাক্ষাৎকার

আমি প্রচন্ড বাস্তববাদী মানুষ: অভিনয় শিল্পী দীপা খন্দকার

ছবিঃ
ছোটপর্দার মিষ্টিমুখ তিনি। অভিনয়, নাচ, মডেলিং এই তিনটিতেই রয়েছে তাঁর সফল বিচরণ। প্রায় এক যুগ ধরে ছোটপর্দায় সফল বিচরণ তাঁর। নিজেকে ভীষণ বাস্তববাদী ভাবেন তিনি। ভালোবাসেন ঘুরে বেড়াতে। তিনি দীপা খন্দকার। মনেরখবর পাঠকের মুখোমুখি হয়ে এবার তিনি জানাচ্ছেন তাঁর মনের কথা, জীবনের কথা, স্বপ্নের কথা, ভালোলাগার কথা, ইচ্ছের কথা। কথা বলেছেন মুহাম্মদ মামুন। মখ : কেমন আছেন? দীপা খন্দকার : ভালো আছি। মখ : ভালো থাকতে কী করেন? দীপা খন্দকার : ভালো থাকতে অনেক কিছু করি অথবা বলা যায় অনেক কিছু চেষ্টা করি ভালো থাকার জন্য। 
স্মৃতি আমার কাছে মধুর। পুরনো স্মৃতিগুলো আমার কাছে পুরনো ছবির অ্যালবামের মতো, পাতা উল্টিয়ে উল্টিয়ে অতীতের ছবিগুলো দেখা।
মখ : মন খারাপ হয়? দীপা খন্দকার : মানুষ যেহেতু মন খারাপ তো হবেই। মখ : মন খারাপ হলে কী করেন? দীপা খন্দকার : মন খারাপ হলে ব্যস্ত থাকার চেষ্টা করি। মুভি দেখি, বাচ্চাদের সাথে সময় কাটাই, রান্না করি। মখ : রাগ হয়? দীপা খন্দকার : হ্যাঁ হয়। মখ : রাগ হলে কী করেন? দীপা খন্দকার : রাগ হলে কিছুক্ষণ চিৎকার চেঁচামেচি করি তারপর রাগ চলে যায়। মখ : আপনা থেকেই রাগ চলে যায় ? দীপা খন্দকার : না ঠিক তা না, কিছুক্ষণ চেঁচামেচি করার পর মনেহয় যে না তার দরকার ছিল না। তখন চিন্তা করি এটি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। দেখা যায় কখনও বাইরে ঘুরে আসলে রাগ কিছুটা উপশম হয়। আর আগে যেটা করতাম তা হলো রিক্সা করে বন্ধুদের বাসায় চলে যেতাম, সেখানে ৩/৪ ঘন্টা কাটিয়ে তারপর ফিরতাম। এটি আমার রাগ নিয়ন্ত্রণে অনেক কাজে দিতো। মখ : হিংসা হয়? দীপা খন্দকার : হ্যাঁ হয়, তবে তার মাত্রা বেশ কম। হিংসা ব্যাপারটিকে আমি দমন করতে পারি। মখ : কীভাবে হিংসার দমন করেন? দীপা খন্দকার : কখনও হয়তো মনে আসে যে তার এটা হয়েছে আমার কেন হচ্ছে না, সে এটা পারছে আমি কেন পারছি না। তখন ভাবতে থাকি আমার জন্য যতটুকু ছিল ততটুকুই আমার হয়েছে। তাছাড়া আরেকটি জিনিষ আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, ‘যে যেভাবে থাকতে চায় সে সেভাবেই থাকে।’ এ বিশ্বাসটি আমার হিংসা দমনে সহায়তা করে। মখ : স্বপ্ন দেখেন? দীপা খন্দকার : দেখি তবে খুব কম। আমি প্রচন্ড বাস্তববাদী মানুষ। মখ : আপনার দেখা সেই কম স্বপ্নগুলো কেমন? দীপা খন্দকার : সে কম স্বপ্নগুলোও ছোটখাটো। যেমন, একটু বেড়াতে যাবো, একটু ভালো থাকবো। এতটুকুই আমার স্বপ্ন।
মখ : একটি ইচ্ছে পূরণের কথা বললে আপনি আপনার জন্য কোনটা চাইবেন? দীপা খন্দকার : আমি ঘুরে বেড়াতে ভালোবাসি। আমি চাইবো সপরিবারে ইচ্ছেমতো ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ পেতে। মখ : স্মৃতিকাতরতা আছে? দীপা খন্দকার : অনেক। মখ : কোন স্মৃতি আপনাকে বেশি কাতর করে? দীপা খন্দকার : স্মৃতি আমার কাছে মধুর। পুরনো স্মৃতিগুলো আমার কাছে পুরনো ছবির অ্যালবামের মতো, পাতা উল্টিয়ে উল্টিয়ে অতীতের ছবিগুলো দেখা। মখ : অভিনয় শিল্পী না হলে কি হতেন? দীপা খন্দকার : ছোটবেলায় অভিভাবকরা চাইতেন ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার হই। তবে যেহেতু ছোটবেলা থেকেই আমার বাবা ছিলেন না, সেহেতু ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ারিং-এর মতো লম্বা সময় পড়াশুনা আমার জন্য নয়, আমাকে শর্টকাটে একটা প্রফেশণে ঢুকে যেতে হবে। তারপর আমি বিমানের কেবিন ক্রু হিসেবে জয়েন করি এবং সেখানে কাজ করতে করতে গ্র্যাজুয়েশনটা কমপ্লিট করি। অভিনয় শিল্পী না হলে হয়তো কেবিন ক্রু হিসেবেই থেকে যেতাম। মখ : খ্যাতি থাকলে খ্যাতির কিছু বিড়ম্বনাও থাকে। আপনার ক্ষেত্রে বিড়ম্বনাটা কেমন? দীপা খন্দকার : পরিচিতির বিড়ম্বনাটাকে আমি পজেটিভ ভাবেই নেই। মানুষ আমাকে চেনে জানে বলেই তো এ বিড়ম্বনাটুকুতে পড়তে হয়। মখ : আপনার কাছে জীবনের মানে কী? দীপা খন্দকার : আমার কাছে জীবনের মানে হচ্ছে সময় কাটানো অথবা বয়সটা পার করে দেয়া। মখ : যাপিত জীবনের সময়গুলো কেমন কাটছে? দীপা খন্দকার : ভালোমন্দ মিলিয়েই জীবন। আমার ক্ষেত্রে বলবো ভালোর ভাগটাই বেশি, মন্দের ভাগটা খুবই কম। সে হিসেবে বলবো ভালোই কাটছে জীবন। মখ : আরেকটা জীবন পেলে কী করবেন? দীপা খন্দকার : আরেকটা জীবন পেলে এ জীবনে যা কিছু করা সম্ভব হয়ে উঠেনি সেগুলো করার চেষ্টা করব। তবে সবচাইতে বেশি যা চাইবো তা হলো একজন বাবা পেতে। যেহেতু আমার খুব কম বয়সে বাবাকে হারিয়েছি তাই বাবার অভাবটা অনেক বেশি বোধ করি।
ছবিঃ
মখ : অভিনয়ের সময় চরিত্রের সাথে নিজের মানসিক অবস্থা মিলিয়ে নেন কীভাবে? দীপা খন্দকার : শুধু আমার ক্ষেত্রে নয় এটা বোধহয় সব অভিনয়শিল্পীরই একই অবস্থা আর তা হলো, ক্যামেরার সামনে যখন আমরা দাঁড়াই তখন আর নিজের বলে কিছু থাকে না, সেই চরিত্রের একজন হয়ে যাই। মখ : সবারই নিজের সমাজ নিয়ে অল্পবিস্তর ভাবনা থাকে। এক্ষেত্রে আপনার ভাবনাটি কি? দীপা খন্দকার : সমাজ নিয়ে আমার যে স্বপ্ন সেটি হলো প্রতিটি মানুষ সৎভাবে ঠিকমতো তার নিজের কাজটুকু করুক। মখ : পাঠকদের উদ্দেশ্যে কিছু বলবেন কি? দীপা খন্দকার : পাঠকদের উদ্দেশ্যে বলবো সবাই আপনারা আপনাদের পাশের মানুষদের নিয়ে ভালো থাকুন। বিশেষ করে বাচ্চাদের প্রতি সবাই আরো বেশি দায়িত্ত্বশীল হোন। মখ : ধন্যবাদ আপনাকে মনেরখবর পাঠকদের আপনার মনের খবর জানানোর জন্য। দীপা খন্দকার : ধন্যবাদ আপনাকেও।