তারকার মন সাক্ষাৎকার

কাজের ব্যস্ততা নিয়মানুবর্তিতার ক্ষেত্রে কোন বাঁধা নয়: দেলোয়ার জাহান ঝন্টু

ছবিঃ
তারকাদের তারকা তিনি। একজন সফল এবং ব্যস্ততম চলচ্চিত্র পরিচালক। চলচ্চিত্রের কাজে তিনি পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কারসহ অসংখ্য পুরষ্কার ও সম্মাননা। একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ২নং সেক্টরের অধীনে অংশ নিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধে। সিনেমার মাঝেই ভালো থাকেন তিনি। পরিচালনা করেছেন বন্দুক, ওমর শরীফ, কোহিনূর, দুঃখিনী মা, জজ ব্যারিস্টার, ভাইয়ের আদর, প্রেম গীত, বকুল ফুলের মালা, ৫২ থেকে ৭১ ইত্যাদি অসংখ্য দর্শকনন্দিত সিনেমার।  তিনি দেলোয়ার জাহান ঝন্টু। মনেরখবর পাঠকের মুখোমুখি এবার তিনি জানাচ্ছেন তাঁর মনের কথা, ভালো লাগার কথা, সিনেমা নিয়ে তাঁর ভাবনার কথা। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মুহাম্মদ মামুন।   মখ : কেমন আছেন? দেলোয়ার জাহান ঝন্টু : আল্লাহ্‌র রহমতে বয়সের তুলনায় অনেক ভালো ভালো আছি। মখ : বয়সের সাথে সাথে ভালো থাকার পরিমাণটা কি কমে যায়? দেলোয়ার জাহান ঝন্টু : আমার মনে হয় না। কারণ বয়সের সাথে সাথে মনটাও সেভাবে প্রস্তুত হয়ে যায় যে পৃথিবীতে থাকার সময় আর খুব বেশি হাতে নেই, জ্বর জরা এগুলোও আস্তে আস্তে শরীরে বাসা বাঁধতে শুরু করবে।
কাজ করতে হলে কাজের প্রতি মনোযোগী হতে হবে। নিজেকে শারীরিক এবং মানসিকভাবে ভালো রাখতে না পারলে সে যে কাজই হোক ভালো হওয়ার প্রশ্নই আসে না। কেউ যদি ব্যস্ততার অযুহাত দেয় তাহলে আমার নিজের উদাহরণ দিয়ে বলবো সংখ্যার দিক থেকে আমার সমান সিনেমা পরিচালনা দুনিয়াতে কম পরিচালকই করেছে। কিন্তু আমার কোনদিন এক ফোঁটা নেশাদ্রব্যের প্রয়োজন হয়নি। অ্যালকোহলের স্বাদ মিষ্টি নাকি তেতো আমি জানিনা। কিছুদিন সিগারেট খেয়েছি সেটিও পরে বাদ দিয়ে দিয়েছি। সুতরাং যারা বলে কাজের জন্য নেশা করতে হয় সেটা তাদের নেশা করার অযুহাত মাত্র।
মখ : নিজেকে ভালো রাখতে কোন জিনিষটা সবচাইতে বেশি জরুরি? দেলোয়ার জাহান ঝন্টু : নিয়মানুবর্তিতা। আমার মতে নিয়মানুবর্তিতার মধ্যে থাকলে এবং যেগুলো শরীরের জন্য ক্ষতিকর যেমন নেশাজাতীয় দ্রব্য, মদ বা ধুমপান এগুলো থেকে বিরত থাকলে একটা ভালো জীবন কাটানো সম্ভব। মখ : শোবিজের কেউ কেউ অযুহাত দেয় যে সৃষ্টিশীল কাজের মধ্যে ব্যস্ত থাকতে একটু আধটু নেশা নাকি বেশ কাজে দেয়? দেলোয়ার জাহান ঝন্টু : এটা সম্পুর্ণ ভুল একটা কথা। কাজ করতে হলে কাজের প্রতি মনোযোগী হতে হবে। নিজেকে শারীরিক এবং মানসিকভাবে ভালো রাখতে না পারলে সে যে কাজই হোক ভালো হওয়ার প্রশ্নই আসে না। কেউ যদি ব্যস্ততার অযুহাত দেয় তাহলে আমার নিজের উদাহরণ দিয়ে বলবো সংখ্যার দিক থেকে আমার সমান সিনেমা পরিচালনা দুনিয়াতে কম পরিচালকই করেছে। কিন্তু আমার কোনদিন এক ফোঁটা নেশাদ্রব্যের প্রয়োজন হয়নি। অ্যালকোহলের স্বাদ মিষ্টি নাকি তেতো আমি জানিনা। কিছুদিন সিগারেট খেয়েছি সেটিও পরে বাদ দিয়ে দিয়েছি। সুতরাং যারা বলে কাজের জন্য নেশা করতে হয় সেটা তাদের নেশা করার অযুহাত মাত্র। মখ : এত ব্যস্ত সময় পার করে নিয়মানুবর্তিতার মধ্যে থাকা কঠিন নয় কি? দেলোয়ার জাহান ঝন্টু : কঠিন তখনই হবে যখন কাজটি অগোছালোভাবে করা হবে। সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকলে এবং কতটুকু কাজ নিয়ম মেনে ভালো ভাবে করা যাবে সে সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকলে কাজের ব্যস্ততা নিয়মানুবর্তিতার ক্ষেত্রে কোন বাঁধা নয়। মখ : বিভিন্ন ধরণের সিনেমা আপনি তৈরি করেছেন। এরমধ্যে কোন ধরণের সিনেমা আপনার ব্যক্তিগত পছন্দ? দেলোয়ার জাহান ঝন্টু : সামাজিক সিনেমা। মখ : আপনার পরিচালিত সিনেমাগুলোর মধ্যে আপনার প্রিয় সিনেমা কোনটি? দেলোয়ার জাহান ঝন্টু : আমার পরিচালিত সিনেমাগুলোর মধ্যে ‘৫২ থেকে ৭১’ ছবিটিই আমার বেশি প্রিয়।  মখ : আপনার প্রিয় পরিচালক কে? দেলোয়ার জাহান ঝন্টু : অনেক প্রিয় পরিচালক রয়েছেন। তবে নাম বললে প্রথমে আসবে আলফ্রেড হিচককের নাম। মখ : আপনার সিনেমায় যারা অভিনয় করেছেন তাঁদের মধ্যে আপনার প্রিয় অভিনেতা অভিনেত্রী কে কে? দেলোয়ার জাহান ঝন্টু : প্রিয় অভিনেতা রাজ্জাক, প্রিয় অভিনেত্রী শাবানা মখ : আপনি নিজে কোন ধরণের সিনেমা দেখতে বেশি পছন্দ করেন? দেলোয়ার জাহান ঝন্টু : ওয়েস্টার্ন জেনারের সিনেমাগুলো। মখ : আপনার সিনেমার আউটডোর শুটিং-এ কক্সবাজারকে বেশি পাওয়া যায়। এর কারণ কী? দেলোয়ার জাহান ঝন্টু : কক্সবাজারে একই সাথে পাহাড় এবং সমুদ্র দুটোই পাওয়া যায়। শুধু পাহাড় যেমন দেখতে ভালো লাগে না তেমনি শুধু সমুদ্রও ভালো লাগেনা। সাগর এবং পাহাড় একসাথে থাকলে সেটিকে বেশি সুন্দর লাগে। মখ : ব্যক্তিগত প্রশ্ন। মন খারাপ হয়? দেলোয়ার জাহান ঝন্টু : হয়। মখ : কী কারণে মন বেশি খারাপ হয়? দেলোয়ার জাহান ঝন্টু : আমার চিন্তার অনেকটা জুড়েই থাকে সিনেমা। যখন দেখি অনেক সুন্দর কোন সিনেমা দর্শক পাচ্ছে না তখন সেটি আমাকে মন খারাপ করে। মখ : বাণিজ্যিক সিনেমাকে দর্শকপ্রিয়তা পাওয়াতে কোন জিনিষগুলো বেশি জরুরি? দেলোয়ার জাহান ঝন্টু : আমি মনে করি সবচাইতে জরুরি হলো সিনেমার গল্প। একটি সিনেমার গল্প যদি ভালো না হয় তাহলে সে সিনেমা যত উন্নতমানেরই হোক না কেন সেটি দর্শকপ্রিয়তা পাবে না। মখ : বাংলাদেশের মানুষরা এখন অনেকটাই সিনেমাহল বিমুখ। এর প্রধান কারণ কি? দেলোয়ার জাহান ঝন্টু : মূল কারণ সিনেমা তৈরির দুর্বলতা। এরমধ্যে এদেশের সিনেমাগুলোতে অশ্লীলতা ঢুকে দর্শকদের আরো হল বিমুখ করেছে। এই ফাঁকে দর্শকরা টেলিভিশন বা ইন্টারনেট নির্ভর হয়ে পড়েছে। যদিও এখন অনেক ভালো ভালো সিনেমা তৈরি হচ্ছে কিন্তু দর্শকদের এই হলবিমুখ মানসিকতাটা পরিবর্তন করা যাচ্ছে না। মখ : দর্শকদের হলমুখী করা যায় কীভাবে তা নিয়ে আপনার কোন পরামর্শ আছে কী? দেলোয়ার জাহান ঝন্টু : আমি সত্যিই জানিনা এদেশের দর্শকদের আবার কীভাবে হলমুখী করা যেতে পারে। বিশেষ করে অশ্লীলতার আগ্রাসন ও মেধাবিহীন চলচ্চিত্র দর্শকদের যেভাবে হলবিমুখ করেছে তাতে তাঁদের আবার নতুন করে সিনেমা হলে ফিরিয়ে আনা যায় কীভাবে সেটা সত্যিই আমি জানিনা। তবে সিনেমায় নতুনত্ত্ব, সুন্দর নির্মাণ এসব থাকলে এখনও কিন্তু দর্শকরা হলমুখী হয়, সম্প্রতি কিছু সিনেমাতে তার প্রমাণ আমরা দেখেছি। মখ : অনেক ধন্যাবাদ আপনাকে মনেরখবরে সময় দেয়ার জন্য। দেলোয়ার জাহান ঝন্টু : ধন্যবাদ মনেরখবরকেও।