তারকার মন সাক্ষাৎকার

অভিনয়, গান, ছবি আঁকা এই তিনে মিলেই আমি : টেলি সামাদ

আসল নাম আব্দুস সামাদ। একাধারে তিনি অভিনয়শিল্পী, চিত্রশিল্পী ও সঙ্গীতজ্ঞ। কৌতুক অভিনেতা হিসেবে তাঁর জনপ্রিয়তা আকাশ ছোঁয়া। অভিনয় করেছেন অর্ধ সহস্রাধিক চলচ্চিত্রে। অর্ধশত চলচ্চিত্রের গানে কণ্ঠ দিয়েছে। করেছেন সঙ্গীত পরিচালনাও। তিনি টেলি সামাদ। মনের খবর পাঠকের মুখোমুখি এবার তিনি জানাচ্ছেন তাঁর মনের কথা, ভালো লাগার কথা, ইচ্ছার কথা। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মুহাম্মদ মামুন। মখ : সিনেমার অতীত ও বর্তমানের মধ্যে পার্থক্য কেমন? টেলি সামাদ : আমরা যখন অভিনয় করেছি তখন সিনেমার দর্শক ছিলো চাহিদা ছিলো। শিল্পীদের জনপ্রিয়তা ও পরিচিতিও বেশি ছিলো। এখন হলমুখী মানুষের ভিড় কম, এদেশি সিনেমার চাহিদাও কম। মখ : কৌতুক অভিনয়ের ক্ষেত্রে? টেলি সামাদ : এখন সিনেমায় কৌতুকটা ঠিকভাবে আসছে না। কৌতুকটা এখন হয়ে গেছে অনেকটা ভাঁড়ামো।
ছোটবেলা থেকেই একটা সাংস্কৃতিক আবহের মধ্যে বড় হয়েছি। বাবাকে দেখেছি ছবি আঁকতে গান গাইতে। যদিও বাবা পেশায় ব্যবসায়ী ছিলেন। বাবার দেখাদেখি আমরাও ছবি আঁকতাম গান গাইতাম, এছাড়া ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি আমার একটা ঝোঁক ছিলো। ক্লাস থ্রিতে পড়াকালীন নিজেই একটা নাটক লিখে সেই নাটকে অভিনয় করেছিলাম স্কুলে। এরপর বড় আব্দুল হাইয়ের দেখাদেখি আমিও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগে ভর্তি হলাম। এরপর অভিনয়ে জড়িয়ে গেলাম।
মখ : এর কারণ কি বলে মনে করেন? টেলি সামাদ : কারণ বিভিন্ন হতে পারে। কাহিনীকারগণ কাহিনীতে কৌতুকটা তুলে আনতে পারছে না, কৌতুক অভিনেতারা অভিনয়টা গুরুত্বের সাথে করছে না অথবা পরিচালকগণ সবকিছু সঠিকভাবে চালনা করতে পারছে না। মখ : হলে এখন দর্শক কম হওয়ার কারণ কি হতে পারে? টেলি সামাদ : একদিকে আগের চাইতে এখন মানুষের কাছে নাটক সিনেমা দেখার মাধ্যম অনেক বেশি আরেকদিকে সময়ের সাথে সাথে বাংলা চলচ্চিত্র তার চাহিদা মোতাবেক উন্নয়ন ঘটাতে পারেনি। এসব অনেক কারণ মিলেই হলে গিয়ে সিনেমা দেখার চাহিদা অনেক কমে গেছে। মখ : অভিনয়ে আসলেন কীভাবে? টেলি সামাদ : ছোটবেলা থেকেই একটা সাংস্কৃতিক আবহের মধ্যে বড় হয়েছি। বাবাকে দেখেছি ছবি আঁকতে গান গাইতে। যদিও বাবা পেশায় ব্যবসায়ী ছিলেন। বাবার দেখাদেখি আমরাও ছবি আঁকতাম গান গাইতাম, এছাড়া ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি আমার একটা ঝোঁক ছিলো। ক্লাস থ্রিতে পড়াকালীন নিজেই একটা নাটক লিখে সেই নাটকে অভিনয় করেছিলাম স্কুলে। এরপর বড় আব্দুল হাইয়ের দেখাদেখি আমিও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগে ভর্তি হলাম। এরপর অভিনয়ে জড়িয়ে গেলাম। মখ : অভিনয়ের পাশাপাশি আপনি একজন চিত্রশিল্পী, গীতিকার, সুরকার এবং সঙ্গীত শিল্পী। এই তিনের মধ্যে আপনার প্রিয় কোনটি? টেলি সামাদ : স্কুলে পড়াকালীন আমার ইংরেজি টিচার আমাকে এই প্রশ্নটি করেছিলেন। তখন যে উত্তরটি দিয়েছিলাম এখনও সেই উত্তরটিই দেই। ছবি আঁকা, অভিনয় এবং গান এই তিনটি আমার কাছে ত্রিভুজের তিনটি বাহুর মত। এই তিনটি মিলিয়েই পূর্ণাঙ্গ আমি যার এক কোণে আমার অভিনয়, আরেক কোণে আমার ছবি আঁকা, আরেক কোণে আমার গান। মখ : কোন ধরণের ছবি আঁকতে বেশি পছন্দ করেন? টেলি সামাদ : ছবি আঁকার ক্ষেত্রে জলরং আমার প্রিয় মাধ্যম। যা কিছু ছবি এঁকেছি তার প্রায় সবই জলরং-এ। মখ : আঁকার ক্ষেত্রে প্রিয় বিষয় কোনগুলো? টেলি সামাদ : আমি মূলত প্রকৃতি, প্রকৃতির বৈরিতা ও প্রকৃতির সাথে মানুষের সংগ্রামের বিষয়গুলো নিয়ে ছবি আঁকতে বেশি পছন্দ করি। এছাড়া পোট্রেট এবং দেয়ালচিত্রও করেছি বেশ কিছু। মখ : আব্দুস সামাদ থেকে টেলি সামাদ হয়ে উঠা কীভাবে? টেলি সামাদ : বাংলাদেশ টেলিভিশনের একটা অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম সেখানেই এই উপাধিটি পাই। বিটিভির ক্যামেরাম্যান মোস্তফা মামুন প্রথম এই নামটি প্রস্তাব করেন। মখ : সম্প্রতি দু’একটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করলেও অভিনয় অঙ্গনে আগের মতো উপস্থিতি আপনার নেই কেন? টেলি সামাদ : বয়স হয়েছে শরীর আর আগের মত চাপ নিতে পারে না। এছাড়া পছন্দমত গল্প তেমন পাই না। এগুলোই কারণ বলা যায়। তারপরও যখনই সময় সুযোগ পাই এফডিসিতে চলে যাই। মখ : প্রিয় অভিনয় শিল্পী কে? টেলি সামাদ : দেশে রাজ্জাক, ফারুক, আলমগীর। পশ্চিম বাংলায় উত্তম-সুচিত্রা, বোম্বেতে দিলিপ কুমার- মধুবালা, পাকিস্তানে মোহাম্মদ আলী জেবা- সাবিহা খানম। মখ : চলচ্চিত্র পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানেও আপনার উপস্থিতি নেই। এর কারণ কি? টেলি সামাদ : হ্যাঁ, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কার প্রদান অনুষ্ঠানে আমি এবারও যাইনি। হয়তো আমি নিজে এখনও জাতে উঠতে পারিনি যার কারণে অসংখ্য পুরষ্কার পেলেও জাতীয় পুরষ্কার আমার পাওয়া হয়নি। যেহেতু জাতেই উঠতে পারিনি তাই জাতীয় অনুষ্ঠানে যাওয়ার কোন মানে থাকতে পারে না।

মখ : আপনি ছবিতে সঙ্গীত পরিচালনাও করেছেন। সঙ্গীত পরিচালনায় আগ্রহী হলেন কীভাবে? টেলি সামাদ : এটা করেছিলাম সুপ্রিয় সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালন আলাউদ্দিন আলীর অনুপ্রেরণায়। মখ : মনের অবস্থা আপনার অভিনয়, ছবি আঁকা বা গানে কীভাবে প্রভাব ফেলে? টেলি সামাদ : ছবি আঁকার ক্ষেত্রে মনের অবস্থাটা প্রভাবিত করে। অভিনয়ের ক্ষেত্রে মনের অবস্থা সেভাবে প্রভাবিত করেনি। মনের অবস্থা যেমনই থাকুক ক্যামেরা সামনে দাঁড়ালে তখন অভিনয়টাই মুখ্য হয়ে যায়। গানের ক্ষেত্রেও তাই। মখ : ব্যক্তি জীবনে চাওয়া পাওয়ার দূরত্ব কতটুকু? টেলি সামাদ : অসংখ্য মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি এর চাইতে বড় পাওয়া আর কি হতে পারে! মখ : কাজ নিয়ে ভবিষ্যৎ কোন পরিকল্পনা আছে কি? টেলি সামাদ : আমার আঁকা ছবিগুলো নিয়ে একটা প্রদর্শনী করার ইচ্ছা আছে। আগের অনেক ছবি হারিয়ে গেছে। এবার আমেরিকা গিয়ে বেশ কিছু ছবি এঁকেছি, আরও কিছু ছবি এঁকে সামনে একটা প্রদর্শনী করবো। আরেকটি ইচ্ছা হলো আত্মজীবনী লেখার। মখ : পাঠকদের উদ্দেশ্যে কিছু বলুন। টেলি সামাদ : পাঠকদের উদ্দেশ্যে বলবো, যতদিন বেঁচে আছি ততদিন যেন সকলের ভালোবাসা ভাই। এছাড়া সুস্থভাবে যাতে বেঁচে থাকতে পারি সেজন্য সবাই যেন আমার জন্য দোয়া করেন। মখ : অনেক ধন্যবাদ আপনাকে মনের খবরে সময় দেয়ার জন্য। টেলি সামাদ : ধন্যবাদ মনের খবরকেও।