তারকার মন সাক্ষাৎকার

ভালোবাসাই তো ভালো থাকার শেকড়: গিয়াস উদ্দিন সেলিম

সফল নাট্যকার, নাট্যনির্মাতা ও চলচ্চিত্রকার তিনি। ছোটপর্দায় সাফল্যের পর মনোযোগ দিয়েছেন বড় পর্দায়। প্রথম নির্মিত চলচ্চিত্র ‘মনপুরা’ তাঁকে এনে দিয়েছে আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা। কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কার, মেরিল-প্রথম আলো  পুরষ্কারসহ পেয়েছেন অসংখ্য পুরষ্কার ও সম্মাননা। তিনি গিয়াস উদ্দিন সেলিম। মনের খবরকে এবার তিনি জানাচ্ছেন তাঁর মনের কথা, ভালো লাগার কথা, স্বপ্নের কথা। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন অভ্র আবীর।  মখ : কেমন আছেন? গিয়াস উদ্দিন সেলিম : ভালো। মখ : কেন ভালো আছেন? গিয়াস উদ্দিন সেলিম : ভালো না থেকে তো উপায় নেই। মানুষ ভালো না থাকলে সে ভালো রাখতেও পারে না। আমি এতটুকু জানি- আমি ভালো আছি। মখ : ভালো থাকাটা কেন জরুরী? গিয়াস উদ্দিন সেলিম : ভালো থাকা ছাড়া মানবজীবনের আর তেমন কোনো উদ্দেশ্য নেই। যে যা-ই করছে সবই ভালো থাকার জন্য। তাই, নিঃসন্দেহে ভালো থাকাটা জরুরী। মখ : ভালো থাকার জন্য আপনি কোন কোন বিষয়ের দিকে খেয়াল রাখেন এবং ভালো রাখার চেষ্টা করেন? গিয়াস উদ্দিন সেলিম : ভালো থাকার জন্য কোনো বিশেষ বিষয়ের দিকে খেয়াল রাখা উচিত বলে আমার মনে হয় না। মানুষ তার স্বাভাবিক জীবনযাপন আর স্বাচ্ছন্দ্যে দিন কাটাতে পারলেই তো ভালো থাকে। মখ : মন খারাপ হয়? গিয়াস উদ্দিন সেলিম : হ্যা, কেন হবে না! আমি তো মানুষ। আর মন খারাপ না হলে ভালো থাকার মর্মই কেউ বুঝতো না। মখ : কেন খারাপ হয়? গিয়াস উদ্দিন সেলিম : ইদানীং আমার মন খারাপ হয় যদি কাউকে কষ্ট দিয়ে ফেলি। মনের অজান্তে হলেও পরে খুব খারাপ লাগে। অনেক সময় দেখা যায় অনেকে অনেক কথায় মন খারাপ করে, যদিও সে সেই কথাটা শোনার যোগ্য। তবুও, পরে ভাবি না বললেই হয়তো পারতাম। তখন খুব খারাপ লাগে। মখ : তখন কি করেন? গিয়াস উদ্দিন সেলিম : চুপচাপ বসে থাকি। মখ : মন ভালো-খারাপ, দুঃখ-কষ্ট, রাগ-হিংসা এগুলোকে কিভাবে দেখেন? গিয়াস উদ্দিন সেলিম : মানুষ মাত্রই তার স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। এগুলো সবারই আছে। তবে আমার মনে হয় এগুলো না থাকলে মানুষে মানুষে হয়তো হানাহানি হতো না।
কারোই তো জানার কথা না সে আর একবার সুযোগ পেলে কাকে ভালোবাসবে। ভালো রোজই বাসি আর প্রেমেও রোজ পড়ি। তবে সেটার প্রকাশ তো সবার ক্ষেত্রে সবসময়ই ঘটে না। আমার পরিবার আছে, কাজ আছে। এগুলোর সাথেও প্রেমে পড়ি। আর হ্যা, যদি নারী-পুরুষের প্রেম বা জৈবিক প্রেমের কথা বলা হয়, তবে এটা কেউই বুঝতে পারবে না সে সুযোগ পেলে আবার কাকে ভালোবাসবে।
মখ : রাগ করেন? গিয়াস উদ্দিন সেলিম : গত ১০-১২বছর যাবত খুবই কম। একেবারেই যে করি না তা না। তবে বদমেজাজি আমি কখনোই না। মখ : কি কারণে রেগে যান? গিয়াস উদ্দিন সেলিম : এটা আসলে বলা যায় না। কখনো হয়তো কারো কাজে আবার কখনো হয়তো নিজের উপরই। মখ : রাগ কি দমিয়ে রাখেন? নাকি কারো উপর ঝেড়ে ফেলার চেষ্টা করেন? গিয়াস উদ্দিন সেলিম : হ্যা, আমি সবসময়ই রাগ দমিয়ে রাখি। বয়সের সাথে সাথে এই ব্যাপারটা সবাই অর্জন করে ফেলে। আর আমি সবসময়ই যুক্তি দিয়ে কথা বলতে আর শুনতে পছন্দ করি। তাই কারো উপর যদি কখনো রাগ হয় তখন সেটা যৌক্তিক ভাবেই কথাবার্তা বলে সমাধান করে ফেলি। মখ : হিংসা আছে? গিয়াস উদ্দিন সেলিম : নাহ, হিংসা ব্যাপারটা আমাকে ছুঁতে পারে না। আমিও খুব দূরত্ব বজায় রাখি হিংসা করা থেকে। মখ : ভালোবাসার প্রবণতা আপনার ভেতরে কতটুকু? গিয়াস উদ্দিন সেলিম : অনেক। এমন কেউ কি আছে পৃথিবীতে যে ভালোবাসা চায় না? জন্মের পর থেকেই কখনো দিতে অথবা কখনো পেতে। কিন্তু ভালোবাসা সবাই চায়। মখ : ভালোবাসা ব্যাপারটিকে কিভাবে দেখেন? গিয়াস উদ্দিন সেলিম : ভালোবাসা মানেই সুন্দর, পবিত্র। বলতে গেলে ভালোবাসাই তো ভালো থাকার শেকড়। মখ : আর একবার ভালোবাসার সুযোগ দিলে কাকে ভালোবাসতেন? গিয়াস উদ্দিন সেলিম : এটা ঠিক কিভাবে বলবো জানি না। কারোই তো জানার কথা না সে আর একবার সুযোগ পেলে কাকে ভালোবাসবে। ভালো রোজই বাসি আর প্রেমেও রোজ পড়ি। তবে সেটার প্রকাশ তো সবার ক্ষেত্রে সবসময়ই ঘটে না। আমার পরিবার আছে, কাজ আছে। এগুলোর সাথেও প্রেমে পড়ি। আর হ্যা যদি নারী পুরুষের প্রেম বা জৈবিক প্রেমের কথা বলা হয়, তবে এটা কেউই বুঝতে পারবে না সে সুযোগ পেলে আবার কাকে ভালোবাসবে।

মখ : কখনো কি মানসিকভাবে অসুস্থ হয়েছেন? গিয়াস উদ্দিন সেলিম : নাহ, আমার কখনোই মনে হয়নি আমি মানসিকভাবে অসুস্থ। মখ : মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়টিকে কিভাবে দেখেন? গিয়াস উদ্দিন সেলিম : সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এটা। মানসিকভাবে অসুস্থ মানুষ খুবই বিপদজনক তার পরিবার, সমাজ এর জন্য। মানসিক সুস্থতা ছাড়া মানুষ টিকে থাকতে পারে না। মখ : স্বপ্ন দেখেন? গিয়াস উদ্দিন সেলিম : হ্যা, সবসময়। মখ : মানুষ হিসেবে কি ধরনের স্বপ্ন দেখেন? সেটি কিভাবে সফল করেছেন? গিয়াস উদ্দিন সেলিম : আমার সব স্বপ্ন সিনেমা নিয়ে। অনেক অনেক সিনেমা বানাবো। আমাদের ইন্ডাস্ট্রি ঘুরে দাঁড়াবে এই স্বপ্নে আমি প্রতিটা মুহূর্ত বিভোর থাকি। আর সফল কতটুকু হয়েছি তা জানি না। মখ : জীবনে স্বপ্ন দেখার প্রয়োজনীয়তা কতটুকু? গিয়াস উদ্দিন সেলিম : স্বপ্ন না দেখলে বেঁচে থাকা যায় না। সবারই স্বপ্ন থাকে। মখ : নিজে ভালো থাকার জন্য তো আমরা অনেক কিছু করি। কিন্তু অন্যরা যাতে আপনাকে ভালোবাসেন, অন্যদের যাতে ভালো লাগে, সেসব ব্যাপারে  কতটুকু সচেতন? এজন্য কোন কোন বিষয়ের দিকে খেয়াল রাখেন? গিয়াস উদ্দিন সেলিম : হ্যা, আমার স্ত্রী বলে- আমি নাকি লোক দেখানো অনেক কিছু করি। তবে আমি এখনো বুঝি উঠতে পারিনি সে কেন এটা বলে। আমি আমার মত করেই চলি। আর মানুষকে কষ্ট না দেওয়ার চেষ্টা করি সবসময়। মখ : নিজের কাছে মানুষ হিসেবে আপনি কেমন? গিয়াস উদ্দিন সেলিম : নিজেকে বিচার করা আমার কাছে খুব অসাধ্য। কেনোনা আমি একেক সময় একেক রকম করে ভাবি নিজেকে। আর নিজের কোয়ালিটি বলাটা কেমন বিরূপ লাগে না! মখ : স্মৃতিকাতরতায় ভোগেন? কিসের স্মৃতি? গিয়াস উদ্দিন সেলিম : হ্যা। আমার শৈশবের স্মৃতি। আমার বেড়ে ওঠা পুরোটাই গ্রামে। গ্রামে দৌড়ে বেড়ানো, পুকুরে ঝাঁপাঝাঁপি এই স্মৃতি আমাকে খুব তাড়িয়ে বেড়ায়। এক কথায় শৈশবের দুরন্তপনা নিয়ে আমি প্রায়ই স্মৃতিকাতরতায় ভুগি।