শিশু লালন পালনে বাবার ভূমিকা

শিশু লালন পালনে বাবার ভূমিকা

সাধারণত: আমাদের দেশে মনে করা হয় যে শিশু লালন পালন মূলত: মায়ের দায়িত্ব এবং তারা এই কাজটি ভালোভাবে করতে পারেন। এই বিশ্বাসের ফলে মায়েরাই প্রধানত শিশু লালনের দায়িত্ব নেন এবং প্রধান যত্নকারী হিসাবে কাজ করেন। কিন্তু গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে শিশু লালন পালনে বাবার ভুমিকাও অত্যন্ত প্রয়োজনীয় কারণ তা শিশুদের বিকাশকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে। তাই সুখী, সফল ও সামাজিক ভাবে পরিপক্ক শিশু গড়ে তোলার জন্য বাবাকে অবশ্যই শিশু লালন পালনের সাথে ভালোভাবে জড়িত থাকতে হবে।

শিশু লালন পালনে বাবা জড়িত থাকার কারণে যেসব ইতিবাচক দিক পরিলক্ষিত হয় সেগুলো হলো

আচরণের নিয়ন্ত্রণ: বাবা যখন মায়ের সাথে সাথে শিশুর সাথে খেলায় জড়িত থাকেন তখন শিশুরা ভালোভাবে আবেগ ও আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করতে শেখে এবং আক্রমনাত্বক ইচ্ছাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। গবেষনায় দেখা গেছে যখন বাবা শিশু লালন পালনের সাথে জড়িত থাকেন তখন শিশুদের  মধ্যে  আচরণগত সমস্যা কম হয়।

আবেগীয় স্বাস্থ্য: বাবা যখন শিশু লালন পালনের সাথে জড়িত থাকেন তখন শিশুদের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ এবং আত্মবিশ্বাস বেশি জন্মে। এই নিরাপত্তাবোধ ও আত্মবিশ্বাসের ইতিবাচক প্রভাব পড়ে শিশুর মানসিক স্বাস্থ্যের উপর। গবেষণায় দেখা গেছে যে শিশুদের বাবার সাথে ভালো সর্ম্পক থাকে তারা বিষণ্নতা, আতংক এবং আবেগীয় সমস্যায় কম ভোগে। সেইসব শিশুদের নিজেদের প্রতি ইতিবাচক ধারণা থাকে এবং তারা বয়:সন্ধিকালে মাদক ও অন্যান্য খারাপ প্রভাব থেকে দূরে থাকে।

সামাজিক বিকাশ: যে সব শিশুদের লালন পালনে মায়ের সাথে সাথে বাবা জড়িত থাকেন সেইসব শিশুরা অনেক বেশি সামাজিক আচরণ রপ্ত করে, অন্য শিশুদের প্রতি বন্ধু সুলভ আচরণ করে এবং বন্ধু মহলে জনপ্রিয় হয়। বাবা যদি শিশু লালন পালনে জড়িত থাকেন তখন দেখা যায় বাবা মায়ের সাময়িক অনুপস্থিতিতে শিশু চারপাশকে অনুসন্ধান করে এবং পরিস্থিতিকে মানিয়ে নেয়। বাবার শিশু লালন পালনে জড়িত থাকার কারণে ছেলেদের মেয়েদের সাথে এবং মেয়েদের ছেলেদের সাথে ভালো সর্ম্পক বজায় থাকে। গবেষনায় দেখা গেছে বয়:সন্ধিকালে মেয়েদের যদি বাবার সাথে আন্তরিক সর্ম্পক  থাকে তবে তাদের ছেলেদের প্রতি ইতিবাচক ধারণা জন্মে এবং পুরুষদের  সাথে তাদের ভালো সর্ম্পক হয়।

শেখার দক্ষতা: গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে বাবা যদি শিশু লালন পালনের সাথে জড়িত থাকেন তবে শিশুদের মস্তিষ্ক গঠন ও শেখা তরান্নিত হয়। এছাড়া শিশুদের ভাষার বিকাশ বেশি হয় এবং স্কুলে লেখাপড়া করার প্রস্তুতি বেশি হয়। বাবার শিশু লালন পালনে জড়িত হবার কারণে শিশুর মৌখিক ভাষার দক্ষতা বাড়ে, পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করে এবং লেখাপড়ার সময়ে মানসিক চাপ ও হতাশাকে শিশু ভালোভাবে কাটিয়ে উঠতে পারে।


প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। মনের খবরের সম্পাদকীয় নীতি বা মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই মনের খবরে প্রকাশিত কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না কর্তৃপক্ষ।

ফরিদা আকতার

মনোবিজ্ঞানী ও কাউন্সেলর, প্রধান নির্বাহী- ইনার ফোর্স