মূল পাতা / ফিচার / অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিসঅর্ডার এবং প্রতিকার

অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিসঅর্ডার এবং প্রতিকার

অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিসঅর্ডার (শুচিবায়ু রোগ) । কাদের হয়? কেন হয়? সমাধান কি? সাধারণত টিন এজ গ্রুপ থেকেই এই রোগের প্রকোপ বেশি দেখা যায়। তবে যেকোনো বয়সেই শুরু হতে পারে। ছেলে-মেয়ে সমানভাবেই আক্রান্ত হয়। এটি একটি মাইনর মেন্টাল ডিসঅর্ডার। কিন্ত ভোগান্তি কম নয়।

সকল মানসিক রোগের মতোই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এর কারণ এখনো জানা যায়নি। তবে জেনেটিক, বায়োলজিক্যাল এবং এনভাইরনমেন্টাল কিছু কিছু কারণেও এই রোগ হতে পারে বলে ধারণা করা হয়।

এ রোগের চিকিৎসা সাধারনত দুই ধরনের। যথা: ১.সাইকোলজিক্যাল ২.ফার্মাকোলজিক্যাল। দুইধরনের চিকিৎসা একসাথে প্রয়োগ করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।

সাইকোলজিক্যাল চিকিৎসার মধ্যে কগনিটিভ বিহেভিয়ার থেরাপি খুব উপকারী। এখানে রোগীর ভুল চিন্তাগুলোর উপর কাজ করা হয়। বিশেষ করে নেগেটিভ থট, কোর বিলিভ এগুলির পূনর্গঠন করার চেষ্টা করা হয়।

রেসপন্স প্রিভেনশন: এটির মাধ্যমে রোগী কীভাবে একই কাজ বার বার করা থেকে বিরত থাকবে এই টেকনিক প্রাকটিস করানো হয়।

থট স্টপিং: একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে নেতিবাচক চিন্তাকে সাময়িক বন্ধ করার চেষ্টা করা হয়। কোনো ব্যক্তিকে হাতে একটি রাবার ব্যান্ড বেঁধে রাখতে বলা হয়। যখন তার অমূলক চিন্তাগুলো আসবে তখন সে ব্যান্ডটি টান দিবে। একটু ব্যথা পেলে মনোযোগটা অন্য দিকে সরে যাবে।

থট চ্যালেঞ্জ: এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কল্পনায় নেতিবাচক চিন্তাগুলো আহ্বান করে চ্যালেঞ্জ করা হয়।

আরো একটি প্রয়োজনীয় পদ্ধতি হলো রিলাক্সেশন থেরাপি। খুব কম পরিশ্রমেই আমরা ব্রেদিং এক্সারসাইজ করি। যখনই সময় পাবেন, তখনই ১০ বার করে ধীরে ধীরে লম্বা শ্বাস নিন, একটু ধরে রাখুন এবং ধীরে ধীরে ছাড়ুন। আপনার দেহ- মনে প্রশান্তি আসবে। নেতিবাচক চিন্তাও দূর হবে। প্রতিদিন আধাঘন্টা জোরে হাঁটুন। অনেক রোগ প্রতিরোধ হবে।

এবার আসি, ফারমাকোথেরাপি বা মেডিসিন দিয়ে চিকিৎসা। প্রবাদ আছে, কথায় চিড়া ভিজে না। তাই রোগীরা কিছু মেডিসিন প্রত্যাশা করে। বাস্তবিক ভাবেই কিছু এন্টি ডিপ্রেসেন্ট শুচিবায়ুরোগীদের খুব কাজে আসে। ও সি ডি রোগীদের একই সাথে এংজাইটি ডিসঅর্ডার এবং ডিপ্রেসিভ ডিসঅর্ডার থাকতে পারে। বিশেষ করে ফ্লোক্সেটিন, সারট্রালিন, সিটালোপ্রাম, এস সিটালোপ্রাম, ফ্লোভোক্সেমিন অত্যন্ত কার্যকর ঔসধ। ক্লোমিপ্রামিন, ইমিপ্রামিন একসময় বেশ জনপ্রিয় ছিল।

রোগীদের একটি জিজ্ঞাসা, এই রোগ কি ভালো হয়? উত্তর হলো যদি কমপক্ষে ৬ মাস সঠিক নিয়মে চিকিৎসা করা যায়, তবে অনেকে একেবারেই ভালো হয়। কারো কারো বহুদিন পর রোগটি ফিরে আসতে পারে। কেউ কেউ বারবার আক্রান্ত হয় এবং তাদের চিকিৎসা নিয়েই স্বাভাবিক থাকতে হবে। এই রোগীদের কিছু আচরণ দেখে অনেকেই তাদের উন্মাদ ভাবে। এটি একটি বড় অন্যায় কাজ। তাই আসুন ওসিডি সম্পকে জানি এবং সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ করি।