মূল পাতা / ফিচার / মানসিক ব্যাধি কী?

মানসিক ব্যাধি কী?

প্রত্যেক মানুষেরই মন আছে। আমরা প্রচলিত ধারণা থেকে হৃদয় আর মনকে এক করে ফেলি। প্রকৃতপক্ষে মনের অবস্থান হলো মস্তিস্কে। আমাদের এই মস্তিস্ক, সূক্ষ্ম স্নায়ুকোষ দ্বারা গঠিত। এ স্নায়ুকোষগুলো একে অপরের সাথে সংযুক্ত। এই স্নায়ুতন্ত্র স্নায়ুরসের মাধ্যমে স্নায়বিক সংবাদ প্রবাহিত করে।

মানুষের চিন্তা, চেতনা, বুদ্ধিমত্তা, আবেগ, অনূভুতি, মনের ভাব প্রকাশ করার ক্ষমতা, অভিজ্ঞান দ্বারা পারিপার্শ্বিক পৃথিবীকে অনুধাবন করা, এ সবই মস্তিস্কের বিভিন্ন স্নায়ুকোষের সমন্বিত কাজের ফসল। কারো যখন চিন্তার পরিবর্তন, আবেগের পরিবর্তন, স্মৃতি বৈকল্য, প্রত্যক্ষন ও বিচার বিবেচনার পরিবর্তন ঘটে এবং তা তার কথাবার্তা, আচার আচরনে প্রকাশ পায়, তাকে তখন মানসিক ব্যাধিতে আক্রান্ত বলে মনে করা হয়। তবে কথা থাকে যে, যদি এই পরিবর্তনগুলো দ্বারা ঐ ব্যক্তি বা তার আশপাশের লোকজন উত্যক্ত হয় এবং কষ্ট ভোগ করে এবং তার আচরণের পরিবর্তনে তার দৈনন্দিন কাজকর্ম ক্ষতিগ্রস্ত হয়, কর্মক্ষেত্রে ব্যাঘাত ঘটে এবং রোগীর নিদ্রা, আহার, নিজের যত্নের অনিয়ম হয় এবং সমাজে এর প্রভাব পড়ে, তবেই তাকে মানসিক রোগে আক্রান্ত বলা যাবে।

মানসিক রোগ নিয়ে সারা দুনিয়া জুড়েই বিভিন্ন কুসংস্কার আর ভুল ধারণা রয়ছে। অনেকে মনে করেন, জ্বীন-পরীর আছর, যাদুটোনার প্রভাব, পাপের ফল, অনেকে আবার মনে করেন ইচ্ছাকৃত শয়তানি করছে। তাই মানসিক রোগের সঠিক চিকিৎসা নিতে অনেক দেরি হয়ে যায়। ততদিনে রোগের জটিলতা তৈরি হয়। সামাজিকভাবে মানসিক রোগীদের দূরে রাখার একটা প্রবনতা সব সময় দেখা যায়। তাই গোপনে পীর, ফকির, কবিরাজ, সাধু, জ্বীনের বাদশা নামধারী এক ধরনের টাউট লোকদের শরণাপন্ন হন। ততদিনে অনেক টাকা – পয়সা খরচ হয়ে গেছে। রোগীও ভয়ংকর হয়ে গেছে। আর লাজলজ্জা করে কী হবে, চলো ডাক্তারের কাছে যাই, এভাবেই মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে আসে। অনেক চতুর কবিরাজ আবার রোগীর অভিভাবকদের বলে, আমার যেটুকু চিকিৎসা সেটুকু শেষ, জ্বীনের আছর ছেড়ে গেছে, এবার মাথার একটু সমস্যা আছে তার জন্য মাথার ডাক্তারের কাছে যান। শেষ কথা হলো, জনসচেতনতা। মানসিক রোগের স্বীকৃতি দিতে হবে সামাজিকভাবে এবং রাষ্ট্রীয় ভাবে। তবেই আঁধার কেটে যাবে।