অজানা মনের সুখ দুঃখ

অজানা মনের সুখ দুঃখ

ভালো লাগা মন্দ লাগা নিয়েই আমাদের জীবন। কখনো ভালো তো কখনো খারাপ এভাবেই প্রকৃতি আমাদের অভ্যস্ত করে তোলে। এক টানা ভালো লাগলে আমাদের চিন্তা করতে হয় এটা আবার অসুখ নাতো! একটানা খারাপ লাগলে তো অসুখ বলতেই হয়। কিছু বিষয় বেশ ভালই ভাবায় আমাকে। হঠাৎ করে এই ভালো এই মন্দ কীভাবে সম্ভব, এত দ্রুত সময়ে ভালো লাগা আবার মন্দ লাগা। এই হাসি তো এই কান্না। জীবনের রসায়নে দেখানোর চেষ্টা করেছি ভালো লাগা আর মন্দ লাগার জন্য কোন রসায়ন দায়ী। সেটা এত দ্রুত সব অবস্থা মিলিয়ে কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায়।

একজন ধার্মিক নিয়মিত ধর্মকার্য করে আনন্দ পান, আবার একজন নাস্তিক এই কাজ গুলতেই অস্বস্থি অনুভব করেন, সেটা মুহূর্তের মধ্যেই এবং দুজনের সার্বিক পরিস্থিতি মিলিয়ে।

একজন পেশাগত চোর চুরি করে সফল মনে করেন আবার একজন নৈতিক মানুষ কোনো কারণে চুরি করলে সেটা নিয়ে দুঃখ পান। একজন বিষণ্ন মানুষ জীবনের স্বাভাবিক ভুলগুলোকে পাপ মনে করতে থাকেন আবার আর একজন দারোয়ান নিজেকে রাজার ছেলে বলে পরিচয় দিয়ে শান্তি পাচ্ছেন।

পরিচিত অনেকেই দেখেছি নিজের বিয়েতে বাবা মার পছন্দ নিয়ে বেশ বিরক্ত, আবার নিজের বাচ্চা হওয়ার পর তার বিয়ের পাত্রপাত্রী পারলে অর্ডার দিয়ে বানিয়ে নেন।  

অনেকেই বলে থাকেন আমি অনেক জনের সাথে সময় কাটাই কিন্তু কাওকে ভালো লাগে না, বা ভালোবাসি না। এর বিপরীতটাও দেখা যায় যে, একজন ভালবাসে ঠিকই কিন্তু অন্যজন সময় কাটায়। কেও অনেকের সঙ্গে মিশে নিজেকে সুখী ভাবেন আবার অনেকে এটাকে অন্যায় মনে করেন। কারো জন্য এটা সুখের, কারো জন্য এটা দুঃখের।

একটা সময় একজনকে খুব ভালো লাগতে দেখা গেছে, সময়ের পরিবর্তনে সেই লোকটি আবার জীবনের সবচেয়ে দুঃখের কারণ হতে পারে। মাঝখানে তাহলে কি শুধুই সময়? সম্পর্কের বিভিন্ন ধাপে বিভিন্ন রুপ দেখা যায়। অনেক সম্পর্ক সামাজিকতা দিয়ে শুরু হয় মাত্র কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে সেটা অনেক মধুর হয়ে যায়। অনেক সম্পর্ক ভালবাসা দিয়ে শুরু হয়, শেষ হয় খুব সাংঘাতিক ভাবে। অনেক সম্পর্ক দোটানার মধ্যে শুরু হয় হয়ত সারা জীবন দোটানার মধেই চলে যায়। অনেক সম্পর্ক কোনো কিছুই মানে না, মানানো যায় না। আমার দেখা এক পরিচিত দম্পতিকে দেখেছি যারা নিজেদের সম্পর্ক স্থায়ী করার জন্য সমাজকে চ্যালেঞ্জ করছেন এবং সফল হওয়ার জন্য যা যা করা দরকার করছেন ও সফল হয়েছেন। কিছুদিন পরে নিজেই যখন দেখেছি সেই দম্পতিই দুজনে আর দুটি ঘরের দুইজনকে নিয়ে ঘর বাধার চেষ্টা করেছেন এবং কয়েকটা পরিবার বিঘ্নিত হয়েছে ও সমাজ তাদের কড়া সমালোচনা করছে। কে সুখী কে দুখী বলা বড়ই ভার।

ছোট বেলায় ঈদের সালামী হিসাবে বাবার কাছ থেকে ৫ টাকা পেলেই নিজেকে অনেক সুখী মনে হত, আবার অনেককে দেখেছি ৫ টা পোশাক দেওয়ার কথা ছিল কিন্তু একটা হয়নি বলে ওই পরিবারের ঈদটাই মাটি হতো। দুই জন দুইজনের দিকে তাকালে, কারো ভালো লাগে কেওবা আবার বিরক্ত হন। কি জানি কি তার কারণ। ভালো লাগা মন্দ লাগা শুধুই কি আপেক্ষিক মাত্র? সঠিকভাবে কী কখনো মাপা যায়? মনে মনে ভাবি যা দেখা যায় তার সব টুকুই কি ঠিক না আবার যা ঠিক তা সবই কি দেখা সম্ভব না? আমি আরও দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি ও আশ্চর্য হই মন ও এর ভালো মন্দ বিধাতার এক অদ্ভুত সৃষ্টি।


প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। মনের খবরের সম্পাদকীয় নীতি বা মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই মনের খবরে প্রকাশিত কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না কর্তৃপক্ষ।

ডা. এস এম ইয়াসির আরাফাত

এমবিবিএস, এমবিএ, এমপিএইচ ও এম.ডি. ফেস-বি রেসিডেন্ট- সাইকিয়াট্রি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়। অতিরিক্ত ফ্যাকাল্টি, এমপিএইচ প্রোগ্রাম, আশা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ। গবেষক ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জার্নাল এর এডিটর। যোগাযোগঃ arafatdmc62@gmail.com