মূল পাতা / জীবনাচরণ / মনোরোগ বিশেষজ্ঞ মামুন হুসাইন-এর বাংলা একাডেমী পুরষ্কার প্রাপ্তি

মনোরোগ বিশেষজ্ঞ মামুন হুসাইন-এর বাংলা একাডেমী পুরষ্কার প্রাপ্তি

গত পহেলা ফেব্রুয়ারি অমর একুশে গ্রন্থমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি গ্রহণ করেছেন কথাসাহিত্যে বাংলা একাডেমি পুরস্কার-২০১৭।

মামুন হুসাইনের জন্ম ১৯৬২ সালে কুষ্টিয়া জেলা সদরে। বর্তমানে তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মনোরোগবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক। ২০০৪ সালে পেয়েছেন কাগজ সাহিত্য পুরস্কার। ‘নিক্রপলিস’ উপন্যাসের জন্য ২০১১ সালে পেয়েছেন ‘বাঙলার পাঠশালা- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস পুরস্কার’। তাঁর উল্লেখযোগ্য বইয়ের মধ্যে রয়েছে- ‘শান্ত সন্ত্রাসের চাঁদমারি’, ‘মানুষের মৃত্যু হলে’, ‘কয়েকজন সামান্য মানুষ’, ‘বালকবেলার কৌশল’, ‘নিরুদ্দেশ প্রকল্পের প্রতিভা’, ‘নিক্রপলিস’, ‘হাসপাতাল বঙ্গানুবাদ’ ইত্যাদি।

ফেব্রুয়ারির প্রথম সন্ধ্যায় বাংলা একাডেমি পুরস্কার গ্রহণের কিছুক্ষণ পরই তিনি মনের খবরের মুখোমুখি হলেন। ব্যস্ততার মাঝেও নিজের লেখালেখি নিয়ে একটুখানি আলাপ করলেন। সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন মামুন মিজানুর রহমান।

আমার কাছে সাহিত্য ছিল আশ্রয়ের মতো। অসম্মান, লজ্জা, ভয়, যাতনা, পিতার অকাল মৃত্যু, নিঃসঙ্গতাসহ যাবতীয় ট্রমা এড়ানোর একটি গ্রহণযোগ্য উপায় ছিল সাহিত্য তথা গ্রন্থপাঠ। শুধু সাহিত্য নয়, মানব সংক্রান্ত সকল ঘটনায়, সকল প্রপঞ্চে সাইকিয়াট্রির মৌল ভাবনা যুক্ত করা সম্ভব। আমাদের পুরাণ, চেতন-অবচেতনের ছায়া, আর্কিটাইপ, ট্রমা, আমাদের বন্ধুত্ব, আমাদের সম্পর্ক ইত্যাদি মিলিয়ে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ সাইকিয়াট্রির মণীষীগণ প্রকাশ করেছেন।

মনের খবর : কেমন আছেন? বাংলা একাডেমি পুরস্কার ২০১৭ অর্জন করায় মনের খবরের পক্ষ থেকে অভিনন্দন। আপনার প্রথম বই সম্পর্কে যদি বলতেন…।

মামুন হুসাইন : ধন্যবাদ। আমার প্রথম বই প্রকাশিত হয় গল্পকার হিসেবে প্রায় দশ বছর অতিক্রমের পর। বইটির নাম ‘শান্ত সন্ত্রাসের চাঁদমারি’।

মনের খবর :  চিকিৎসাশাস্ত্রে আপনি ডিগ্রি অর্জন করেছেন, সাইকিয়াট্রির ডাক্তার হিসেবে পসারও আছে। মনোরোগবিদ্যা আপনার গল্প লেখায় কী ধরনের প্রভাব ফেলেছে?

মামুন হুসাইন : চেখভ ছিলেন চিকিৎসক, তাঁর একটি বিখ্যাত উক্তি, ‘মেডিসিন হলো আইনগত স্ত্রী, আর সাহিত্য তার বান্ধবী।’ ‘চিকিৎসক এবং সাহিত্যচর্চা’ নিয়ে বিস্তর গল্পও রয়েছে। আমাদের কালে বেশ কজন খ্যাতিমান চিকিৎসক পুরস্কৃত লেখক। অগ্রজদের মধ্যে আহমদ রফিক, যিনি এখনো সক্রিয়। কিছুদিন আগে কবি ভ‚মেন্দ্র গুহ মৃত্যুবরণ করেছেন। অতীতকাল থেকে শুরু করে, হালের অলিভার স্যাকস, কিম্বা খালেদ হোসাইনি পর্যন্ত এই তালিকা দীর্ঘ করা যায়। কিছু চিকিৎসক চিরকালের লেখকও হয়ে গেছেন। যেমন- কীটস, আর্থার কোনান ডয়েল, চেখভ, মম, ল্যুসুন, ব্রেখ্ট, উইলিয়াম কার্লোস উইলিয়ামস, মিখাইল বুলগাকভ প্রমূখ।

আমার কাছে সাহিত্য ছিল আশ্রয়ের মতো। অসম্মান, লজ্জা, ভয়, যাতনা, পিতার অকাল মৃত্যু, নিঃসঙ্গতাসহ যাবতীয় ট্রমা এড়ানোর একটি গ্রহণযোগ্য উপায় ছিল সাহিত্য তথা গ্রন্থপাঠ। শুধু সাহিত্য নয়, মানব সংক্রান্ত সকল ঘটনায়, সকল প্রপঞ্চে সাইকিয়াট্রির মৌল ভাবনা যুক্ত করা সম্ভব। আমাদের পুরাণ, চেতন-অবচেতনের ছায়া, আর্কিটাইপ, ট্রমা, আমাদের বন্ধুত্ব, আমাদের সম্পর্ক ইত্যাদি মিলিয়ে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ সাইকিয়াট্রির মণীষীগণ প্রকাশ করেছেন।

মনের খবর : লেখক হিসেবে আপনি গল্পে সামাজিক-রাজনৈতিক দায় কিভাবে প্রকাশ করেন? 

মামুন হুসাইন : যে জনপদ আমার অন্নদাতা, আমি সেই ভূখণ্ডের সকল উত্তরাধিকার ও দানসামগ্রী কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করি। গল্প লিখে─ উপন্যাস লিখে, রাষ্টব্যবস্থা বদল করা যায়, এ রকম আকাশকুসুম চিন্তা আমি করি না।

মনের খবর : আপনার গল্পের ভেতরে ঢোকা সাধারণ পাঠকের পক্ষে প্রায়ই কষ্টসাধ্য। আপনি কি সচেতনভাবেই গল্প লেখার ক্ষেত্রে দুর্বোধ্যতার পথ বেছে নিয়েছেন?

মামুন হুসাইন : আমি কি এক্ষনি বাস্তুবিদ্যা, জ্যোতির্বিজ্ঞান, মহাকাশ-তত্ত¡, সমুদ্রবিদ্যা, জ্যামিতি, প্রত্নজগত, সঙ্গীত ইত্যাদির অভ্যন্তরে খুব অনায়াসে প্রবেশের যোগ্যতা রাখি? গল্প পাঠের জন্যও পাঠকের প্রস্তুতি প্রয়োজন। আমি সচেতনভাবেই গল্পে জটিলতা তৈরি করেছি, দুর্বোধ্যতার দুর্নাম রটনা আমার কাছে আশীর্বাদ হয়ে রইলো।

মনের খবর : এ বছর অমর একুশে গ্রন্থমেলায় আপনার নতুন কী কী বই প্রকাশিত হচ্ছে? 

মামুন হুসাইন : এবার প্রকাশিত হচ্ছে গল্পগ্রন্ধ ‘শব্দান্ধ আত্মার সাধন-বাসনা’। প্রকাশ করেছে রাঢ়বঙ্গ প্রকাশনী।