মূল পাতা / জীবনাচরণ / অসামাজিক আচরণগত সমস্যা
অসামাজিক আচরণগত সমস্যা

অসামাজিক আচরণগত সমস্যা

ধরা যাক, স্কুলের সবচেয়ে খারাপ ছেলেটি- অন্যদের জিনিস চুরি করে এবং মিথ্যা বলে, মারামারি করে এবং পরীক্ষায় খারাপ ফল করে। তবে এসব নিয়ে সে খুব একটা মাথা ঘামায় না এবং প্রাপ্তবয়স্ক হবার পরেও তার আচরণে বিশেষ পরিবর্তন দেখা গেলো না।

অসামাজিক আচরণগত সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তির অন্যের অধিকারের প্রতি এক বেপরোয়া উপেক্ষা কাজ করে(বেশীরভাগ ক্ষেত্রে পুরুষদের মধ্যে এটা দেখা যায়)। এরূপ ব্যক্তি সামাজিক আদর্শকে অমান্য করে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে অন্যের সম্পদ ধ্বংস করে, চুরি করে এবং নিজের সন্তুষ্টির জন্য যা খুশি তাই করে থাকে।

অসামাজিক আচরণগত সমস্যায় আক্রান্ত একজন ব্যক্তি চাকুরী বা কাজের জায়গায় নিজের অবস্থান ধরে রাখতে পারে না উপরন্তু যেকোনো সম্পর্ক রক্ষার ক্ষেত্রেও তাদের অনীহা দেখা যায়। এধরণের ব্যক্তিরা নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য অন্যকে নিপুণভাবে ব্যবহার করতে সিদ্ধহস্ত। এরা নিজেদের বর্তমান সমস্যা নিয়ে কিছুটা উদ্বিগ্ন হলেও তাদের ভবিষ্যত নিয়ে তারা বিচলিত নয়। যদি তাদেরকে কোনোভাবে ফিরানো না যায়, তাদের ঋণের সাগরে ডুবে যাওয়ার এবং মাথার উপর থেকে ছাদ সরে যাবার চরম ঝুঁকি রয়েছে । শেষপর্যন্ত অন্যান্যদের মত সেও আত্মহত্যা অথবা কোনো দুর্ঘটনায় মৃত্যুর পথে ধাবিত হতে পারে।

অসামাজিক আচরণগত সমস্যা সাধারণত শৈশবের শুরু থেকে কৈশোরকালের মাঝে শুরু হয়ে থাকে। ছোট ছোট কিছু কাজ যেমন মিথ্যা বলা, চুরি করা, প্রতারণা করা, অত্যাচার, ধর্ষণ কিংবা খুন করার মাধ্যমে ব্যক্তিত্বের আচরণগত সমস্যা চোখে পড়ে।

মনোচিকিৎসকের মতে, অসামাজিক আচরণগত সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিকে মনোচিকিৎসায় খুব একটা গুরুত্ব না দেওয়া হলেও সে হয়তো অন্য কোনো মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তির চেয়ে আরো বেশি জটিলতার সৃষ্টি করতে পারে। এমন ব্যক্তিদের অন্যের জন্য ভালো কিছু করার আগ্রহ থাকে না বললেই চলে এবং অন্যান্য সাধারণ মানুষের চেয়ে বিবেকবোধ কম থাকে।

এই গুরুতর ব্যক্তিত্বের অসামাজিক সমস্যার চিকিৎসা বেশ কষ্টসাধ্য এবং কেবলমাত্র অর্ধেক ব্যক্তি কিছুমাত্রায় ব্যক্তিত্বের অসামাজিক আচরণ নিয়ন্ত্রণে আনতে পারে। এরূপ অধিকাংশ ব্যক্তি নিজেদের অবস্থান জানাতে অস্বীকৃতি জানান। এক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো শিশুদের ছোটবেলা থেকেই যেকোনো ধ্বংসাত্মক আচরণ থেকে দূরে সরিয়ে রাখা। চিকিৎসা তখনই ফলপ্রসূ হবে, যখন ব্যক্তি নিজে থেকে নিজের মধ্যে শুভ পরিবর্তন চাইবে।

তথ্যসূত্র: সাইকসেন্ট্রালে প্রকাশিত ডোনাল্ড ব্ল্যাকের লেখা অবলম্বনে লিখেছেন সুপ্তি হাওলাদার
লিংক: https://psychcentral.com/disorders/antisocial-personality-disorder/