মূল পাতা / জীবনাচরণ / অতীতের সাথে বর্তমানের তুলনা করা বিপদজনক

অতীতের সাথে বর্তমানের তুলনা করা বিপদজনক

ফেসবুক আমাদের সামাজিক যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম। মাঝে মাঝে আমরা এখানে আমাদের অতীত স্মৃতি যা আগে শেয়ার করেছিলাম, তা দেখতে পাই। এটা মানুষের বয়স অনুযায়ী ভিন্ন হয়ে থাকে। যেমন- কেউ তার ৫ বছর আগের স্মৃতি দেখে, কেউবা ২০ বছর আগের। এগুলো দেখার সাথে সাথে আমাদের অনেক কিছু মনে পরে যায়। যেমন- আমরা ঐ সময়টাতে কথায় ছিলাম, কার সাথে ছিলাম, কিভাবে ছিলাম, কতোটা ভালো ছিলাম ইত্যাদি। আবার আমাদের এটাও মনে করিয়ে দেয়, আমরা ঐ সময়ে দেখতে কেমন ছিলাম, কতোটা সুন্দরী ছিলাম বা শুকনা ছিলাম এরকম কিছু। এক্ষেত্রে আমরা মুহুর্তেই নিজেদের বর্তমান সময়টাকে অতীত দিয়ে মূল্যায়ন করে ফেলি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আমাদেরকে অন্যের সাথে তুলনা করার অনেক সুযোগ করে দিয়েছে। একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় টিভি, ম্যাগাজিন, মুভি, বিজ্ঞাপন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রভাব দেখা হয় বিভিন্ন বয়সের মানুষের আত্ম-মূল্যবোধের ওপর। ফলাফলে দেখা যায়, কিশোরী মেয়ে এবং যুবতী নারীদের হতাশা এবং দুশ্চিন্তা বেশি, যারা অধিক সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যয় করে। প্রতিনিয়ত অন্যের সাথে নিজেকে তুলনা করা আপনাকে মনে করিয়ে দেয় যে, অন্যদের চেয়ে আপনি কম সুন্দরী বা কম যোগ্য।

যখন একজন বৃদ্ধা তার যুবতী বয়সের সাথে বর্তমানের তুলনা করতে থাকে, তখন সে অনেক নেতিবাচকভাবেই ভাবতে থাকে। আর একটি জিনিস যা আমাদের মধ্যে বদ্ধমুল, তা হলো, আমরা খুব নেতিবাচকভাবে আত্মমুল্যায়ন করি।

সময়ের সাথে সাথে আমাদের বয়স বাড়বে এটাই স্বাভাবিক, আমরা বয়সের সাথে যুদ্ধ করতে পারি না। বয়স বাড়ার সাথে সাথে আমাদের চেহারায় বয়সের একটা ছাপও পরে। এটা মেনে নেওয়াই ভালো। আর কারো চেহারা দিয়ে তাকে বিচার করা উচিত নয়; সে সুন্দরী না-ও হতে পারে কিন্তু ভাল গুণের অধিকারী হতে পারে।

যখন আমরা পুরাতন ছবি দেখি, নিজেরা অনেক আত্মগ্লানি অনুভব করতে পারি। অনেক সময় ধরে কোনো ছবি দেখলে আমরা আমাদের চেহারায় কি হারিয়েছি, কি আমাদের ছিল, এখন কি নেই, সেসব বুঝতে পারি। মাঝে মাঝে আমাদের ছবি দেখে আমাদের নিজেদেরই অদ্ভুত লাগে।
আমরা কোনো সময়ের ছবি দেখে ভাবতে পারি তখন আমরা কত সুখি ছিলাম কিন্তু এখন নেই বা তখনও সুখি ছিলাম এবং এখনও আছি কিন্তু দুই সময়ের ভালো থাকার কারণটা আলাদা।

প্রতিনিয়ত আমাদের বর্তমানের সাথে অতীতের তুলনা করাটা একটা অভ্যাসে পরিণত হয়ে যায় এবং আমরা এই বদ অভ্যাস থেকে বের হতে পারি না। অনেক সময় আমরা নিজেরাই ভাবি, আর এমন করে ভাববো না, নিজেকে নিয়ে তুলনা করব না। কিতু এটা খুব একটা ভালো সমাধান নয়।
আমাদের প্রত্যেক প্রজন্মের মানুষের জন্য নতুন নতুন কাজ করার সুযোগ তৈরি করতে হবে। বয়স্ক মানুষ অবশ্যই অনেক বেশি জানে কম বয়সীর চেয়ে, সুতরাং আমাদের অতীত সত্ত্বাকে ক্ষমা করে দেওয়া উচিত যদি আমরা কোনো ভুল করে থাকি।

তথ্যসূত্র: সাইকোলজি টুডে ডটকমে Peg O’Connor এর রচনা অবলম্বনে লিখেছেন সুস্মিতা বিশ্বাস।
লিংক: https://www.psychologytoday.com/us/blog/philosophy-stirred-not-shaken/201804/comparing-your-present-self-your-past-self?utm_source=FacebookPost&utm_medium=FBPost&utm_campaign=FBPost