মূল পাতা / জীবনাচরণ / বিশ্বকাপ দেখার মনো-সামাজিক কারণ

বিশ্বকাপ দেখার মনো-সামাজিক কারণ

ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপকে বলা হয় “দ্যা গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ”। প্রতি চার বছর পর পর অনুষ্ঠিত হওয়া এই ফুটবল বিশ্বকাপের আসর এবার বসেছে রাশিয়ায়। পৃথিবী জুড়ে প্রায় বিলিয়ন সংখ্যক দর্শক এই ফুটবল বিশ্বকাপ দেখে থাকে।

পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে দেখা গেছে, ২০১৪’র ফুটবল বিশ্বকাপ দেখেছে প্রায় ৩ বিলিয়ন দর্শক। এবং ফাইনাল গেমটি দেখেছিল প্রায় ১ বিলিয়ন মানুষ! স্বাভাবিকভাবেই সংখ্যাটা অনেক।

বলা হয়, ফুটবল সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা। দক্ষিণ আমেরিকা, আফ্রিকা, ইউরোপ এবং এশিয়ার বিভিন্ন দেশের মানুষের সর্বাধিক প্রিয় খেলা এই ফুটবল। ফুটবল খেলাটা কম সময়ে এবং অনেকে মিলে খেলা যায় বলে অনেকেই একে পছন্দের তালিকায় রেখে থাকেন। কিন্তু নিজে কোনো একটা খেলায় অংশ নেয়া আর তা দেখে উপভোগ করা দুটোর মধ্যে বেশ পার্থক্য বিদ্যমান। কেনই বা ঘন্টার পর ঘন্টা টেলিভিশনের সামনে আঠার মধ্যে বসে থেকে কে স্কোর করলো, কে জিতলো, কয় গোল হলো তার খবর রাখা হয়? কেন খেলা দেখা আমাদের কাছে এত উপভোগ্য?
আজকের আর্টিকেলে কেন মানুষ টেলিভিশনে খেলা দেখা উপভোগ করে তার ৬টা কারণ বর্ণনা করবো।

১। গুড স্ট্রেসঃ
আমরা প্রায় সবাই স্ট্রেস বা চাপের সাথে এঙ্কজাইটি বা উদ্বেগের এক ধরনের সম্পর্ক খুজি। এটাও সত্য যে, অতিরিক্ত স্ট্রেস কখনোই ভালো নয়। কিন্তু একটা নির্দিষ্ট পরিমাণের স্ট্রেস উপভোগ্য। এই স্ট্রেসকে মাঝেমধ্যে উত্তেজনাও বলা হয়ে থাকে। এই স্ট্রেস আবার খেলা উপভোগভিত্তিক স্ট্রেসও হতে পারে।

সংক্ষেপে বলা যায়, যখন আমরা আমাদের প্রিয় দলকে দেখি বিপক্ষ দলের সাথে লড়াই করছে মাঠে, তখন আমরা একইসাথে অনুপ্রাণিত এবং উত্তেজিত বোধ করি, যা আমাদের একধরনের আনন্দদায়ক অনুভূতি দেয়।

২। আত্মমর্যাদাবোধঃ
কোনো একটা দলের অন্তর্ভুক্ত হয়ে সেই দলের সমর্থন দেয়া আমাদের এক ধরনের ভালো অনুভূতি দেয়। প্রতিটি দলের সমর্থকরা নিজেদের সেই দলের একটা অংশ হিসেবে নিজেদের মনে করে। যখন কোনো একটা দল জিতে যায়, তখন অনেকক্ষেত্রেই সেই দলের সমর্থকদের বলতে শোনা যায়,”আমরা জিতে গেছি!” এটা যেন তাদের নিজেদেরই একটা প্রাপ্তি।

একইভাবে ব্যাক্তির আত্মসম্মানের একটা চড়াই উৎরাই হয় তার দলের জয় বা হারের মাধ্যমে। পছন্দের দল জিতে গেলে এক ধরনের তৃপ্তি কাজ করে, নিজেদের কাছে তা একধরনের গর্বের বিষয়ে পরিণত হয়, যা কি-না সেই ব্যক্তির আত্মসম্মান এবং আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।

৩। সৌন্দর্যঃ
খেলার সৌন্দর্য আমাদের মুগ্ধ করে। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর একটা অসাধারণ কিক, ম্যানুয়েল নয়্যারের একটা অসাধারণ গোল সেইভ কিংবা মেসির একটা মনোমুগ্ধকর এসিস্ট- এই সবকিছুই আমাদের চোখের আরাম দেয়। আমরা মুগ্ধ হই এই খেলা দেখে।

৪। পরিবার এবং বন্ধুদের সাথে সময় কাটানোঃ
হয়তো আপনি কোনো নির্দিষ্ট দল সমর্থন করেন না, খেলার সৌন্দর্যও আপনাকে মুগ্ধ করে না,খেলা দেখেও সেরকম উত্তেজনা অনুভব করেন না, তবু কী কারণে আপনি খেলা দেখতে আগ্রহী হোন? এর একটি কারণ হতে পারে পরিবার আর বন্ধুদের সাথে সময় কাটানো। টিভির সামনে একত্রে বসে একটি ভালো সময় কাটানো। এই খেলাটি হয়তো পরিবার এবং বন্ধুদের সাথে সময় কাটানোর জন্য একটি অজুহাত হিসেবে দাঁড়ায়।

৫। অব্যাহতিঃ
ঠিক খেলাধুলা ভক্ত নয়, এমন মানুষদেরও খেলা দেখতে বসে যাওয়ার পেছনে আরেকটি কারণ থাকতে পারে, বাস্তবতা থেকে কিছুক্ষণের জন্য অব্যাহতি পাওয়া। খেলা প্রচণ্ড রকমের চিত্তাকর্ষক হতে পারে, যা কি-না একজনের মনোযোগের সবটুকু নিয়ে নেয়। তার উপর প্রতিটা ম্যাচের ফলাফল অনিশ্চিত থাকার কারণে উত্তেজনা থাকে টান টান। যার কারণে খেলা দেখতে বসলে একজন মানুষ কিছুক্ষণের জন্য হলেও বাস্তব জীবনের সকল উদ্বেগ, ঝামেলা থেকে মুক্তি পায়।

৬। বিনোদনঃ
সর্বশেষ কথা হলো, খেলা, বিশেষ করে বিশ্বকাপ বা অলিম্পিকের মতো প্রধান প্রধান টুর্নামেন্ট একটি ভালো মুভি, কনসার্ট বা বইয়ের মতো বিনোদন দিতে পারে। এই টুর্নামেন্টগুলো অসাধারণ ক্যামেরা ওয়ার্ক দেখায়, সুন্দর ওপেনিং বা ক্লোজিং সিরিমনি থাকে আর সাথে থাকে খেলা দেখার উত্তেজনা। তাই সমর্থকরা খুব সহজেই এদিকে ধাবিত হয়।

সংক্ষেপে বলা যায়, একজনে খেলার প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করার বিভিন্ন ধরণের কারণ থাকতে পারে । এই তালিকাটাই তার সবটুকু নয়, বরং এই কারণগুলো মানুষ ভেদে ভিন্ন হয়।

তথ্যসূত্র: সাইকসেন্ট্রাল ডটকমে প্রকাশিত Arash Emamzadeh  এর রচনা অবলম্বনে লিখেছেন মাইশা তাহসিন অর্থি।
লিংক: https://blogs.psychcentral.com/fearless/2018/06/six-psychological-reasons-why-you-might-enjoy-watching-the-world-cup/