ফুটবল প্রকল্প মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা প্রতিকারে সাহায্য করছে

ফুটবল প্রকল্প মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা প্রতিকারে সাহায্য করছে

অ্যাবার্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণাতে দেখা গেছে যে খেলাধুলা ভয়ানক মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার প্রতিকারে এক গুরত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। গবেষকরা ফুটবল খেলা নিয়ে গবেষণা করছেন যা ইতিমধ্যে শহরের মানুষের উপর প্রয়োগ করা হচ্ছে। এবং এটি একটি সফল গবেষণা ফুটবলের পাশাপাশি নেটবল এবং ভলিবল ও মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার প্রতিকারে গুরত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে।

দ্যা টেলে আর্ডলেয়ার কমপ্লেক্সে এসেছেন কিছু মানুষের সাথে দেখা করতে যাদের মানসিক সমস্যা রয়েছে। তাদের সাথে দেখা করে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা সম্পর্কে আরো গুরত্বপূর্ণ তথ্য যদি পাওয়া যায় এই আশায় আসা।

বিরখিল এর একজন সমাজসেবক মার্ক হোম যার বয়স ৬৬ বছর। তিনি এক সমস্য মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা নিয়ে কাজ করতেন। ২০০০ সালে পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে জানা গেল যে উনার ‘বাইপোলার ডিজিস’ নামে এক ধরনের মানসিক সমস্যা রয়েছে। সমস্যাটি ধরা পড়ার পর থেকে তিনি আর মানসিক সমস্যা নিয়ে কাজ করতে পারেননি। উনি বলেছেন যে যদি আর্ডলেয়ার এর ফুটবল গ্রুপটি না থাকত তাহলে হয়ত তিনি তার জীবনের বেশিরভাগ দিন ঘরের দেয়ারের দিকে তাকিয়ে কাটিয়ে দিতেন।

তিনি বলেন, “এখানে আসা আমার জন্য এক অভূতপুর্ব অভিজ্ঞতা এছাড়া এখানে আসার পর থেকে আমার সুস্থ হওয়ার যাত্রা শুরু হয়েছে। এখানে আপনি আপনার নিজের মত মানুষের সাথে মিশতে পারবেন যাদের জন্য মানসিক সমস্যা একটি ভাবার বিষয়, যারা বুঝতে পারে আপনি কী পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন। কেননা তারাও একই পরিস্থিতির ভেতর দিয়ে গিয়েছে অথবা যাচ্ছে। আপনি শুধু শারীরিক অনুশীলন পাবেন না আপনার মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য যা ভাল আপনি তাও পাচ্ছেন। শুধু তাই নয় সামাজিক সমর্থনও এখানে দেখার মত। এখানে আসার আগে ঘরের চার দেয়াল দেখা ছাড়া আমার কিছু করার ছিল না। এখানে আসার পর আমি বুঝলাম চার দেয়ালের বাহিরেও দেখার মত অনেক কিছু রয়েছে”।

এলস্পেথ ওয়াকার এই গ্রুপটির একজন সেচ্ছাসেবক যার বয়স ৫৬ বছর। তিনিও অনেক বছর মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগেছেন। তারপর তিনি এখানে ফুটবল সেশনে যোগদান করেন।

এলস্পেথ বলেন, “আপনি যখন এখানে আসবেন তখন আপনি যেমন আপনাকে সেভাবেই এখানে গ্রহণ করে নেবে। যখন আপনি কোনো কিছুর সাথে যুদ্ধ করছেন তখন আপনাকে শারীরিক এবং মানসিক উভয়ভাবেই সাহায্য করবে। তিনি আরো বলেন, “এখানে যারা আসে তারা নানা ধরনের মানসিক সমস্যায় ভুগে থাকেন এর মধ্যে রয়েছে স্কিজোফ্রেনিয়া, বাইপোলার ডিজঅর্ডার, পার্সোনালিটি ডিজঅর্ডার, পোস্ট ট্রমাটিক ডিজঅর্ডার”।

ডান্ডি হেলথ এন্ড সোশ্যাল কেয়ার পার্টনারশিপ এর একজন বিশেষজ্ঞ এবং ফিজিওথেরাপিস্ট গিল ম্যাকডোনাল্ড বলেন এই সেশনগুলোকে আর্থিক সহযোগিতা দিচ্ছে এনএইচএস (ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস, ইউকে)। তাদেরকেই এখানে পাঠানো হয় যাদের মানসিক অবস্থা ভাল রকমের অবনতির দিকে যাচ্ছে। তিনি বলেন, “ডান্ডি এই ফুটবল থেরাপি ২০১১ সাল থেকে প্রদান করে যাচ্ছে। আমরা ধীরে ধীরে বিস্তার লাভ করছি, আমাদের প্রতিষ্ঠানের শাখা বাড়ছে, বাড়ছে আমাদের শক্তি ও আত্নবিশ্বাস। আর এসব সম্ভব হচ্ছে আমাদের সম্প্রদায়ের সমর্থন এবং এনএইচএস এর আর্থিক সহায়তার কারণে”।

তিনি আরো বলেন, “অ্যাবার্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে যে গবেষণা করা হয়েছে তা আসলেই ভাল ফলাফল এনেছে তবে এখানে আরো অনেক গবেষণার সুযোগ রয়েছে। আরো গবেষণা করা যায় এই বিষয়টি নিয়ে যে শারীরিক কার্যকলাপ কিভাবে এবং কতটুকু প্রভাব ফেলে মানসিক স্বাস্থ্যে। ফুটবল থেরাপির মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি খেলাধুলা মানসিক স্বাস্থ্যে কতটা প্রভাব ফেলে। এই জানা এবং দক্ষতা আমরা নতুন থেরাপি ওয়াকিং ফুটবলে ব্যবহার করেছি যা বর্তমানে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা মোকাবিলায় ব্যবহার করা হচ্ছে”।

গিল বলেন ফিজিওথেরাপি দলটি বর্তমানে ‘ইউনাইটেড ফর অল’ নামে একটি খেলাধুলা বিষয়ক দাতব্য সংস্থার সাথে কাজ করছে। এই দাতব্য সংস্থাটি ডান্ডি ইউনাইটেড ফুটবল ক্লাবের সাথে যুক্ত।

তিনি বলেন, “তাদের যেকোন ধরনের সমর্থন মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছে এমন রোগীদের প্রধান প্রধান কার্যক্রমে যোগদান করতে সাহায্য করবে। ভবিষ্যতে নেটবল আর ভলিবল থেরাপির সাথে মনে হচ্ছে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার প্রতিকারে একটি ভাল ফলাফল পাওয়া যাবে গবেষণায় এমন কিছু দেখা গিয়েছে”।

এপ্রিল মাসে ২৫ তারিখ ওয়াকিং ফুটবলের একটি টূর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে। আর এটি আয়োজনের কারণ মেন্টাল হেলথ অ্যাওয়ারনেস উইককে সমর্থন করা।

তথ্যসূত্র-
(https://www.eveningtelegraph.co.uk/fp/dundee-football-project-helps-mental-health-recovery/)

রুবাইয়াত মুরসালিন, আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মনেরখবর.কম