স্কুলই হওয়া উচিৎ মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক চর্চা শুরুর স্থান

স্কুলই হওয়া উচিৎ মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক চর্চা শুরুর স্থান

প্রত্যেক ৫ জন শিশুর মধ্যে ১ জন পরীক্ষা নিরীক্ষা করার মত মানসিক সমস্য্যায় ভুগে। যেমন আবেগজনিত মানসিক সমস্যা, আচরণগত সমস্যা, আরো বিভিন্ন মানসিক সমস্যার প্রাথমিক পর্যায়ের শুরু। তার মানে ২০ জন ছাত্র ছাত্রীর একটি ক্লাসে কমপক্ষে ৪ জন বিষণ্নতা, উদ্বিগ্নতা অথবা নানা ধরনের মানসিক সমস্যায় ভুগে। বেশিরভাগই সেই সাহায্য পায় না যা তাদের দরকার। কিছু কিছু স্কুলে সাহায্য করার মত মানুষ অথবা উপাদান থাকে না আবার কিছু কিছু স্কুলে তাদের ধারণ ক্ষমতার চেয়ে বেশি সমস্যা থাকে।

এসব ছাত্র ছাত্রীর অভিভাবকগণ মনে করেন এটি তেমন কিছু না ঠিক হয়ে যাবে, শিক্ষক শিক্ষিকাদের কাছেও গুরত্বপূর্ণ কিছু না। আর যে ছাত্র ছাত্রীগুলো সমস্যায় ভুগে তারা মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সামাজিক ভ্রান্তি অথবা ভুল ধারণা এবং মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার যে প্রতিবন্ধকতা এসবের জন্য সাহায্য চায় না। কিছু কিছু বাবা মা বলেছেন এই মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা ধীরে ধীরে তাদের সন্তানদের শিখার ক্ষমতা নষ্ট করে দিচ্ছে। এখন মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা এবং এ বিষয়ক পড়াশুনা নিয়ে পদক্ষেপ নিচ্ছেন।

একজন স্টেট প্রতিনিধি আর আমারিল্লো ফোর প্রাইস মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা নিয়ে তার প্রচার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। হাউস বিল ১১ তে বলা আছে পাবলিক স্কুল গুলোতে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা বিষয়ক পড়াশুনা করাতে হবে, ছাত্র ছাত্রীদের জন্য আরো আবেগপ্রবণ পরিবেশ তৈরি করতে হবে যেন তারা তাদের সমস্যার কথা জানাতে পারে, মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা সম্পর্কে প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য আরো ভাল ভাল সরঞ্জাম থাকতে হবে, ইতিবাচক আচরণের শিক্ষা দিতে হবে। এটি স্কুলগুলোর মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় অনেক বড় পদক্ষেপ। আশা করা হচ্ছে এগুলো চলমান থাকবে হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাবে না।

প্রতিনিধি ইনা মিঞ্জারেস এবং সেন জোয মেনেনডেয হাউস বিল ৩০৫ এবং সিনেট বিল ১৮০ তে ইন্টারনেটে নিপীড়ন এবং বাস্তবে হয়রানী করার বিরুদ্ধে কঠিন আইন তৈরি করেছেন। সাইবারবুলিং সেন্টার এর তথ্য অনুসারে সেসব শিশুরাই অন্যদের হয়রানী করে যারা কোনো না কোনো সময় কারো না কারো মাধ্যমে হয়রানির শিকার হয়েছে, এবং তারা বিষণ্নতায় ভুগে, মনে মনে আত্নহত্যার পরিকল্পনা করে, তাদের ভেতর নিজেদের ক্ষতি করার একটি প্রবণতা থাকে।

মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা মাঝে মাঝে অনেক তাড়াতাড়ি ধরা পড়ে যায়। তখন অবহেলা করা উচিৎ নয় যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেয়া উচিৎ। কেননা যত তাড়াতাড়ি চিকিৎসা করা হবে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা তত বাড়বে।

স্কুলগুলোতে এমন সরঞ্জামের ব্যবস্থা করতে হবে যেন একদম প্রাথমিক পর্যায়ে শিশুদের মানসিক সমস্যা ধরা পড়ে যায়। এবং পেশাদারী বিশেষজ্ঞদের ব্যবস্থা থাকতে হবে যেন সবসময় শিশুরা মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কিত পরীক্ষা নিরীক্ষার মধ্যে থাকে এবং তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সবধরনের সমর্থনের ব্যবস্থা রাখতে হবে। শুধু স্কুল নয় সব সম্প্রদায়ে এধরনের ব্যবস্থা থাকতে হবে।

দায়িত্ব শুধু স্কুল কর্তৃপক্ষের নয় বাবা মায়েরও দায়িত্ব রয়েছে। বাবা মা তাদের সন্তানদের সবচাইতে ভালভাবে চিনে। সন্তানের ব্যবহার, আচার আচরণে যে কোনো ধরনের পরিবর্তন তাদের খেয়াল করতে হবে, পড়াশুনায় মনযোগ দিতে সমস্যা হচ্ছে কি না, খাওয়া দাওয়ায় অরুচি হচ্ছে কি না, ওজন কমে যাচ্ছে কি না, স্কুলে পরীক্ষায় খারাপ করছে কি না, নিজের কোনো ক্ষতি করার চেষ্টা করছে কি না এসব খুব ভালভাবে খেয়াল রাখতে হবে।

যে কোনো মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার চিকিৎসা রয়েছে, আর সমস্যা হলে মানুষ সাহায্য চাইবে এটাই স্বাভাবিক এতে লজ্জার কিছু নেই। গত অর্ধ শতকে আমরা মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা নিয়ে বেশ এগিয়ে এসেছি তবে এই পথ অনেক লম্বা আমাদের আরো এগিয়ে যেতে হবে। বিধানকর্তা এবং পেশাদারী মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের আলাপ আলোচনার মাধ্যমে বুঝা যায় আমাদের শিশুদের জন্য উজ্জ্বল ভবিষ্যত অপেক্ষা করছে।

তথ্যসূত্র-
(http://www.star-telegram.com/opinion/opn-columns-blogs/other-voices/article144740664.html)

রুবাইয়াত মুরসালিন, আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মনেরখবর.কম