জীবনকে শূন্য আর খাপছাড়া মনে হচ্ছে?

জীবনকে শূন্য আর খাপছাড়া মনে হচ্ছে?

আপনার জীবনে হয়ত হঠাৎ করেই এমন সময় চলে আসতে পারে যখন মনে হবে আপনার সব ধরনের আবেগ নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে। জীবনটাকে শূন্য আর খাপছাড়া মনে হচ্ছে। হতাশা যেন চারপাশ থেকে আপনাকে চেপে ধরছেকোনো কাজেই মন বসাতে পারছেন না। আপনি হাসফাস করছেন এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে। জীবনকে নতুনভাবে সাজাতেআপনার আবেগের দিকগুলোকে নতুন করে শক্তিশালী করতে চাইলে-

আপনি কোথায় আছেন বোঝার চেষ্টা করুন: যে কারোর জীবনে কঠিন সময় আসতে পারে। তখন আপনাকে নিজের অবস্থান বুঝতে হবে। আপনি হয়ত কোনো কাজে মন বসাতে পারছেন না অথবা আপনি মানসিক ভাবে ক্লান্ত হয়ে পরেছেন। এটি একটি অস্বস্তিকর মানসিক অভিজ্ঞতা।

একটু বিরতি নিন: কাজ করতে করতে আপনি হয়ত কান্ত হয়ে পরেছেন অথবা কোনো ঝামেলা আপনাকে গ্রাস করছেকোনো প্রশ্নের উত্তর বা সমাধান খুঁজে পাচ্ছেন নাতবে একটু বিরতি নিন। কোথাও থেকে ঘুরে আসুন। ফিরে এসে দেখবেন আপনার অনেক ঝামেলা এবং সমস্যারই হয়ত সমাধান আপনি খুঁজে পেয়েছেন।

নিজেকে শান্ত করুন: নিজেকে শান্ত করার যত প্রক্রিয়া আপনি অতীতে শিখেছেন তা প্রয়োগ করার সময় এসেছে। নিজেকে উজ্জীবিত করতে আপনাকে আবার সেই সব প্রক্রিয়া ব্যবহার করতে হবে। শারীরিক শক্তি বাড়াতে যেমন অনুশীলনের প্রয়োজন তেমনি মানসিক শক্তি বাড়াতেও অনুশীলনের প্রয়োজন। আবেগকে শক্তিশালী করে তুলতেও অনুশীলনের প্রয়োজন।

প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটান: আপনি যদি মানসিক ভাবে ক্লান্ত কিংবা অবসন্ন হয়ে থাকেনতবে প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটান। কেননা যিনি আপনাকে পছন্দ করেন নাতার সাথে সময় কাটানো কঠিন হতে পারে। কিন্তু যারা আপনাকে ভালোবাসে তাদের সাথে সময় কাটালে এটি আপনার জন্য উপসম হিসেবে কাজ করবে। আপনি সহজেই তাদের কাছে আপনার মনের অবস্থা জানাতে পারবেন এবং তারা বুঝতে পারবে। আপনি তাদের সাথে আরামদায়ক সময় কাটাতে পারেন।

শারীরিক সুস্থতার দিকে নজর দিন: এই যে আপনি মানসিক ভাবে ক্লান্ত, অবসন্ন; এর কারণ হতে পারে আপনার কোনো শারীরিক সমস্যা। তাই দেরি না করে আজই কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

রোমাঞ্চকর কাজ করুন: একঘেয়ে জীবনে আপনি যখন ক্লান্ত, তখন নতুন কিছু করার চেষ্টা করুন। রোমাঞ্চকর কোনো কাজ করুন। এটি আপনার জীবনের হারানো গতি ফিরিয়ে আনতে কাজ করবে। পাহাড় বা জঙ্গলের খোঁজে বেরিয়ে পরুন। রাত কাটান। কিংবা উত্তাল সমুদ্রে সার্ফিং করুন। দেখবেন জীবন কত সুন্দর আর অর্থবহ মনে হচ্ছে। দেরি না করে আজই  বন্ধু বা চেনা মহলে যোগাযোগ করুন। কাউকে না পেলে নিজেই বেরিয়ে পরুন, একা।

উদ্বেগের কারণ লিখে রাখুন: আপনার সব ধরনের ঝামেলার বিষয়ে খাতায় লিখে ফেলুন। এটি আপনাকে একটি ধারণা দিতে পারে যে আপনার জীবনে কি চলছে। এ নিয়ে তাড়াহুড়া করার কিছু নেই। নিজেকে কিছুদিন সময় দিনযেন আপনি ধীরে সুস্থে আপনার সব সমস্যার কথা লিখে ফেলতে পারেন। এরপর আস্তে আস্তে একটি একটি করে সমস্যার সমাধান করুন এবং তা তালিকা থেকে বাদ দিয়ে দিন।

ভালো লাগা মন্দ লাগার তালিকা করুন: আপনি কোন কাজটি ভালো পারেনকোন কাজটি করতে আপনার ভালো লাগে এই ধরনের একটি তালিকা করুন। এই তালিকাটি আপনার সমস্যার তালিকার সাথে মেলান। আশা করছি এতেই আপনি  আপনার মানসিক অবস্থার অবনতির কারণ পেয়ে যাবেন।

পরামর্শ নিন: মাঝে মাঝে যখন আপনি আপনার অস্তিত্ব নিয়ে দ্বিধান্বিত হয়ে পরবেন, তখন আপনার কাউকে দরকার হবে যে নতুন করে আপনাকে আপনার সাথে পরিচয় করিয়ে দেবে। যখন কোনো বিষয় দীর্ঘ সময় ধরে আপনাকে বিরক্ত করে যাবে এবং আপনি কোনো উপকার পাবেন নাতখন এই ধরনের বিষয় থেকে দূরে থাকুন। আপনি কোনো জিনিসকে ভালোবাসেন কিন্তু সেই জিনিসটি আপনার কোনো উপকারে আসছে না তখন এটিকে বর্জন করুন।

সব শেষে একটি কথা নিজেকে বারবার বলুন- “জীবন সুন্দর”

 

তথ্যসূত্র:

https://www.psychologytoday.com/blog/emotional-fitness/201710/nine-ways-get-emotionally-stronger


কাজী কামরুন নাহার, আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মনেরখবর.কম