গোলটেবিল বৈঠক

চট্টগ্রামের মানসিক স্বাস্থ্য সেবা: প্রত্যাশা ও বাস্তবতা

চট্টগ্রামের মানসিক স্বাস্থ্য সেবা: প্রত্যাশা ও বাস্তবতা

বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মনোরোগবিদ্যা বিভাগ ও  চট্টগ্রাম মনোরোগ বিশেষজ্ঞগণের অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গত ২৮ অক্টোবর চিকিৎসকদের বিশেষায়িত কন্সাল্টেশন সেন্টার এপিক হেলথ কেয়ার লিমিটেড‘র সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম মনোরোগ বিশেষজ্ঞগণের অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে স্বাগত বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মাহফুজুল হক। বক্তব্যে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষকে মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন থাকার বিষয়টি ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

এরপর গোলটেবিল আলোচনার মূল বিষয় “Mental Health Service in Chittagong: Hopes and Reality” সম্পর্কে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মনোরোগবিদ্যা বিভাগে কর্মরত ডা. মো. সালেহউদ্দীন।

প্রবন্ধ পাঠকালে ডা. সালেহউদ্দীন মানসিক স্বাস্থ্যনীতি ও অবকাঠামোগত সুযোগ ও নানা সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে তথ্য উপাত্ত উপস্থাপন করেন। এসময় তিনি চট্টগ্রামের ৩০ লাখেরও বেশি জনসংখ্যার জন্য সরকারি ভাবে মাত্র দুজন মনরোগ বিশেষজ্ঞ দায়িত্ব পালন করছেন বলে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মনোরোগবিদ্যা বিভাগে কোনো সাইকোলজিস্টের পদ নেই। এমনকি নগরীর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগ চালু হয়নি। ফলে সাইকোথেরাপি প্রদানের প্রশিক্ষিত জনবল তৈরি হচ্ছে না।

এরপর আলোচনা অনুষ্ঠানে আগত অতিথিরা তাঁদের পেশাগত অভিজ্ঞতার আলোকে বক্তব্য রাখেন।

এসময় চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম শাখার কর্মকর্তা পুলক কান্তি নাথ বলেন, উগ্র জঙ্গিবাদ, নাশকতা, মাদকাসক্তি প্রভৃতি বিষয়গুলোর সাথে মনোবিকারের সম্পর্ক রয়েছে। এক্ষেত্রে সামাজিক সচেতনতার গুরুত্ব রয়েছে। এ ছাড়া কর্মস্থলে পুলিশ বিভাগ যেভাবে ব্যাপক ও বহুমাত্রিক দায়িত্ব পালন করেন, সেক্ষেত্রে তাঁদের নিজেদেরও মানসিক স্বাস্থ্যের সুস্থতার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

নগরীর একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের উপাধ্যক্ষ  ই ইউ এম ইন্তেখাব জানান, বর্তমানে শিশু-কিশোরদের ইন্টারনেট বা প্রযুক্তির প্রতি আসক্তি বাড়ছে। এতে তাদের স্কুলের ফলাফলের অবনতি যেমন হচ্ছে, অন্যদিকে তারা অসামাজিক হয়ে পরছে।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন আজিজুর রহমান সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের সেক্রেটারি সাব্বির ইকবাল,  চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকোলজি বিভাগের প্রধান লাইলুন নাহার, সুপ্রিম কোর্টের আইনজ্ঞ মোহাম্মদ আলী আক্কাস চৌধুরী, নগরীর প্রথম দৈনিক পত্রিকা আজাদীর সহ সম্পাদক ওয়াহিদ মালিক, প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্জ অনুপম সেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক গিয়াস উদ্দীন তালুকদার,  পিএইচপি গ্রুপের এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর আহমেদ শেফার উদ্দিন, চট্টগ্রাম কলেজের মনোবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান নাজির আহমেদ,  এপিক হেলথ কেয়ার লিমিটেড এর চেয়ারম্যান প্রকৌশলী এস এম লোকমান কবীর।

এ ছাড়া চট্টগ্রাম মনোরোগ বিশেষজ্ঞগণের অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মনোরোগবিদ্যা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. মহীউদ্দীন এ সিকদার, মা ও শিশু মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মনোরোগবিদ্যা বিভাগের বিভাগী প্রধান ডা. শামসুল আলম, চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে কর্মরত ডা. মোহাম্মদ মুস্তফা ও ডা. শফিউল হাসান।

অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মনোরোগবিদ্যা বিভাগের প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক আব্দুল মোত্তালিব।

অনুষ্ঠানে সার্বিক সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সুরজিত রায় ও ডা. লিটন মল্লিক। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে সার্বিক সহোযোগিতায় ছিল ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যাল ও এপিক হেলথ কেয়ার লিমিটেড। মিডিয়া পার্টনার ছিল দৈনিক আজাদী ও বাংলাদেশ টেলিভিশন।