মেজাজ কি খিটখিটে হয়ে যাচ্ছে?

মেজাজ কি খিটখিটে হয়ে যাচ্ছে?

সকাল থেকে রাত অবধি কাজ করছেন। বেলা শেষে শরীর যেনো আর শরীরেরই ভার বহন করতে পারছে না। সেই সঙ্গে খুব বিরক্তিও অনুভব করছেন আপনি। সব কিছুতেই বিরক্তি আর মেজাজ খিটখিটে ভাব। তাহলে বুঝতে হবে শরীরের সাথে সাথে আপনার মন ও মস্তিষ্কও ক্লান্ত। তাই আপনার একটু বিরতি প্রয়োজন। শরীরের সাথে সাথে মন ও মস্তিষ্কের।

যখন আপনার মস্তিষ্ক খুব বেশি রকমের উদ্বিগ্ন থাকবে তখন নানা ধরনের সমস্যা তৈরি হতে পারে। চিৎকার-চেচামেচি করা, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া, এমন কি মস্তিষ্কের এমিগডালা অংশ থেকে অতিরিক্ত হরমোন নি:সারণের কারণে ভয় কিংবা সাময়িক স্মৃতিভ্রমও হতে পারে।  তাই আপনাকে অবশ্যই এই উদ্বিগ্নতার খেলায় জিততে হবে। মস্তিষ্ককে শান্ত করতে হবে এবং একটু বিরতি বা বিশ্রাম দিতে হবে।

নিচের ছয়টি ধাপ যদি আপনি সফলতার সাথে অতিক্রম করতে পারেন, তবে এটি আপনাকে উদ্বিগ্নতা কমাতে সহায়তা করবে। যেমন:

শরীরের সংকেত বুঝতে হবেযে কোনো ধরনের মনস্তাত্বিক অনুভূতি আমাদের হৃৎস্পন্দন বাড়িয়ে দেয়। সেই সঙ্গে মাঝে মাঝে হঠাৎ করে বুকে চাপ অনুভূব হয়, শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, মাথা ঘুরায় কিংবা বমি বমি ভাব হয়। আপনার শরীর হয়ত এসবের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে কাজ করবে কিন্তু মনের তাল মেলানোর সম্ভাবনা খুবই কম। তাই এই ধরনের লক্ষণগুলো খেয়াল করতে হবে এবং একটু বিরতি নিতে হবে।

শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন বা শারীরিক ব্যায়াম: আপনাকে গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন করতে হবে। সেই সঙ্গে শরীর চর্চার অনুশীলন করতে হবে, যেন উদ্বিগ্নতার ট্রেন তার রাস্তা থেকে সরে যায়। আপনাকে সব সময় লক্ষ্য রাখতে হবে মস্তিষ্ক এবং শরীর যেন কোনো বিষয়ে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি উত্তেজিত না হয়। সেই সঙ্গে উত্তেজনার কারণে আপনি কোনো ধরনের মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন কি না তাও খেয়াল রাখতে হবে।

মস্তিষ্ক থেকে নেতিবাচক চিন্তা দূর করা: যে কোনো ধরনের ধ্বংসাত্মক চিন্তা-ভাবনা, অস্বাস্থ্যকর চিন্তা-ভাবনা এবং অস্বাভাবিক চিন্তা-ভাবনা থেকে মস্তিষ্ককে দূরে রাখতে হবে। যখন উদ্বিগ্নতা আমাদের আক্রমণ করে তখন মস্তিষ্ক নাটকীয় ঘটনা পছন্দ করে। যেমন, যখন আমাদের মাথা ব্যাথা হয় তখন আমরা চিন্তা করে নেই যদি এটি ব্রেইন টিউমারের লক্ষণ হয়। এতে আমাদের মধ্যে উদ্বিগ্নতার সৃষ্টি হয়। কিন্তু কোনো ভাবেই উদ্বিগ্নতাকে পাত্তা দেওয়া যাবে না।

গঠনমূলক চিন্তা করা: আপনার উদ্বিগ্নতা আপনাকে চিন্তা করতে বাধ্য করবে যে আপনি পাগল হয়ে যাচ্ছেন অথবা আপনার কোনো বড় ধরনের অসুখ হয়েছে। হঠাৎ করে আপনার শরীর ঘামতে পারে অথবা শ্বাস নিতে হালকা কষ্ট হতে পারে। তখন যদি আপনি ঘরের বাইরে থাকেন অথবা ধরুন অফিসে যাওয়ার তাড়া আছে, তবুও বলব একটু থামুন, বিশ্রাম নিন। আর সেই সময় যদি আপনি চিন্তা করতে পারেন যে একদিন অফিসে একটু দেরি করে গেলে কোনো সমস্যা হবে না, তবে বলব আপনি যুক্তিসঙ্গত চিন্তা করছেন।

ভিন্ন ভাবে চিন্তা করা: আ বলেছি যখন আমরা উদ্বিগ্ন থাকি তখন আমাদের মস্তিষ্ক নাটকীয়তা পছন্দ করে। ফলে খুব অল্পতে মানুষের সাথে ঝগড়া বেধে যায়, চিৎকার চেচামেচি করতে ভালো লাগে। তাই আমাদের সব সময় খেয়াল রাখতে হবে কোন বিষয়গুলো আমাদের অনুভূতিতে আঘাত করে। কোনো কিছু আমাদের অনুভূতিতে আঘাত করলে তা আমাদের চুপ করে সহ্য করা উচিৎ নয়। ব্যাপারটিকে খতিয়ে দেখতে হবে, প্রয়োজনে কারোর সাহায্য নিতে হবে। চুপচাপ সহ্য করে গেলে তা ভেতরে জমতে থাকবে। এটি পরবর্তীতে কোনো বড় ধরনের মানসিক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। 

এক থেকে পঞ্চম ধাপের প্রত্যেকটি কাজ বার বার করে যেতে হবে: যতবার প্রয়োজন ওপরের পাঁচটি ধাপের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে হবে। মাঝে মাঝে খুব অল্প সময়ের মধ্যে আপনি এই কাজ করতে পারবেন। মাঝে মাঝে হয়ত অনেক সময় লেগে যাবে। কেননা মস্তিষ্ক সব সময় একভাবে কাজ করে না। মাঝে মাঝে মস্তিষ্ককে একটু বিরতি দিতে হবে। কখনোই হাল ছাড়া যাবে না। যখন আপনি উদ্বিগ্ন থাকবেন মনে হতে পারে এই চাপ হয়ত কোনোদিন শেষ হবে না। তখন প্রতিনিয়ত আপনার মস্তিষ্ককে কিছু শব্দ মনে করিয়ে দেবেন- শোন, ধীরে চল, কৌতুহলী হও, নিজের মধ্যে উপস্থিত থাক, যুক্তিসঙ্গত চিন্তা কর। দেখবেন আপনি বেশ আরাম ও স্বস্তি বোধ করছেন।


তথ্যসূত্র: https://www.psychologytoday.com/blog/anxiety-zen/201711/feeling-anxious-give-your-brain-break-already