ফোর হর্সম্যান অব এপোক্যালিপস ও একটি সম্পর্কের মৃত্যু

ফোর হর্সম্যান অব এপোক্যালিপস ও একটি সম্পর্কের মৃত্যু

শিরোনামটি কোনো উপন্যাসের নাম নয়। বরং একটি গবেষনার সার সংক্ষেপ। মানব মানবীর সম্পর্কের ধ্বংসাত্মক পরিণতির শেষ মুহুর্তের চিত্র এটি। গবেষনায় বেড়িয়ে আসে চার ধরনের আচরণ যা দম্পতিরা করে থাকেন ডিভোর্সের পূর্ব মুহুর্তে। বলতে গেলে বলা যায় প্রায় ৯৪% দম্পতিদের ক্ষেত্রে তা মিলে যায়। ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির মনোবিজ্ঞানের প্রফেসর জন গটম্যান দুই হাজার দম্পতির বিচ্ছেদ পূর্ব আচরণ পর্যবেক্ষণ করে এই সিদ্ধান্তে আসেন। দুই দশক ধরে তিনি এই গবেষণা কর্মটি পরিচালনা করেন। তিনি ঐ আচরণ চারটির নাম দেন ফোর হর্স ম্যান অব এপোক্যালিপস।

সম্পর্কের অবনতি যৌন জীবনকে যথেষ্ঠ প্রভাবিত করে। বিশেষ করে যৌন ইচ্ছা বা আকাঙ্খাকে প্রভাবিত করে সবচেয়ে বেশি। রোজ মেরী ব্যাশনের গবেষনায় দেখা গেছে নারীর যৌন উত্তেজনা আসে সম্পর্কের উষ্মতা থেকে। সঙ্গীর আবেগপূর্ণ স্পর্শ নারীর শরীরকে জাগিয়ে তোলে। শুধু তাই নয় পুরুষের যৌন জীবনেও সম্পর্কের যথেষ্ঠ প্রভাব আছে। সম্পর্কের মধ্যে দূরত্ব থাকলে প্রিম্যাচিউর ইজ্যাকুলেশন , ইরেকটাইল ডিসফাংশন দেখা দিতে পারে। কোনো ধরনের ঔষধই তখন ভালো কাজ করে না। তাই সম্পর্কের ব্যাপারে সচেতন হওয়াটা বেশি প্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে।

তাহলে জেনে নেয়া যাক সেই চারজন ঘোড়া সওয়ারীর নাম।

এক: সমালোচনা বা দোষারোপ
দুই: প্রতিরোধ
তিন: ঘৃণা
চার: স্টোন ওয়ালিং বা নিরবতা

এপোক্যালিপস হচ্ছে মৃত্যু দেবতা যার চারজন ঘোড়া সওয়ারী আছে। কোথাও তাদের উপস্থিতি দেখলে বোঝা যায় সেখানে মৃত্যু আসবে। তেমনি উল্লেখিত আচরণগুলো কোনো দম্পতির মধ্যে দেখলে বোঝা যাবে তাদের সম্পর্কের মৃত্যু হতে যাচ্ছে ।

শুরুটা হয় দোষারোপের মধ্যে দিয়ে । যেমন বলা হল “আচ্ছা তুমি এমন কেন …” অথবা “তুমি সব সময়…” । এ ধরনের কথায় সঙ্গীর ব্যক্তিত্বের একটি বিশেষ দিককে আক্রমন করা হয়। আর তখন প্রতিপক্ষের কাজ হয়ে দাঁড়ায় নিজেকে বাঁচানো। সে তখন প্রতিরোধ  করতে শুরু করে। প্রতিরোধের কৌশল হিসেবে কারণ দেখায় যেন সেক্ষেত্রে তার করার কিছুই ছিল না । অথবা অভিযোগের পিঠে পাল্টা অভিযোগ করে। কখনোবা অভিযোগ স্বীকার করে নেয় তারপর কিন্তু বলে নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করে।

এরকম চলতে থাকলে এক সময় চলে আসে ঘৃণা। যখন ঘৃণা কাজ করতে থাকে তখন অন্য পক্ষের মূল্য একদমই শেষ হয়ে যায়। তখন তার সব কিছুতেই দোষ খুজে পাওয়া যায়। এ পর্যায়ে এসে দুজনের মধ্যে যথেষ্ঠ দূরত্ব দেখা দেয়। দূরত্বটা বাড়তে বাড়তে একসময় শুরু হয় নিরবতা বা স্টোন ওয়ালিং পর্বটির।
যখন দুজনের মনের মধ্যে চলে এমন ঝড় তখন তাদের স্বাভাবিক যৌন আচরণ কতটা সম্ভব একবার ভেবে দেখুন। তাই সুস্থ সম্পর্ক সুস্থ যৌন জীবনের পূর্ব শর্ত। যৌন উত্তেজক ঔষধ খেয়ে হোটেলে সেক্স করা আর বেড রুমে সেক্স করা এক নয়। কারণ আপনার ব্রেইনের ইনহিবিশন সিস্টেম আপনাকে তা করতে দেবে না । মিডিয়াল অরবিটো ফ্রন্টাল করটেক্স আপনার চিন্তা চেতনার সাথে জড়িত। যা সম্পর্কের গভীরতার উপর ভিত্তি করে যৌন উত্তেজনা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেয়।

কাজেই সঙ্গীকে ভালবাসুন । দাম্পত্য  সম্পকের্র যত্ন নিন। প্রয়োজনে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।


প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। মনের খবরের সম্পাদকীয় নীতি বা মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই মনের খবরে প্রকাশিত কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না কর্তৃপক্ষ।

ডা. এস এম আতিকুর রহমান

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, মনোরোগবিদ্যা বিভাগ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়