মেন্টাল হেলথ সার্পোট পেলে করোনা আতঙ্কিতের সংখ্যা কমবে-ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ

মেন্টাল হেলথ সার্পোট পেলে করোনা আতঙ্কিতের সংখ্যা কমবে-ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ

সারাবিশ্বে করোনা ভাইরাস এখন এক আতংকের নাম। এই ধরনের পরিস্থিতিতে শারীরিকভাবে সুস্থ থাকা যতটা জরুরী মানসিক ‍সুস্থতাও ঠিক ততটাই জরুরী। এই ধরনের সংক্রমনের ক্ষেত্রে আতঙ্কিত না হয়ে চাপমুক্ত থেকে মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখার উপায় হিসেবে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট এর সহযোগী অধ্যাপক ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন-

“শুধু এবার নয়, আগেও বহুবার বিভিন্ন সংক্রমনের সময় আতঙ্কিত না হওয়ার উপায় নিয়ে  বিশ্ব সাস্থ্য-সংস্থার একটা নির্দাশাবলী আছে। নিজে কিভাবে আতঙ্কিত না থাকবে, এবং অন্যদেরকে কিভাবে আতঙ্কিত না করবে, বিশেষ করে শিশুদের; সেটা নিয়ে নির্দেশমালা আছে। সেটার আলোকে আমরা বলতে চাই যে, প্রথমেই হচ্ছে, এই যে  করোনা সংক্রমনের বিষয়টা নিয়ে কথা হচ্ছে, সে সর্ম্পকে জানতে হবে এবং সঠিক উৎস থেকে প্রচার হওয়া তথ্য গুলোকে শুধুমাত্র আমরা গ্রহণ করব। কোন ধরনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের মিথ্যা তথ্য বা গুজব এগুলোতে আমরা কান দিবোনা। কারণ গুজব আমাদের এই ধরনের সমস্যা গুলোকে আরো বাড়ায়। আমাদেরকে আতঙ্কিত করে।”

ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ আরো বলেন- “আমাদের এই সময়টাতে কেবলমাত্র এই বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা যাবে না। দেখা যাচ্ছে আতঙ্কের সময় শুধু রোগটি নিয়েই আমরা চিন্তা করছি, টিভিতে দেখছি। খেয়াল রাখতে হবে আমরা এখন আতঙ্কিত হয়ে যেটা করছি সেটার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে আমাদের অন্যান্য দৈনন্দিন স্বাভাবিক কাজকর্ম, অন্য খবর দেখা, অন্য বিনোদনের উৎস দেখা, এগুলো যেন ব্যহত না হয়। যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের কোন অথরিটি নির্দেশ না দেয় যে, তোমরা স্কুল এ যেওনা বা ঘরে বসে থাকো, ততক্ষন পর্যন্ত নিজের থেকে স্ব-প্রণোদিত হয়ে যদি আমরা এমন কিছু আরোপ করি, তখন কিন্তু আমাদের আতঙ্ক আরো বেড়ে যেতে পারে। তার মানে একজনের আতঙ্ক আরেকজনের মধ্যে সংক্রমিত হতে পারে।”

“এছাড়া আরেকটি বিষয় হলো যে, পরিবারের যে সদস্যরা আছেন, বিশেষ করে শিশুরা, তাদেরকে আমরা সংক্রামিত না হওয়ার যে উপায়গুলি নিয়ে বিভিন্নভাবে যে নির্দেশাবলী আছে; সেগুলো যেন শিক্ষা দিতে পারি সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। যেমন: বর্তমান পরিস্থিতিতে covid-19 এর ক্ষেত্রে হাত ধোয়ার প্র্যাকটিস টা শিখানোর জন্য গেইম এর আশ্রয় নিতে হতে পারে। খেলার মাধ্যমে তারা হাত ধোয়া শিখবে। অনেক সময় অ্যাক্ট, গান, ছড়া-গান এগুলো দিয়ে তাদের‍কে প্রতিরোধের বিষয়গুলো শেখাতে হবে। আরেকটি বিষয় হচ্ছে, আমরা বলি যে, সবার জন্যই কিন্তু মানসিক স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজন আছে বা আতঙ্কিত না হওয়ার প্রয়োজন আছে। সবাই বলতে শুধুমাত্র যারা সংস্পর্শে আসছে বা যারা ঝুঁকিপূর্ণ বা যারা আক্রান্ত হয়েছে তারা নয়। যারা সেবা করছে, যারা নীতি-নির্ধারণ করছে, যারা মিডিয়া-কর্মী, যারা লিখছে, যারা ফ্রন্টলাইন ওয়ার্কার, তাদের সবার জন্যই কিন্তু  কিছু না কিছু মেন্টাল হেল্থ সাপোর্ট এর প্রয়োজন আছে। আমরা মনে করি, আমরা যদি তাদের এই মেন্টাল হেল্থ সাপোর্ট টুকু দিতে পারি, ভয়-ভীতি থেকে দূরে রাখতে পারি এবং গুজব থেকে দূরে রাখতে পারি তাহলেই কিন্তু আতঙ্কের সংখ্যা, আতঙ্কিত না হওয়ার আশঙ্কা কমে যাবে। আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য আমাদেরকে সত্যের কাছাকাছি থাকতে হবে। কোন ধরনের গুজবে কান দেওয়া যাবেনা “-বলেন ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ।