করোনা ভাইরাস ও চিকিৎসকদের মানসিক স্বাস্থ্য শংকা

মহামারি ও চিকিৎসকদের মানসিক স্বাস্থ্য শংকা

করোনাভাইরাসকে বৈশ্বিক মহামারি ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। বাংলাদেশে চলছে করোনো আতঙ্ক। সাথে রয়েছে ডেঙ্গুর চোখ রাঙানি। ডেঙ্গু কিংবা করোনার মত বিভিন্ন মহামারীতে চিকিৎসকের উপর সবচেয়ে বেশি ধকল যায়। সংক্রামক রোগের ক্ষেত্রে অনেক সময়ে চিকিৎসকদেরও রোগে আক্রান্তের ঝুঁকি থাকে। অনেক সময় চিকিৎসকেদরে পরিবারের সদস্যরাও শংকিত থাকেন। এ ধরনের পরিস্থিতি চিকিৎসকদের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর কি ধরনের প্রভাব ফেলে? এবং এ ধরনের পরিস্থিতিতে চিকিৎসকদের কি ধরনের মানসিক প্রস্তুতি থাকা উচিত’সহ জরুরী পরিস্থিতিতে চিকিৎসকদের মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে মনের খবর এর পক্ষ থেকে মতামত জানতে চাওয়া হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ডা. ঝুনু শামসুন্নাহার এর কাছে।

তিনি বলেন-  “চিকিৎসকরা মানব কল্যাণে কাজ করবে এটাই স্বাভাবিক। তবে চিকিৎসকরাও যেহেতু মানুষ, তাদেরও পরিবার আছে। কিন্তু জরুরী অবস্থায়, বিশেষ করে করোনার মত অত্যন্ত সংক্রামক রোগ যেখানে আছে, সেখানে চিকিৎসকদের সুরক্ষা দেওয়ার মত প্রস্তুতি থাকা দরকার। বিভিন্ন দেশের চিকিৎসকরা সুরক্ষার জন্য মাক্স, স্যুট এসব ব্যবহার করছেন। সেরকমভাবে এদেশেও চিকিৎসকদের জন্য প্রয়োজনীয় সুরক্ষার ব্যবস্থা নেওয়া উচিৎ। এসব সুরক্ষার ব্যবস্থা না থাকলে চিকিৎসকরা শংকিত থাকেন, মানসিক অস্থিরতায় ভোগেন। তাদের পরিবারও তাদেরকে নিয়ে দু:শ্চিন্তায় থাকেন।

চিকিৎসকরা যাতে রোগাক্রান্ত না হয় সেদিকে  রাষ্ট্রকে সর্বোচ্চ খেয়াল রাখতে হবে। কারণ চিকিৎসক যদি কোনভাবে সংক্রমিত হোন, তবে পরবর্তীতে তার পরিবারের লোকজন এবং তাদের সংস্পর্শে অন্যান্য স্থানেও সংক্রমণ হতে পারে। চিকিৎসকরা রোগীর চিকিৎসা করার ক্ষেত্রে সব সময়ই সাহসী। কিন্তু তাদের পরিবার-পরিজন তাদের নিয়ে খুবই চিন্তিত বোধ করেন। তাই সব ধরনের সংক্রমণের ক্ষেত্রেই চিকিৎসকদের প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য  প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি অত্যন্ত গূরুত্বপূর্ণ। শুধুমাত্র করোনা নয়, এমন অনেক সংক্রামক রোগ আছে যেসব রোগের চিকিৎসা করতে চিকিৎসকরা কখনো পিছ পা হন না।

করোনা ভাইরাসের প্রভাবে শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান থেকে বিভিন্ন ধরনের প্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। কোন কোন ক্ষেত্রে ধর্মীয় উপাসনালয়ও বন্ধ রাখা হয়েছে। মানুষ প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেনা। কিন্তু চিকিৎসকদের সর্বক্ষণ সেবা দিয়ে যেতে হচ্ছে। চিকিৎসকরা আতঙ্কিত অবস্থায়ও কাজ করে যাচ্ছেন।

যেকোনো ধরনের সংকটপূর্ণ রোগের চিকিৎসা করার ক্ষেত্রেই চিকিৎসকরা মানসিক চাপে ভুগে থাকেন। যদি কোন ক্ষেত্রে সংক্রমণ হয়েও থাকে তখন সবচেয়ে বেশি দুঃশ্চিন্তা হয় পরিবারের জন্য। কারণ সেই চিকিৎসককে যদি আইসোলেশন করা হয় তবে চিকিৎসক তার পরিবার নিয়ে বেশি চিন্তিত হয়ে পড়েন, যেহেতু পরিবারের মানুষের সংস্পর্শে কোন না কোনভাবে আসা হয়। তবে সরকার যদি আইসোলেশনের জন্য ভিন্ন ব্যবস্থা নেন সেক্ষেত্রে পরিস্থিতিটা অন্যরকম হয়।

অন্যান্য দেশে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিয়ে মানুষ খুবই সচেতন। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্বের সকল দেশ পরিষ্কার- পরিচ্ছন্নতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। সেদিক থেকে আমাদের দেশ অনেক অপরিচ্ছন্ন। যেহেতু আমাদের দেশকে অনেক ক্ষেত্রে ডিজিটালাইজেশন করা হয়েছে তাই যেসব ক্ষেত্রে অনলাইন ভিত্তিক সেবা দেওয়া সম্ভব সেগুলো দ্রুত ব্যবস্থা করা উচিৎ। এতে হাসপাতাল গুলোতেও রোগীর চাপ কমবে। সংক্রমণের আশংকাও কমবে।“