করোনা ভাইরাস ও গর্ভবতীর মানসিক স্বাস্থ্য

করোনা ভাইরাস ও গর্ভবতীর মানসিক স্বাস্থ্য

সারাবিশ্ব এখন করোনা নিয়ে আতঙ্কিত অবস্থায় আছে। এ সংকটময় অবস্থায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা থেমে গিয়েছে। যেকোন মহিলার জন্য তার গর্ভকালীন অবস্থা অত্যন্ত গূরুত্বপূর্ণ। এ সময়ে তার পাশে পরিবারের সকলের থাকা ও যত্ন নেওয়া যেমন জরুরী, তেমনি তার নিজের প্রতি যত্নশীল হওয়া ঠিক ততটাই জরুরী।

যেকোন আতঙ্কিত পরিস্থিতিতে মানুষের মনে নেতিবাচক বিষয়গুলো বেশি প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে গর্ভাবস্থায় মহিলারা শারীরিক ও মানসিকভাবে দুর্বল থাকে, তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাভাবিকের চেয়ে কম থাকে। এসময় সাধারন সর্দি-কাশি হলেও তাদের মনে ভয় কাজ করে। কারণ নিজের শারীরিক অসুস্থতার পাশাপাশি গর্ভের শিশুকে নিয়েও দুঃশ্চিন্তায় ভোগে। এসময় করোনা সংক্রান্ত যেকোন সংবাদ গর্ভবতী মহিলাকে আতঙ্কিত করে তুলছে। আতঙ্কিত অবস্থা সবসময়ই মানসিক চাপ ও প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে। যার ফলে অস্থিরতা, দুঃশ্চিন্তা, ঘুমের সমস্যা হতে পারে।

করোনা নিয়ে মিডিয়ার বিভিন্ন সংবাদ, আক্রান্তের সংখ্যা, মৃতের সংখ্যা ভয়াবহ মানসিক চাপের সৃষ্টি করছে। নিজের জন্য ও বাচ্চার জন্য দুঃশ্চিন্তা আতঙ্ককে আরো বাড়িয়ে তোলে। সময়মত চেকআপ করতে যাওয়া যাবে কিনা, বাইরে বের হওয়া নিরাপদ কিনা, জরুরী অবস্থায় চিকিৎসা সেবা পাওয়া সম্ভব হবে কিনা, বাচ্চা সুস্থভাবে জন্মগ্রহণ করবে কিনা, এই বিষয়গুলো নিয়ে তারা সবসময় দুঃশ্চিন্তা করতে থাকেন। নিজের জন্য এবং পরিবারের সকলের জন্য দুঃশ্চিন্তা হয়, বিশেষ করে পরিবারের কেউ কাজের জন্য বাইরে বের হলে তার নিরাপত্তা এবং সে বাসায় আসার পর রোগের ভাইরাস বহন করে নিয়ে এসেছে কিনা এ বিষয়েও দুঃশ্চিন্তা হয়।

অনেক বাসায় কাজের জন্য স্থায়ী কাজের লোক নেই। নিরাপত্তার জন্য সাহায্যকারী ব্যক্তিকে অনেকেই ছুটি দিয়েছেন। গর্ভাবস্থায় কাজ করা কষ্টকর। কিভাবে একা কাজ করবে, পরিবারের সকলের যত্ন নিবে বিশেষ করে বয়স্ক ও ছোট শিশু যদি থাকে, এ বিষয়গুলোও মানসিক চাপ সৃষ্টি করে। বিশেষ করে কর্মজীবী মহিলারা নিজের কাজের ক্ষেত্র নিয়ে সবসময় দুঃশ্চিন্তা করেন। তাই পরিবারের সবাইকে এসময় গর্ভবতী মহিলাকে সাহায্য করতে হবে। সময় দিতে হবে।

সবাই মিলে সাহায্য করলে, বিশেষ করে স্বামী যদি সবসময়ই পাশে থাকে, সবাই মিলে ভালো সময় কাটালে (যেমন: একসাথে আড্ডা দেওয়া, গল্প করা, টিভি দেখা, ইনডোর গেম ইত্যাদি) দুঃশ্চিন্তা কমে যাবে। পর্যাপ্ত ঘুম এবং বিশ্রামের বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে। আতঙ্কিত না হয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার যে বিষয়গুলো মেনে চলা জরুরী সেগুলো মেনে চলতে হবে। বাইরের খাবারের পরিবর্তে পরিচ্ছন্নতার নিয়ম মেনে বাসায় সব ধরণের খাবার রান্না করা যেতে পারে। সুষম খাবারের ব্যবস্থা থাকতে হবে। বেশি করে ভিটামিন সি যুক্ত খাবার খেতে হবে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। জরুরী অবস্থায় চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে যে চিকিৎসক গর্ভকালীন চিকিৎসা দিচ্ছেন, তাঁর থেকে অনলাইন ভিত্তিক সেবা বা পরামর্শ গ্রহণ করা যেতে পারে।

মানসিক দুঃশ্চিন্তা যখন কমে যায়, তখন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যায়। মাকে উদ্বিগ্ন না হয়ে নিজে ভালো থাকার চেষ্টা করতে হবে, তাহলে গর্ভের বাচ্চাও সুস্থভাবে বেড়ে উঠবে। তাই আতঙ্কিত না হয়ে, দুঃশ্চিন্তা না করে, সবাই মিলে এ পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে হবে। ভালো থাকার চেষ্টা করতে হবে।

শ্রুতি লিখন: তাহসিন খুশবু