করোনা সংক্রমণের খবর কি মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি?

করোনা সংক্রমণের খবর কি মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি?

শরীরের দফারফা করে দিতে পারে করোনা৷ তা আর জানতে বাকি নেই বিশ্ববাসীর৷ এর মধ্যেই প্রাণ গিয়েছে ৬৪০০ জনের৷ আক্রান্ত দেড় লক্ষেরও বেশি মানুষ৷ কিন্তু মানসিক স্বাস্থ্য? করোনা সংক্রমণের খবর কি মানসিক স্বাস্থ্যেও প্রভাব ফেলতে পারে? প্রশ্নের উত্তরে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ‘হু’ বলছে, হ্যাঁ মানসিক স্বাস্থ্য নষ্ট করার ক্ষমতা বহন করে এই খবর৷ শুধু সংক্রমিত ব্যক্তিই নন, করোনা আতঙ্কেও মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটাতে পারে যারা এই খবরগুলির প্রতিনিয়ত দেখছেন তাঁদের৷

সম্প্রতি এই প্রসঙ্গে একটি নির্দেশিকাও জারি করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ‘হু’৷ সেই নির্দেশিকায় বলা বলা হয়েছে তিনটি বিধির কথা৷

১ উদ্বেগ এড়াতে সারাক্ষণ এই বিষয়ের খবর দেখা বন্ধ রাখতে হবে৷

২ মূলত কী ভাবে নিজেকে সুস্থ রাখব সে ব্যাপারে তথ্য যোগাড় করার দিকে জোর দিতে হবে৷

৩ একটি নির্দিষ্ট সময় অন্তর তথ্য সংগ্রহ করতে হবে৷

মনোবিদরা বলছেন, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ কোনও জাত-ধর্ম-বর্ণ দেখে হয় না৷ কাজেই বিদ্বেষমূলক মন্তব্য একজন আক্রান্তকে অন্ধকারে ঠেলে দিতে পারে৷ এমনিতেই করোনার আঁতুরঘর উহান হওয়ায় অনলাইন বা অফলাইনে বহু বর্ণ বিদ্বেষী মন্তব্য উড়ে এসেছে পশ্চিমী দেশের অনেক নাগরিক থেকে৷ মনোবিদরা এই আতঙ্কজনক পরিস্থিতিতে তার আর পুনরাবৃত্তি চাইছেন না৷

একই সঙ্গে মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে একজন করোনা আক্রান্তের প্রাথমিক পরিচয় তিনি ‘করোনা আক্রান্ত’, ‘কোভিড-১৯ পেশেন্ট ’ এমনটা নয় বরং তাঁকে সংক্রমণের সঙ্গে লড়ে সুস্থতার পথে এগিয়ে যাওয়া এক ব্যক্তি বলেই চিহ্নিত করা উচিত৷ কারণ ভাইরাস সংক্রমণটি এক সময় প্রতিহত করা সম্ভব হবে৷ আবিশ্ব খোঁজ চলছে প্রতিষেধকের৷ কিন্তু একবার কাউকে দাগিয়ে দিলে তিনি চিহ্নিতই হয়ে যাবেন৷

প্রসঙ্গত, করোনা সংক্রান্ত খবর সংগ্রহের জন্যে একটি নিউজ ওয়েবসাইট বা খবরের কাগজের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে নির্ভরযোগ্য নানা মাধ্যমই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখতে বলা হচ্ছে৷ তবে বেশি নয়৷ দিনে দুবার তথ্য সংগ্রহ করলেই হল৷