মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে আমাদের অনেক পরিকল্পনা রয়েছে: মীর জাকী আজম চৌধুরী 1

মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে আমাদের অনেক পরিকল্পনা রয়েছে: মীর জাকী আজম চৌধুরী

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত “মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক ৮ম আন্তর্জাতিক সম্মেলন ২০১৫” এর প্লাটিনাম পৃষ্ঠপোষক জেনারেল ফার্মাসিউটিক্যালস লি. কোম্পানির বিপণন পরিচালক মীর জাকী আজম চৌধুরী মানসিক স্বাস্থ্য ও চিকিৎসায়  তাদের অবদান ও কর্মকান্ড নিয়ে কথা বলেছেন মনেরখবর.কম-এর সাথে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ফারুক হোসেন

মনেরখবর.কম: মানসিক স্বাস্থ্যের উপর আন্তর্জাতিক সম্মেলনে আপনাদের কোম্পানি জেনারেল ফার্মাসিউটিক্যালস লি. প্রধান পৃষ্ঠপোষক। মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় আপনাদের ভুমিকা কি?

মীর জাকী আজম চৌধুরী: মানসিক স্বাস্থ্য সেবায় আমরাই প্রথম মেডিকেল ট্রিটমেন্টের ক্ষেত্রে নতুন নতুন মৌলিক কিছু ওষুধ নিয়ে এসছি। আমরা এ পর্যন্ত ১৭-১৮ টি মৌলিক ওষুধ বাজারে এনেছি। এসব ওষুধ সম্পর্কে জানা থাকলে ডাক্তারদের চিকিৎসা করা যেমন সহজ হবে তেমনি রোগীও দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে। মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সেট্রা, মেটাজিন, টিয়াপিন, লোপেজ মিসকড, রিলাফিন সহ মানসিক রোগের বিভিন্ন ওষুধ আমরা বাজারে নিয়ে এসেছি।

মনেরখবর.কম: দেশের প্রধান শহরগুলোর বাইরে বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে মানসিক রোগের ঔষুধ কেমন বিক্রি হয়?

মীর জাকী আজম চৌধুরী: মানুষজনের মধ্যে আগের চাইতে বর্তমানে মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা অনেক বেড়েছে। যার ফলে দেশের প্রধান শহরগুলোর পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলেও এ ঔষধগুলোর চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশের সকল এলাকায় চাহিদা মতো ঔষধ পৌঁছে দেয়া হচ্ছে।

কিছু কিছু মানসিক রোগীর এমন ইনজেকশন দিতে হয় যা বাংলাদেশে উৎপন্ন হয় না। বিদেশ থেকে আমদানী করতে প্রচুর অর্থ খরছ করতে হয়। আমরা সামনে এধরনের প্রোডাক্ট বাজারে আনবো। যাতে বাংলাদেশের সকল মানুষকে চিকিৎসা সেবার আওতায় নিয়ে আসা যায়। তারা যাতে সহজে মানসিক রোগের চিকিৎসা পায় সে চেষ্টা চালিয়ে যাব।

মনেরখবর.কম: গ্রামাঞ্চলে মানসিক রোগের ডাক্তার কম। সেক্ষেত্রে আপনারা কিভাবে তাদের মধ্যে আপনাদের ওষুধগুলো পৌঁছে দেন?

মীর জাকী আজম চৌধুরী: গ্রামাঞ্চলে সাধারণত আগে ভুতে ধরা, বাতাস লাগা কিংবা কারো স্বামী মারা গেলে আত্মহত্যার প্রবণতা অনেক বেশি ছিল। অথচ আত্মহত্যার কারণ গ্রামের কেউ জানতো না। তখন আমরা বাংলাদেশের প্রতিটি থানা থেকে আরএম ও টিএইচএ কে নিয়ে এসে পর্যায়ক্রমে তাদের ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করলাম মানসিক হাসপাতালে। এটা স্পন্সর করেছে এককভাবে জেনারেল ফার্মাসিউটিক্যালস। ফলে গ্রামাঞ্চলে কেউ মানসিক রোগে আক্রান্ত হলে তারা বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছে পাঠিয়ে দিচ্ছে। আর সচেতনতা তৈরির ফলে মানসিক রোগে আক্রান্ত হলে মানুষ ডাক্তারের কাছে আসছে যা আগে ছিল না।

মনেরখবর.কম: তাহলে আগের চেয়ে আপনাদের ওষুধ এখন বেশি বিক্রি হচ্ছে?

মীর জাকী আজম চৌধুরী: অনেক বেশি বিক্রি হচ্ছে। মানসিক স্বাস্থ্যক্ষেত্রে আমরাই প্রথম বিভিন্ন নতুন প্রোডাক্ট বাজারে এনেছি এবং বাজারে আমাদের ওষুধগুলোও বেশি যাচ্ছে। মানসিক রোগের ওষুধের মধ্যে কাটতির দিক থেকে এখন এক নম্বরে আছে জেনারেল ফার্মাসিউটিক্যালস।

মনেরখবর.কম: ওষুধ বিক্রির বাইরে মানসিক স্বাস্থ্যক্ষেত্রে আপনাদের অবদান কি?

মীর জাকী আজম চৌধুরী: মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত যেকোনো সভা সেমিনারকে আমরা উৎসাহিত করি। এজন্য এসব সভা সেমিনার আয়োজনের জন্য আমরা সিংহভাগ সহায়তা করে থাকি। গত ১০-১২ বছর ধরে আমরা স্পন্সরশিপ করে যাচ্ছি। এবারেও আমরা তাই করেছি।

মনেরখবর.কম: আপনাদের ওষুধ কতটা সহজলভ্য বা নিম্নআয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আছে?

মীর জাকি আজম চৌধুরী: আপনি জানেন হয়তো যে, আমরা আগে ওষুধ আমদানী করতাম। এতে ৪-৫ গুন বেশি টাকা দিয়ে রোগীরা এসব ওষুধ কিনতো। এখন বাংলাদেশের লোকাল কোম্পানিগুলোর তৈরি ওষুধ অনেক সহজলভ্য হয়েছে। বর্তমানে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার ওষুধ আমরা বিদেশে রপ্তানি করছি।

মনেরখবর.কম: মানসিক রোগমুক্তি বা সচেতনতা তৈরিতে আপনারা ব্যবসার পাশাপাশি বিশেষ কোনো পদক্ষেপ বা কর্মসূচি নিয়েছেন কখনো?

মীর জাকী আজম চৌধুরী: হ্যাঁ নিয়েছি। যেমন ঝিনাইদাহর শৈলকুপা এলাকায় কিশোর- কিশোরী আত্মহত্যা করতো। এখানে আমরা অনেক সেমিনার করেছি। সারা বাংলাদেশের ডাক্তারদের নিয়ে আমরা ২০০ মতো সেমিনার করেছি। তখন ব্যবসায়িক কারণে করি নি। মানুষ যাতে মানসিক রোগ সম্পর্কে সচেতন হয় এবং চিকিৎসা সেবা পায় সে জন্যই আমরা একাজগুলো করে থাকি। এছাড়া আমরা ঘোড়ার গাড়ি কিংবা সাইকেল র‌্যালি করে সচেতনতা তৈরিতে কাজ করেছি।

gp 2

মনেরখবর.কম: মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে আপনাদের ভবিষ্যৎ ভাবনা বা পরিকল্পনা কি?

মীর জাকী আজম চৌধুরী: অনেক পরিকল্পনা আছে। যেমন কিছু কিছু মানসিক রোগীর এমন ইনজেকশন দিতে হয় যা বাংলাদেশে উৎপন্ন হয় না। বিদেশ থেকে আমদানী করতে প্রচুর অর্থ খরছ করতে হয়। আমরা সামনে এধরনের প্রোডাক্ট বাজারে আনবো। যাতে বাংলাদেশের সকল মানুষকে চিকিৎসা সেবার আওতায় নিয়ে আসা যায়। তারা যাতে সহজে মানসিক রোগের চিকিৎসা পায় সে চেষ্টা চালিয়ে যাব।

মনেরখবর.কম: ধন্যবাদ আপনাকে

মীর জাকী আজম চৌধুরী: আপনাকেও ধন্যবাদ