মূল পাতা / শিশু কিশোর / শিশুর বিষণ্ণতা দূর করতে করণীয়

শিশুর বিষণ্ণতা দূর করতে করণীয়

আমার মনে আছে আমার সন্তানদের বয়ঃসন্ধি কালের কথা, যখন তাদের বয়স ছিল ১০ থেকে ১৪ এর মধ্যে। তারা তখন না শিশু, না কিশোর। আমরা তখন খুবই কঠিন একটা সময় পার করেছিলাম। প্রত্যেক পিতামাতাকেই এসময় খুব প্রতিকূল অবস্থার সম্মুখীন হতে হয়। বয়ঃসন্ধি কালে সন্তানদের সাথে পিতামাতার সম্পর্ক  বেশ জটিল আকার ধারন করে।

এ সময়ে সন্তানদের উপর পিতামাতার প্রভাব কিছুটা কমে যায়। অনেক পিতামাতাই এটি সহজভাবে নিতে পারেনা। কিন্তু কিছু সহজ কৌশল অবলম্বন করলে সন্তানদের সাথে আপনার এই দূরত্ব মিটিয়ে ফেলা যায়। সন্তানদের সাথে উত্তম যোগাযোগ স্থাপন এই কৌশলগুলোর মধ্যে অন্যতম।

সুসম্পর্ক স্থাপনের কিছু কৌশল:

১. প্রথমে মন দিয়ে শুনুন:  আপনার সন্তানদের কথা ভালোভাবে বুঝতে হলে প্রথমে আপনাকে তাদের কথা মন দিয়ে শুনতে হবে। সময় নিয়ে তারা কি বলতে চায় সেটি শুনুন এবং বোঝার চেষ্টা করুন। মন বুঝে, সহিষ্ণু হয়ে তাদের কথা আমলে নিন।

২. সঠিকভাবে বিচার করুন: এরকম অনেক সময়ই আসবে যখন আপনি আপনার সন্তানের আচরণে ব্যক্তিগত আক্রমণ অনুভব করবেন। সাথে সাথে রেগে না গিয়ে ঠান্ডা মাথায় অবস্থাটি সামলে নিন এবং আপনার আচার আচরণ দিয়ে তাকে আশ্বস্ত করুন যে আপনি তার বিরোধী পক্ষ নন। তার আস্থা অর্জন করুন।

৩. আবেগী হয়ে কোন কাজ করবেননা: শিশুরা অনেক সময়ই পিতামাতাকে বিভিন্নভাবে আবগ দ্বারা প্রভাবিত করার চেষ্টা করে। কিন্তু কোন আবেগের ফাঁদে পা দেবেননা। তাদের গতিবিধির ওপর সতর্ক দৃষ্টি রাখুন। একই সাথে তাদেরকে মানসিকভাবে আশ্বস্ত করুন।

৪. কোন কিছুকে ব্যক্তিগত আক্রোশে পরিণত করা থেকে বিরত থাকুন: বয়ঃসন্ধিকালে শিশুরা একটুআধটু একরোখা স্বভাব দেখাতেই পারে। না বুঝে অনেক অনুচিত কথাই বলে বসতে পারে। তাদের সব আচরণ কখনোই ব্যক্তিগতভাবে নেওয়া যাবেনা। নিজেকে শান্ত রেখে নমনীয় আচরণ করুন। বলা যায় এ সময়ে আপনাকে ধৈর্যের কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে।

৫. সব কিছু সহজভাবে সমাধানের চেষ্টা করুন: অনেক সময় অনেক সহজ বিষয়ও ভুল বোঝাবুঝির জন্য জটিল আকার ধারণ করে। এসময় সব থেকে বেশি প্রয়োজন নিজেকে সামলে পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া। আপনার সন্তানকে খুব কঠিনভাবে শাসন না করে এসময়ে তাকে বুঝিয়ে বলুন। সব কিছু সহজভাবে নিয়ে মূল সমস্যাটি বোঝার চেষ্টা করুন। শিশুর সাথে খোলামেলা আলোচনা অনেক কঠিন বিষয়েরও সহজ সমাধান দিতে পারে।

৬. অত্যধিক জোরাজুরি করবেননা :  সম্পর্কের উপর নিজের জোর খাটাবেননা। কখনই ভাববেননা যে এটি আপনার অধিকার। অনেক সময় মনে হতে পারে আপনার সন্তান এবং আপনার মধ্যে বেশ বড়সড় একটা দূরত্ব তৈরি হচ্ছে। তাদের মধ্যে অধিক মাত্রায় স্বেচ্ছাচারীতাও দেখা দিতে পারে। এই বিষয়গুলোকে ব্যক্তিগত আক্রমণ হিসেবে না দেখে সন্তানের সাথে সহযোগীতামূলক সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে।

৭. সন্তানকে গুরুত্ব দিন: সন্তানের সাথে বিশ্বাসের সম্পর্ক তৈরি করুন। তারা যেন মনে করে, যে কোন বিপদে আপনি তার পাশে থাকবেন। শত কাজের মাঝেও আপনার সন্তানকে সময় দিতে ভুলবেননা। তার অভাব-অভিযোগের প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রাখুন এবং আপনার প্রতি তার আস্থার জায়গাটি পাকাপোক্ত করুন।

৮. সম্বন্ধের প্রতি অধিক যত্নশীল হউন: বয়ঃসন্ধিকাল পিতামাতা এবং সন্তান উভয়ের জন্যই খুবই কঠিন একটা সময়। এ সময়ে সম্পর্কের প্রতি অধিক মনযোগী না হলে সন্তান এবং পিতামাতা উভয়ই বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে। তাই এ সময়ে সন্তানদের অধিক সময় দিন এবং  তাদের সাথে সম্পর্কের ভীত মজবুত করুন।

এই কৌশলগুলো কাজে লাগিয়ে শৈশব, কৈশোর এবং বয়ঃসন্ধিকালের প্রতিটি ধাপে শিশুর সাথে নিজের সম্পর্ককে আরো দৃঢ় করুন।

 

অনুবাদ করেছেন: প্রত্যাশা বিশ্বাস প্রজ্ঞা

তথ্যসূত্র: https://www.psychologytoday.com/intl/blog/parenting-new-generation/201908/fighting-the-whatever-blues-your-child