মূল পাতা / প্রতিদিনের চিঠি / পাবলিক ভার্সিটির কথা মনে হলে আমার মনটা  চুরমার হয়ে যায়

পাবলিক ভার্সিটির কথা মনে হলে আমার মনটা  চুরমার হয়ে যায়

আমাদের প্রতিদিনের জীবনে ঘটে নানা ঘটনা, দুর্ঘটনা। যা প্রভাব ফেলে আমাদের মনে। সেসবের সমাধান নিয়ে ‘প্রতিদিনের চিঠি’ বিভাগ। এই বিভাগে প্রতিদিনই আসছে নানা প্রশ্ন। যেগুলোর উত্তর দিচ্ছেন অধ্যাপক ডা. সালাহ্‌উদ্দিন কাউসার বিপ্লব। আমাদের আজকের প্রশ্ন পাঠিয়েছেন তাসফিয়া আফরিন (ছদ্মনাম) –

প্রতিদিনের চিঠি

চিঠি

আমার বয়স- ২০। আমি HSC (২০১৬) পরীক্ষার আগে অনেক পড়াশোনা করতাম। সারাদিন প্রাইভেট কোচিং করে,রাত ১/২টা পর্যন্ত  পড়তাম। যখন  HSC পরীক্ষা  শুরু হয় ২ টা  পরীক্ষা ভালোই  হলো, কিন্তু হঠাৎ করে আমি পরীক্ষার হলে গিয়ে সবকিছু ভুলে যেতাম যার জন্য আমার  ২টা পরীক্ষা  অনেক  খারাপ  হয় । এটা  আম্মু  আব্বু  জানার পড়ে আমাকে অনেক  কথা  শুনতে  হয়, আমাকে পাবলিক ভার্সিটির  জন্য কোচিং করায়নি, কিন্তু আমি একাডেমিক কোচিং এর  1st girl ছিলাম, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত আমার  HSC রেজাল্ট তেমন ভালো হয়নি। আমার রেজাল্ট ছিলো ৩.৮৩ কিন্তু আমার  বাবা মার  কাছে  বলছি ৪.৫০। আমি ভালো ন্যাশনাল ভার্সিটিতেও আসিনি, শেষ পর্যায়  একটা কলেজে আসলেও  আমি  ভর্তি হইনি। ফ্যামিলিকে বলছি আমি পাবলিক ভার্সিটিতে  2nd time  দিবো। আমার কথা মতো আম্মু  আমাকে কোচিংএ  ভর্তি করায় । এরই  মধ্যে  আমি  কিনতু  একটা ন্যাশনাল কলেজে  ভর্তি হয়ে  থাকি।. আমি আপ্রাণ চেস্টা করি পাবলিক ভার্সিটির জন্য। বিভিন্ন  জায়গায় গিয়ে ভর্তি পরীক্ষা দেই কিন্তু কোথাও আসেনি। তারপর  কুমিল্লা  ভার্সিটির জন্য অনেক পড়াশোনা করি। এটার মধ্যে আমি সি ইউনিটে  ২৮০তম হই,আর বি ইউনিটে ১২৪তম হই। কিন্তু  ভাগ্য  এতোটাই  খারাপ যে আমার  কোনো  সাব্জেক্ট  আসেনি।  এরপর  থেকে আমার  সব স্বপ্ন  ভেঙ্গে  যায়,পাগলের মতো হয়ে যাই আমি। বাবা মা আমাকে অনেক ধরনের কথা বলতো, আমি চুপচাপ সহ্য করে যেতাম। পাবলিক ভার্সিটির কথা মনে হলে আমার মনটা  চুরমার হয়ে যায়, পরিবার আমাকে দায়ী করে। এরপর থেকে বই এর ধারে কাছে যেতেও ইচ্ছে করে নাহ। বাবার সপ্ন ছিলো পাবলিক ভার্সিটিতে পড়বো,ভালো কিছু করবো  কিন্তু তা আর আমি পারলাম না। এরপর থেকে আমি সবসময় ড্রিপ্রেশনে ভুগছি। সারাক্ষণ মনে হয় আমাকে দিয়ে কিছু হবে না।

উত্তর

তুমি থাকো কোথায়, বর্তমানে কি করছো সেটা বোঝা গেলো না। তোমার লেখার বিষয়গুলি যদি আমি ঠিকমতো বুঝে থাকি তবে বর্তমানে তুমি বিষণ্ণতায় ভুগছো এটা বলা যায়। অবশ্যই এটার চিকিৎসা আগে করানো উচিত।

অনেকগুলি বিষয় তুমি লিখেছো সেসবের কারণ এবং ব্যাখ্যা কি সেসবও তোমার কাছ থেকে সরাসরি শুনা উচিত। যেমন তোমার বাবা-মার কথা লিখেছো, তারা তোমাকে অনেক কথা শুনিয়েছে। সেটা কেন? কতটুকুইবা উনারা শুনিয়েছে আবার তুমি নিজে সেসব কিভাবে নিয়েছো। কতটুকু নেয়ার মতো তোমার অবস্থা ছিলো বা বর্তমানেই বা আছে। তোমার সমস্যা শুরু যেটা দিয়ে, পরীক্ষা হঠাৎ খারাপ হওয়া। এটারই বা কারণ  কি? তুমি লিখেছো, তুমি ভালো পড়াশুনা করতে তাহলে হঠাৎ তোমার দুটি পরীক্ষা কেন খারাপ হলো সেসবও ক্লিয়ার না।

সবশেষে বলতে হয়, পাবলিক ভার্সিটিতে ভর্তি হতে পারো নাই। মনে হচ্ছে এটা যতটা না তোমার বাবা-মার সমস্যা, তার চেয়ে তোমার নিজের কাছেই সমস্যাটা বেশী। কোচিংয়ে কেনো তোমাকে ভর্তি করানো হয় নাই। কোনটি আসলে কতটুকু, জানলে তোমাকে সঠিক দিক নির্দেশনা দিতে সহায়ক হতে পারে। তবে সব সমস্যা বাধা দূর করে একটি সুন্দর জীবন পাও, বা জীবনকে যেখানে আছো সেখান থেকেই উপভোগ করো এটা নিশ্চিত করা খুবই দরকার। আপতত টেবলেট মিরাপ্রো ৭.৫ মিগ্রা রাতে একটা করে শুরু করতে পারে। সেই সাথে সরাসরি দেখা করাটাও জরুরি। তা না হলে অনেক সময় ভিতরের কোনো একটা কিছু মিস হয়ে যাওয়ার সেই সাথে ভুল বোঝাবুঝির সম্ভাবনাও তৈরী হতে পারে। ধন্যবাদ।

ইতি,
প্রফেসর ডা. সালাহ্উদ্দিন কাউসার বিপ্লব
  • চেয়ারম্যান ও অধ্যাপক - মনোরোগবিদ্যা বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।
  • সেকশন মেম্বার - মাস মিডিয়া এন্ড মেন্টাল হেলথ সেকশন অব 'ওয়ার্ল্ড সাইকিয়াট্রিক এসোসিয়েশন'।
  • কোঅর্ডিনেটর - সাইকিয়াট্রিক সেক্স ক্লিনিক (পিএসসি), মনোরোগবিদ্যা বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।
  • সাবেক মেন্টাল স্কিল কনসাল্টেন্ট - বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্রিকেট টিম।
  • সম্পাদক - মনের খবর। চেম্বার তথ্য - ক্লিক করুন