মূল পাতা / প্রতিদিনের চিঠি / কারো অসন্তুষ্টির আশংকা থাকলে আমি কোনো সিদ্ধান্ত নিতে সাহস পাই না

কারো অসন্তুষ্টির আশংকা থাকলে আমি কোনো সিদ্ধান্ত নিতে সাহস পাই না

আমাদের প্রতিদিনের জীবনে ঘটে নানা ঘটনা, দুর্ঘটনা। যা প্রভাব ফেলে আমাদের মনে। সেসবের সমাধান নিয়ে ‘প্রতিদিনের চিঠি’ বিভাগ। এই বিভাগে প্রতিদিনই আসছে নানা প্রশ্ন। যেগুলোর উত্তর দিচ্ছেন অধ্যাপক ডা. সালাহ্‌উদ্দিন কাউসার বিপ্লব। আমাদের আজকের প্রশ্ন পাঠিয়েছেন আরিফুল ইসলাম (ছদ্মনাম) –

প্রতিদিনের চিঠি

চিঠি

স্যার, আমি কোনো কাজ করতে গেলেই মনে হয় কেউ আমার প্রতি অসন্তুষ্ট হচ্ছে, তাই কোনো কাজই ঠিকমত করতে পারি না। সারাদিন একা একা থাকতাম! তারপরও মনে হতো কেউ আমার দিকে চোখ রাখছে। আমি এইচএসসি পরিক্ষা দিচ্ছি, কিন্তু দুই বছরে কোনো ভাল প্রস্তুতি নিতে পারিনি। অল্প ক্লাস করেছি কিন্তু কারো সাথে ভাল কমিউনিকেট করতে পারি নি। পরীক্ষা দিতে গেলেই সবকিছু নতুন মনে হচ্ছে এবং খুব নার্ভাস হয়ে যাচ্ছি।  এতটাই যে হাত পা কাপা শুরু হয়, ভালভাবে লিখতে পারিনা।  একবার পরীক্ষা না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, তাতে স্ট্রেস আরও বেড়ে যায়! এই পরিস্থিতিতে আমি কি করবো? এটা কি নতুন কোনো সমস্যা নাকি হিস্টেরিয়া বা ওসিডির কোনো উপসর্গ? আমি অস্থির হয়ে যাচ্ছি। কারণ পুরাতন সমস্যাগুলি (বিশেষ করে ডিপ্রেশন ও দুশ্চিন্তা) নতুন রূপে দেখা দিচ্ছে। কাউকে বলতেও পারি না,  কারণ মনেহয় সে এটাকে পরীক্ষা না দেয়ার অজুহাত মনে করবে, আমি আগেই বলেছি কারো সামান্যতম অসন্তুষ্টির আশংকা থাকলেই আমি কোনো সিদ্ধান্ত নিতে সাহস পাই না। আমি আমার পারসোনালিটির ব্যাপারে খুব সচেতন।  আমি খুবই ভয় পাচ্ছি! মনে হয়, অসমাধানযোগ্য কোনো সমস্যায় পতিত হবো! আমার ভয়টা যদি  অমূলক না হয় এবং সত্যিই যদি কোনো নতুন সমস্যার সম্ভাবনা থাকে, সে ব্যাপারে সাবধানতা অবলম্বনের কৌশল কি?

উত্তর

তোমার এই সমস্যা দূর করার জন্য শুধু প্রতিদিনের চিঠি পর্বে উত্তর দিয়ে তার সমধান করা কঠিন। একটা বিষয় বলা জরুরি, এই প্রশ্ন উত্তর পর্বে শুধু মাত্র সমস্যার প্রাথমিক একটা সমাধান বা ধারণা দেয়া হয়। এখানে সবকিছুর সঠিক উত্তর বা সমাধান দেয়া সম্ভব নয়। তাই তোমার যে সমস্যা তার সঠিক বা সমাধানযোগ্য উত্তর দেয়া কঠিন। আমি তোমাকে অনুরোধ করবো তোমার কাছাকাছি কোনো একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সাথে সরাসরি দেখা করো। সম্ভব হলে আমাদের সাথেও যোগাযোগ করতে পারো।

তোমার কিছু শারীরিক পরীক্ষাও করাতে হতে পারে। যেমন থাইরয়েড, হরমোন সহ আরও কিছু পরীক্ষা। আপতত টেবলেট প্রোপ্রানল ১০ মিগ্রা, সকালে ও রাতে একটা করে এবং টেবলেট নেক্সিটাল ৫ মিগ্রা, একটা করে সকালে নাস্তার পর খেতে পারো।সোশ্যাল স্কিল ট্রেনিং বলতে একটা বিষয় আছে যেটি তোমার জন্য দরকার হবে। আর সাইকোথেরাপিও লাগবে। সুতরাং তুমি সরাসরি দেখা করে চিকিৎসা নেও সেটাই ভালো হবে।

পরীক্ষা না দেয়া বা না দেয়ার চিন্তা করাটা তোমার জন্য ভালো হবে না। ভালোভাবে পরীক্ষা দাও সেই কামনা করছি।

ইতি,
প্রফেসর ডা. সালাহ্উদ্দিন কাউসার বিপ্লব
  • চেয়ারম্যান ও অধ্যাপক - মনোরোগবিদ্যা বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।
  • সেকশন মেম্বার - মাস মিডিয়া এন্ড মেন্টাল হেলথ সেকশন অব 'ওয়ার্ল্ড সাইকিয়াট্রিক এসোসিয়েশন'।
  • কোঅর্ডিনেটর - সাইকিয়াট্রিক সেক্স ক্লিনিক (পিএসসি), মনোরোগবিদ্যা বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।
  • সাবেক মেন্টাল স্কিল কনসাল্টেন্ট - বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্রিকেট টিম।
  • সম্পাদক - মনের খবর। চেম্বার তথ্য - ক্লিক করুন