মূল পাতা / প্রতিদিনের চিঠি / জন্মগতভাবে তোতলামী’তে ভুগছি

জন্মগতভাবে তোতলামী’তে ভুগছি

আমাদের প্রতিদিনের জীবনে ঘটে নানা ঘটনা, দুর্ঘটনা। যা প্রভাব ফেলে আমাদের মনে। সেসবের সমাধান নিয়ে ‘প্রতিদিনের চিঠি’ বিভাগ। এই বিভাগে প্রতিদিনই আসছে নানা প্রশ্ন। যেগুলোর উত্তর দিচ্ছেন অধ্যাপক ডা. সালাহ্‌উদ্দিন কাউসার বিপ্লব। আমাদের আজকের প্রশ্ন পাঠিয়েছেন আসাদ (ছদ্মনাম) –

প্রতিদিনের চিঠি

চিঠি

আমার বয়স ৩৪ বছর। বিবাহিত এবং চাকরিজীবী। বাড়ি সাতক্ষীরাতে। আমি জন্মগত ভাবে তোতলা।  ৪ বছর আগে আমি resistant depression এ আক্রান্ত হয়ে, বিভিন্ন মানসিক ডাক্তারের শরণাপন্ন হই। যখন একের পর এক ডিপ্রেশনের ঔষধ খাবার পরও কোন ঔষধ স্যুট হয়নি, তখন (২ বছর আগে) আমি ডাক্তারের পরামর্শে “ঢাকা জাতীয় মানসিক হাসপাতালে” ভর্তি হই ECT therapy নেবার জন্য। Therapy নেবার পর ডাক্তাররা আমাকে Sertealine গ্রুপের ঔষধ 150 mg + Olanzapine 5 mg কনটিনিউ করতে বলে। এবং বলে আস্তে আস্তে তোতলামিও সেরে যাবে। এখন আমার কোন ডিপ্রেশন নাই, আল্লাহ্ খুব ভাল রেখেছে আমাকে। কিন্তু আমার তোতলামি কমেনি, বরং দিন দিনে বাড়ছে, যেটা আমার কর্মক্ষেত্রের জন্য খুব বিপদজনক। উল্লেখ্য যে, আমার চাকরির জন্য এখন আমার পক্ষে speech therapy নেওয়া সম্ভব না। আমি এ পর্যন্ত তোতলামির কোন ঔষধ খাইনি। স্যার, দয়াকরে আমাকে সাহয্য করলে উপকৃত হব।

উত্তর

ধন্যবাদ আপনাকে। আপনার বিষণ্ণতা কেটে গেছে। এটা অবশ্যই ভালো খবর। তোতলামো বিষয়টি অনেক সময় বিষণ্ণতা বা উদ্বিগ্নতা রোগের সাথে সম্পর্কযুক্ত হয়। অনেক সময় বিষণ্ণতার সাথে সাথে তোতলামী বাড়ে। যাহোক ,আপনার যেহেতু বিষণ্ণতা কেটে গেছে সেটা ভালোই হয়েছে।

তোতলামী সাধারনত ছোট বয়স ২ তেকে ৫ বছরে শুরু হয়। অনেক সময় এমনি এমনি সেরে যায়। যাদের থেকে যায় তাদেরকে ওষুধ সহ বিভিন্ন রকম পদ্ধতির ভিতর দিয়ে যেতে হয়। তার ভিতর আসল হলো উদ্বিগ্নতা কামানো। সাধারনত যে সব অবস্থায় টেনশন বেশি হয়, তখনই তোতলামী বাড়তে পারে। অফিস কিংবা বক্তৃতায় এ কারণেই বাড়তে পারে। নিজেকে বিশেষ অবস্থায় শান্ত রাখার চেষ্টা করতে হবে। এর জন্য টেবলেট আরপোলাক্সা ২০ সকালে একটা করে নাস্তার পর খেতে পারেন। সেই সাথে কিছু নিয়ম মানতে পারেন-

  • খেয়াল করবেন কখন কখন বা কোন কোন অবস্থায় তোতলামী বাড়ে। সেসব খেয়াল করে টুকে রাখতে পারেন। সেসব মুহুর্তগুলির জন্য আলাদা প্রস্তুতি নেন।
  • কিছু কিছু শব্দ সমস্যা করে, সেসব বুঝে শুনে বাদ দেয়ার চেষ্টা করবেন।
  • নিজেকে সংযত করে, ধীরে ধীরে কাজে আগান। বিশেষ করে মানুষের সামনে।
  • নিজে নিজে, যখন একা থাকেন, তখন বিষয়গুলি প্র্যাকটিস করতে পারেন।
  • একা থাকা অবস্থায় দ্রুত কথা বলার চেষ্টা করবেন। যত বেশি করবেন ততই উপকারি হতে পারে।
  • বিশেষ অবস্থায় হাত দিয়ে বা শরীরের অন্য অংশ দিয়ে আপনার ভাষা প্রকাশ করতে পারেন। অবশ্যই মার্জিত ভংগিতে।

আপাতত এসব করতে পারেন। বয়স্কদের জন্য স্পিস থেরাপী কাজ  করবে। সুযোগ পেলে সেই সাহায্যও নিতে পারেন। ভালো থাকবেনে।

**দ্রষ্টব্য: প্রতিদিনের চিঠির সকল উত্তর কেবল প্রাথমিক পরামর্শ হিসেবে দেওয়া হয়।  চিকিৎসকের সাথে সাক্ষাতে চূড়ান্ত পরার্মশ  নিন।

ইতি,
প্রফেসর ডা. সালাহ্উদ্দিন কাউসার বিপ্লব
  • চেয়ারম্যান ও অধ্যাপক - মনোরোগবিদ্যা বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।
  • সেকশন মেম্বার - মাস মিডিয়া এন্ড মেন্টাল হেলথ সেকশন অব 'ওয়ার্ল্ড সাইকিয়াট্রিক এসোসিয়েশন'।
  • কোঅর্ডিনেটর - সাইকিয়াট্রিক সেক্স ক্লিনিক (পিএসসি), মনোরোগবিদ্যা বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।
  • সাবেক মেন্টাল স্কিল কনসাল্টেন্ট - বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্রিকেট টিম।
  • সম্পাদক - মনের খবর। চেম্বার তথ্য - ক্লিক করুন