মূল পাতা / প্রতিদিনের চিঠি / দুই বছর আগে আমার ব্রেকাপ হয়

দুই বছর আগে আমার ব্রেকাপ হয়

আমাদের প্রতিদিনের জীবনে ঘটে নানা ঘটনা, দুর্ঘটনা। যা প্রভাব ফেলে আমাদের মনে। সেসবের সমাধান নিয়ে ‘প্রতিদিনের চিঠি’ বিভাগ। এই বিভাগে প্রতিদিনই আসছে নানা প্রশ্ন। যেগুলোর উত্তর দিচ্ছেন অধ্যাপক ডা. সালাহ্‌উদ্দিন কাউসার বিপ্লব। আমাদের আজকের প্রশ্ন পাঠিয়েছেন রুপন্তী (ছদ্মনাম) –

প্রতিদিনের চিঠি

চিঠি

আমি আমার কথাগুলো কাউকে বুঝাতে পারি না। দুই বছর আগে আমার ব্রেকাপ হয়। ব্রেকাপের কারণ হিসেবে সবসময় আমি আমার ফ্যামিলির করা কবিরাজিকে দায়ী করি। ব্রেকাপের পর মানসিকভাবে প্রচণ্ড বিধ্বস্ত হয়ে পরি। সাইকিয়াট্রিকের পরামর্শে কাউন্সেলিং, ডিবিটি নিয়েছি। আর এন্টি ডিপ্রেশন, এন্টি সাইকোটিক+ঘুমের ওষুধ খাচ্ছি। জিদ করে ডাক্তার দেখাই না প্রায় এক বছর। কারণ আমি বুঝি আমি কবিরাজির জট টা খুলতে চাই। বারবারই আমি যেতে চাই সেই কবিরাজের কাছে। কিন্তু কেউ পাত্তাই দেয় না। মূলত মান সম্মানের ভয়ে সেখানে নিয়ে যায় না। কিন্তু আমি বুঝি সেখানে একটে বড় ঘাপলা আছে। শুনতে হাস্যকর লাগলেও আমি বিশ্বাস করতে বাধ্য হয়েছি কবিরাজি সত্য হয়। আমার কাউন্সেলরও পরামর্শ দিয়েছিলেন যেন আমাকে সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়। পরিবারের লোকজন আশ্বাস দিয়েছিল নিয়ে যাবে, কিন্তু যায়নি। আমি যতই চাই এসব আর ভাবব না। কিন্তু লাভ হয় না। সারাক্ষন আমার মাথায় এটা ঘুরতে থাকে। ঘুমালেও সারাক্ষন দুঃস্বপ্ন দেখি। হাজারবার পড়লেও পড়া মনে রাখতে পারি না। খুব শর্ট টাইমে অনেক কিছু ভুলে যাই। জানি না এভাবে কতদিন বাঁচব। বাইরে থেকে যারা দেখে আমাকে কেউ বুঝবে না। কারণ আমি হাসি,হাসাই,মোটিভেট করি। আর ভেতরে আমি যন্ত্রণায় দগ্ধ হয়ে চুপসে থাকি। কি করব আমি?

উত্তর

আপনার সমস্যার পিছনে কবিরাজি কিভাবে দায়ী এটা ঠিক বোঝা গেলনা। যদি বিষয়টি আরও খুলে বলতেন তাহলে ভালো হতো। আপনি লিখেছেন সেখানে একটা বড় ঘাপলা আছে, সেটা কেমন? আরেক জায়গায় লিখেছেন, ‘ আমি যতই চাই এসব আর ভাবব না। কিন্তু লাভ হয় না। সারাক্ষন আমার মাথায় এটা ঘুরতে থাকে। ঘুমালেও সারাক্ষন দুঃস্বপ্ন দেখি’। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। এমন আরও কোনো বিষয় আছে কি যেটা মাথায় ঢুকলে আর বের হতে চায় না। বা চিন্তা না করতে চাইলেও বারবার চলে আসে! বর্তমানে আপনি বেশ কষ্টে আছেন সেটা বোঝা যাচ্ছে। দুঃস্বপ্ন দেখেন, মনে থাকেনা- ভুলে যান এবং কতদিন বাঁচবেন সেটা নিয়েও চিন্তিত। আপনি বর্তমানে কি করতে চাইছেন? মনে হচ্ছে আপনি শুচিবাই এবং বিষণ্ণতা দুটি রোগেই একসাথে ভুগছেন। যে ওষুধগুলি খাচ্ছেন সেসবের পরিমাণ বা ডোজ কত সেটা জানা দরকার ছিলো। মনে হচ্ছে ওষুধ ও চিকিৎসা ঠিকই আছে। তবে ডোজ কি জানতে পারলে ভালো হতো। আপনি আপনার চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ রাখেন, সেটাই ভালো হবে। অনেক সময় এই চিকিৎসায় সমস্যা দূর হতে বা কমে আসতে সময় লাগে। ধৈর্য রাখতে হবে। পরিবারের মানুষজনের চিকিৎসার সাথে যুক্ত রাখা ভালো হবে। যেসব বিষয়ে আপনার কনফিউশান আছে সেসব বিষয়ে জিজ্ঞেস করে ক্লিয়ার হয়ে নিবেন। আশা করি সমস্যার সঠিক সমাধান পাবেন। তারপরও যদি দরকার মনে করেন, তাহলে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন। আপনার সুস্থতা ও সুন্দর ভবিষ্যৎ কামনা করছি। ভালো থাকবেন।

ইতি,
প্রফেসর ডা. সালাহ্উদ্দিন কাউসার বিপ্লব
  • চেয়ারম্যান ও অধ্যাপক - মনোরোগবিদ্যা বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।
  • সেকশন মেম্বার - মাস মিডিয়া এন্ড মেন্টাল হেলথ সেকশন অব 'ওয়ার্ল্ড সাইকিয়াট্রিক এসোসিয়েশন'।
  • কোঅর্ডিনেটর - সাইকিয়াট্রিক সেক্স ক্লিনিক (পিএসসি), মনোরোগবিদ্যা বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।
  • সাবেক মেন্টাল স্কিল কনসাল্টেন্ট - বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্রিকেট টিম।
  • সম্পাদক - মনের খবর। চেম্বার তথ্য - ক্লিক করুন