মূল পাতা / প্রতিদিনের চিঠি / কোন ঔষধ খেলে আমি স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারব?

কোন ঔষধ খেলে আমি স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারব?

আমাদের প্রতিদিনের জীবনে ঘটে নানা ঘটনা, দুর্ঘটনা। যা প্রভাব ফেলে আমাদের মনে। সেসবের সমাধান নিয়ে ‘প্রতিদিনের চিঠি’ বিভাগ। এই বিভাগে প্রতিদিনই আসছে নানা প্রশ্ন। যেগুলোর উত্তর দিচ্ছেন অধ্যাপক ডা. সালাহ্‌উদ্দিন কাউসার বিপ্লব। আমাদের আজকের প্রশ্ন পাঠিয়েছেন আরিফুর রহমান (ছদ্মনাম) –

প্রতিদিনের চিঠি

চিঠি

আমার বয়স ৪০ বছর। আমি প্রায় ১৫ বছরধরে rivotirl.5 খাচ্ছি ডাক্তারেরপরামর্শ মত। আমার সমস্যা ছিল অস্থিরতা, ভয়, ঘুমের সমস্যা, মাথা ভার মনে না থাকা ইত্যাদি। বর্তমানে আমার ভয় কিছুটা কমলেও অন্য সমস্যা রয়ে গেছে সঙ্গে কিছু সমস্যা যোগ হয়েছে। আমি এই ঔষধটা মাঝে মাঝে বাদ দিই। কিন্তু তখন আমার খুব খারাপ লাগে। এখন আমি কি করলে এই ঔষধ টা বাদ দিতে পারবো। এবং কোন ঔষধ খেলে আমি স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারব দয়া করে জানাবেন। আমি খুব খারাপ সময় পার করছি। আমাকে সাহায্য করেন দয়া করে।

উত্তর

ডাক্তার আপনাকে ১৫ বছর যাবত রিভোট্রিল খেতে বলছেন, এটা কি সত্যি? কোন ডাক্তার আপনাকে ১৫ বছর যাবত এই টেবলেট চালিয়ে যেতে বলেছে? অনেক সময় আমরা দেখি, কোনো একজন ডাক্তার যখন সাধারণ চিকিৎসার প্রয়োজনে এমন ওষুধ দেয় আর রোগী সেটা খেয়ে একটু স্বস্থি বোধ করে, রোগী তখন নিজেই নিজের মতো চালিয়ে যেতে থাকে। তাতে করেই সমস্যা বাধে। আসক্ত হয়ে যায়। নিজে নিজে ওষুধ খাওয়ার প্রবণতাও এই সমস্যার বড় কারণ।

ক্লোনাজিম হলো এই রিভোট্রিলের মূল ওষুধ। টানা কয়েকমাস, প্রয়োজন ছাড়া (এমন কি প্রয়োজনমতো) খেলে এটি নেশার মতো অবস্থা তৈরী করে। তখন না খেয়ে থাকাটা কঠিন হয়ে দাড়ায়। আপনার ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- আপনি যে কারণে খেয়েছিলেন সে সমস্যা কি সমধান হয়েছে? হয়ে থাকলে ভালো, না হলে আপনি আবার ডাক্তারের কাছে যাবেন এবং সেই সমস্যার কথা বলবেন। সেই সাথে রিভোট্রিলের (ডিপেনডেন্সির) আসক্তির কথাও বলবেন। আর যদি মনে করে আপনার সমস্যা দূরে হয়েছে তবে আপনি এর পরিবর্তে টেবলেট- কোয়াইট (tab- quiet) ২৫ মিগ্রা, প্রতিদিন রাতে একটা করে খান। সেই সাথে রিভোট্রিল ধীরে ধীরে কমিয়ে নিয়ে আসেন। প্রথমে আধা করে পরে চার ভাগের একভাগ করে রাতে খান। এভাবে কমিয়ে আনতে পারেন।

তারপরও অসুবিধা হলে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন।

ইতি,
প্রফেসর ডা. সালাহ্উদ্দিন কাউসার বিপ্লব
  • চেয়ারম্যান ও অধ্যাপক - মনোরোগবিদ্যা বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।
  • সেকশন মেম্বার - মাস মিডিয়া এন্ড মেন্টাল হেলথ সেকশন অব 'ওয়ার্ল্ড সাইকিয়াট্রিক এসোসিয়েশন'।
  • কোঅর্ডিনেটর - সাইকিয়াট্রিক সেক্স ক্লিনিক (পিএসসি), মনোরোগবিদ্যা বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।
  • সাবেক মেন্টাল স্কিল কনসাল্টেন্ট - বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্রিকেট টিম।
  • সম্পাদক - মনের খবর। চেম্বার তথ্য - ক্লিক করুন