মূল পাতা / প্রতিদিনের চিঠি / অপরিচিত কারো সামনে লিখতে গেলে হার্টবিট বেড়ে যায়

অপরিচিত কারো সামনে লিখতে গেলে হার্টবিট বেড়ে যায়

আমাদের প্রতিদিনের জীবনে ঘটে নানা ঘটনা, দুর্ঘটনা। যা প্রভাব ফেলে আমাদের মনে। সেসবের সমাধান নিয়ে ‘প্রতিদিনের চিঠি’ বিভাগ। এই বিভাগে প্রতিদিনই আসছে নানা প্রশ্ন। যেগুলোর উত্তর দিচ্ছেন অধ্যাপক ডা. সালাহ্‌উদ্দিন কাউসার বিপ্লব। আমাদের আজকের প্রশ্ন পাঠিয়েছেন নূর হোসেন (ছদ্মনাম) –

 

 

প্রতিদিনের চিঠি

চিঠি

আমার বয়স ২৫ বছর। অপরিচিত কারো সামনে লিখতে গেলেই আমার হার্টবিট অনেক বেড়ে যায়, বুকে ধড়ফড় শুরু হয়। তখন হাত কাঁপা শুরু হয়, ফলে লিখতে অনেক কষ্ট হয় , প্রচুর ঘাম হয়। এমনিতে লিখতে সমস্যা হয় না, আমি একটা ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে বি,বি,এ এবং এম,বি,এ শেষ করেছি। বর্তমানে ২ মাস যাবত একটা প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরী করছি, আমার স্যারেরা যখন আমাকে লিখতে বলে তখনই হাত কাঁপা শুরু হয়ে যায়, ফলে অনেক লজ্জায় পড়ে যায়, এই জন্য চাকরীটা ছেড়ে দিতে চাচ্ছি।  এই সমস্যার জন্য অনেক আগে একজন মানসিক রোগের ডাক্তার দেখিয়েছিলাম, তিনি পরামর্শ দিয়েছিলেন বুদ্ধি করে কাজ করতে। আর দুইটা ঔষধ দিয়েছিলেন, একাটা ভিটামিন,অপরটা সম্ভবত ঘুমের ঔষধ হবে নামটা মনে নেই। কোন লাভ হয় নাই, এখন আমি কি করতে পারি?

উত্তর

তোমার রোগের নাম সোশাল ফোবিয়া বা সোশাল এনজাইটি ডিজঅর্ডার। এটি একটি বিব্রতকর রোগ বা সমস্যা। তবে অবশ্যই বড় কিছু না। দেখা যায় কোনো একটি অবস্থা যখন মানুষ কাউকে কোনোভাবে অবজার্ব করছে, করতে বা করতে পারে বা পরীক্ষা করছে এমন অবস্থায সমস্যাটি হয়। সমস্যাটি ওই অবস্থায়ই তৈরী হয় এবং ওই অবস্থা শেষ হওয়ার সাথে সাথে আবার ঠিক হয়ে যায়। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়টা পার করা অনেক সময় বিশাল একটা ব্যপার হিসেবে দাঁড়ায়। তাই চিকিৎসার প্রধান ফোকাস বা কেন্দ্র হচ্ছে, নির্দিষ্ট সময়টিতে কিভাবে ভালো থাকা যায়। বা ওই সময়টা কিভাবে সুন্দর করে পার করা যায়। সেই সাথে এনজাইটি দূর করার জন্য সামান্য কিছু ওষুধ খাওয়াও দরকার হয়। আপনি ওষুধ, ট্যাবলেট ইসিটা ৫ মিগ্রা, সকালে একটা, এবং ট্যাবলেট প্রোপানল ১০ মিগ্রা, সকালে এবং রাতে একটা করে খাওয়া শুরু করেন।

কোন কোন অবস্থায় এমন হয়, সেটার একটা লিস্ট করে ফেলতে পারেন। তারপর সবচেয়ে সহজভাবে যেটা ঠিক করতে পারবেন বলে মনে করেন সেটা আগে ঠিক করতে পারেন। কিাভাবে করবেন- সিচ্যুয়েশনগুলি ঠিক করার পর নির্দিষ্ট ঘটনাটি ইমেজ করতে পারেন। চোখ বন্ধ করে নিজের মতো চুপচাপ জায়গায় বসে পুরো বিষযটি ভাববেন এবং সেই সাথে যত মানুষ বা যারাই চিন্তায় আসে আসুক। আপনি আপনার সম্পূর্ণ কাজটিই চিন্তার ভিতর শেষ করবেন। এভাবে প্রথমে একটা কাজই দিনে কয়েকবার করে কয়েক সপ্তাহ করতে থাকুন। একসময় দেখবেন বিষযটি আপনার নিয়ন্ত্রনে আসেব। যদি প্রথমেই নিয়ন্ত্রেনে আসতে না চায় ভয় পাওয়ার কিছু নাই। আরো কিছু সময় লাগান। এবং অবশ্যই একটা একটা করে কাজ করতে চেষ্টা করুন। একবারে একটার বেশী কাজের চেষ্টা না করাই ভালো হবে। তাতে কাজ না হলে বা সুযোগ থাকলে সরাসরি দেখা করেও চিকিৎসা নিতে পারেন। শুভ কামনা।

ইতি,
প্রফেসর ডা. সালাহ্উদ্দিন কাউসার বিপ্লব
  • চেয়ারম্যান ও অধ্যাপক - মনোরোগবিদ্যা বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।
  • সেকশন মেম্বার - মাস মিডিয়া এন্ড মেন্টাল হেলথ সেকশন অব 'ওয়ার্ল্ড সাইকিয়াট্রিক এসোসিয়েশন'।
  • কোঅর্ডিনেটর - সাইকিয়াট্রিক সেক্স ক্লিনিক (পিএসসি), মনোরোগবিদ্যা বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।
  • সাবেক মেন্টাল স্কিল কনসাল্টেন্ট - বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্রিকেট টিম।
  • সম্পাদক - মনের খবর। চেম্বার তথ্য - ক্লিক করুন