আমি বাঁচতে চাই

আমাদের প্রতিদিনের জীবনে ঘটে নানা ঘটনা, দুর্ঘটনা। যা প্রভাব ফেলে আমাদের মনে। সেসবের সমাধান নিয়ে ‘প্রতিদিনের চিঠি’ বিভাগ। এই বিভাগে প্রতিদিনই আসছে নানা প্রশ্ন। যেগুলোর উত্তর দিচ্ছেন অধ্যাপক ডা. সালাহ্‌উদ্দিন কাউসার বিপ্লব। আমাদের আজকের প্রশ্ন পাঠিয়েছেন নাহিদুল হক (ছদ্মনাম) –

প্রতিদিনের চিঠি

চিঠি

শ্রদ্ধেয় স্যার আমি দীর্ঘ ৮ বছর ধরে মানসিকভাবে অসুস্থ। শত অসুস্থতা ও প্রতিকূলতা নিয়ে এবছর র্ফাষ্ট ক্লাস পেয়ে অনার্স পাশ করেছি। লিখে যাচ্ছি দৈনিক জাতীয় পত্রিকায়। গত বছর ওবায়দুল কাদের স্যারের হস্তক্ষেপে ঢাকা মেডিকেল থেকে আমি চিকিৎসা নিয়েছিলাম। কিন্তু সুস্থ হতে পারিনি। আমার পরিবার ও আমার কেয়ার করছে না। তারা মানসিক রোগ চিনেই না। পরিবারের সকল সদস্য আমার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে। আমি বাহিরে বের হই না কারণ লোকে মানসিক রোগীকে পাগল বলে। তাতে আমি খুব কষ্ট পাই। এবছর একটা জবে ঢুকেছিলাম, কিন্তু মানসিক সমস্যার কারণে মাস দুয়েক আগে সেই জবটি ছাড়তে বাধ্য হই। এখন আমি অসুস্থতা নিয়ে বাড়িতে খুব কষ্টে আছি, যা আপনাকে বুঝাতে পারব না। আমার পরিবারে সবাই নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত, আমার মৃত্যু হলে তাদের সমস্যা নেই। মূলত আমি সোমাটোফর্ম ডিসঅর্ডার নামে জটিল মানসিক রোগে ভুগতেছি। আর এই মানসিক সমস্যার কারণে শারীরিক সমস্যাও হয়েছে। এখন আমি চরম কষ্টে আছি। শ্রদ্ধেয় স্যার আমি আপনার ছোট ভাইয়ের মত। দয়া করে আমার এই সমস্যার সময়ে আপনি একটু আমার পাশে এগিয়ে আসুন। দেখেন আমি আত্মহত্যা প্রবণ। আমার করার কিছু নেই। আপনি যদি কোনো সংগঠনকে আমার সমস্যাটা জানাতে পারতেন তাহলে হয়তো বা তারা অনেকে আমার পাশে দাঁড়াতো। আগের মত গুছিয়ে লেখার ক্ষমতা নাই। আমাকে বাঁচান। কিছু একটা করেন। আমি বাঁচতে চাই। এখানে থাকলে আমি পাগল হয়ে মারা যাবো। আমার কষ্টটা আপনি একটু বুঝুন। এত কষ্ট সহ্য হচ্ছে না।

উত্তর

তুমি পড়াশুনা করেছো, অনার্স পাশ করেছো, ফার্স্ট ক্লাস পেয়েছো সবই খুবই ভালো খবর। তারচেয়েও ভালো খবর তুমি তোমার রোগ বিষয়ে জেনেছ বুঝেছো এবং এটার চিকিৎসা কেমন হওয়া উচিত, কোথায় হয়, কারা করে সেটাও জেনেছ। ছোটবেলা থেকে এতদূর আসার পিছনে তোমার পরিবার নিশ্চয়ই তোমাকে অনেক সাহায্য করেছে। তারা নিশ্চয় তাদের সার্মথ্যের যতটুকু সম্ভব সবটুকু দিতে কার্পণ্য করে নাই। এখন তারা তোমাকে দেখছে পড়াশুনা জানা শিক্ষিত ছেলে হিসেবে। তারা তোমার কাছ থেকে এখন একটা কিছু আশা করবে সেটাই স্বাভাবিক। পরিবার তোমাকে সাহায্য করেছে সত্যি। ‍কিন্তু, তুমি তোমার নিজের যোগ্যতা আছে বলেই এতটুকু আসতে পরেছে এবং ফার্স্ট ক্লাস পেয়েছো। এখন তোমাকে নিজের যোগ্যতই ভালো থাকার ব্যবস্থা করতে হবে। চিকিৎসা হোক আর যাই হোক তোমার যোগ্যতায় সেটা করে নিজে ভালো থাকতে হবে এবং অন্যদেরে কাছেও তা প্রমান করতে হবে। তুমি লিখেছো, সংগঠন কিংবা রাষ্ট্র যদি তোমার দাযিত্ব নেয়, এটা কেমন কথা। রাষ্ট্র তো সারাদেশের দায়িত্বই নেয়। তোমার দায়িত্ব আলাদা করে কি নিবে? এই চিন্তাই বা তুমি করছো কেন? তোমার রোগ, কষ্ট, সমস্যা অবশ্যই দূর হোক সেটা চাই। তাছাড়া তোমাকে চিনে জানে এমন কেউ যদি তোমার চিকিৎসার বিষয়ে এগিয়ে আসে সেটাও খারাপ না। এমন বলে কয়েক অন্যের সাহায্য নেয়ার মানসিকতা বোধ হয় ভালে কিছু নয়। যা হোক, আমরা চাই তুমি দ্রুত সুস্থ হও, ভালো হও। নিজের জন্য পরিবারের জন্য তোমার যোগ্যতাকে তুমি সর্ম্পূন-পূর্ণ কাজে লাগাও। তুমি আগে কি চিকিৎসা নিয়েছো জানি না। তোমার চিকিৎসার ব্যয়ও খুব বেশী হওয়ার কথা না (তুমি যে রোগের কথা বলেছো সেটা যদি ঠিক হয়)। যদি ঢাকায় থাকো তবে, বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগ বিদ্যাবিভাগের আউটডোরে দেখা করো। আর যদি ঢাকার বাইরে থাকো তবে তোমার নিকটতম কোনো একটি মেডিকেল কলেজে দেখা করো। আমাদের সাথে রোগুলার যোগাযোগ রাখেতে পারো। তোমার ঘুম কেমন হয় বোঝা গেলো না। তবে আপাতত টেবলেট মিটাপ্রেক্স ১৫ মিগ্রা, একটা করে রাতে শুরু করো। দ্রুত কোনো একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সাথে সরাসরি দেখা করো। নিজে নিজের যোগ্যতার প্রমান করো, ভালো থাকো, পরিবারের সবার কাছে দ্রুত গ্রহণযোগ্যতা পাও; সেই কামনা করি।

ইতি,
প্রফেসর ডা. সালাহ্উদ্দিন কাউসার বিপ্লব
  • চেয়ারম্যান ও অধ্যাপক - মনোরোগবিদ্যা বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।
  • সেকশন মেম্বার - মাস মিডিয়া এন্ড মেন্টাল হেলথ সেকশন অব 'ওয়ার্ল্ড সাইকিয়াট্রিক এসোসিয়েশন'।
  • কোঅর্ডিনেটর - সাইকিয়াট্রিক সেক্স ক্লিনিক (পিএসসি), মনোরোগবিদ্যা বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।
  • সাবেক মেন্টাল স্কিল কনসাল্টেন্ট - বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্রিকেট টিম।
  • সম্পাদক - মনের খবর। চেম্বার তথ্য - ক্লিক করুন