মূল পাতা / প্রতিদিনের চিঠি / আপুর সব সময় মনে হচ্ছে মারা যাবে

আপুর সব সময় মনে হচ্ছে মারা যাবে

আমাদের প্রতিদিনের জীবনে ঘটে নানা ঘটনা,দুর্ঘটনা। যা প্রভাব ফেলে আমাদের মনে। সেসবের সমাধান নিয়ে ‘প্রতিদিনের চিঠি’ বিভাগ। এই বিভাগে প্রতিদিনই আসছে নানা প্রশ্ন। যেগুলোর উত্তর দিচ্ছেন অধ্যাপক ডা. সালাহ্‌উদ্দিন কাউসার বিপ্লব। আমাদের আজকের প্রশ্ন পাঠিয়েছেন রাকিবুল আলম (ছদ্মনাম) –

প্রতিদিনের চিঠি

চিঠি

আসসালামু আলাইকুম স্যার, আমার এক বোন আছে বয়স ২৮। আমার আপু পাঁচ মাস আগে এক রাতে একজনের মারা যাবার কথা শুনে প্যানিক ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত হয়েছে। সেই সময় আমার আপু অস্বাভাবিক আচরণ করছিলো এবং বলছিল অস্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস হচ্ছে, বুকে তীব্র ব্যথা করে, তীব্র আতঙ্ক ও মাথা ঝিমঝিম করে, মাথা ঘোরানো বা পড়ে যাচ্ছেন এমন অনুভূতি হচ্ছে, ঝাঁকুনি ও ঘাম দিচ্ছে, পেটে ব্যথা ও বমিভাব, উত্তাপ অনুভব করা,নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলা এবং আমাদেরকে বার বার বলছিলো সে মারা যাবে। স্যার, আমরা সে সময় বোনকে অনেক ডাক্তার দেখিয়েছি। রোগ নির্ণয় করার জন্য অনেক পরীক্ষা করিয়েছি। মহান আল্লাহ রহমতে সকল কিছু ভাল আসছে। কিন্তু আমার বোন এখনো সুস্থ হয়নি। এখন ও কোন স্বাভাবিক ঘটনাকে স্বাভাবিক ভাবে নিতে পারেনা। এম্বুলেন্সের আওয়াজ, কোন মানুষের অসুস্থতার কথা শুনলে বোনের তীব্র বুকে ব্যথা করে, তীব্র আতঙ্কিত হয় ও মাথা ঝিমঝিম করে, মাথা ঘোরানো বা পড়ে যাচ্ছে এমন অনুভূতি হচ্ছে। এবং আপুর সব সময় মনে হচ্ছে মারা যাবে। স্যার, আমার আপু আগের মতো স্বাভাবিক হতে পারছে না। এখন অনেক কিছু এড়িয়ে চলে। আপু সব সময় আতঙ্কিত হয়ে থাকে এবং পেরেশানি দূর করতে চিন্তাতে থাকে। আপু যখন প্যানিকে আক্রান্ত হয় তখন প্রেসার খুব নিচে নেমে যায়।  যদি কোন পরামর্শ দেন তাহলে খুব কৃতজ্ঞ থাকবো।

উত্তর

আপনি ঠিকই ধরেছেন, আপনার আপুর প্যানিক ডিজঅর্ডারই হয়েছে। এটির খুবই সুন্দর এবং স্বাভাবিক সহজ চিকিৎসা আছে। আপনারা কোথায় থাকেন জানা গেলো না। ঢাকায় থাকলে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন। উনিতো আর ইচ্ছা করে এমন করেন না। আবার ইচ্ছা করে সেসব সমস্যা যাবেও না। দরকার যথাযথ চিকিৎসার। আজকাল প্যানিক ডিজঅর্ডারের চিকিৎসা বেশীরভাগ মানুষই ভালো থাকে। আগে দেখা যেত এমন রোগ নিয়ে বিভিন্ন ডাক্তারের কাছে বারবার যাচ্ছে, অনেক পরীক্ষা নিরীক্ষা করাচ্ছে, কিছু পাওয়া যেত না, তখন রোগী বা রোগীর আত্মীয়স্বজন আরো হতাশ হতো। এক একবার এটা করার সময় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হতো। টাকা নষ্ট হতো, সেই সাথে সবাই মিলে পেরেশানি। প্যানিক ডিজঅর্ডার তো মানসিক রোগ। এখানে পরীক্ষা নিরীক্ষায় তো কিছু পাওয়া যাবে না, এটাই তো স্বাভাবিক। তবে কোনো কোনো শারীরিক রোগের কারণেও এমন লক্ষণ হতে পারে। সেসব খেয়াল রাথতে হবে বা সেসব সমস্যা আছে কিনা তা যাচাই বাছাই করে দেখতে হবে। এখন উনি কি কোনো চিকিৎসা পাচ্ছেন কিনা বা ওষুধ খাচ্ছেন কিনা। সেটা জানা দরকার ছিলো। অন্য কোনো ওষুধ না খেলে, আপাতাত টেবলেট আরপোলাক্স ২০ মিগ্রা, সকালে একটা করে, নাস্তার পর খাওয়া শুরু করে দিতে পারেন। সেই সাথে টেবলেট এপিট্রা ০.৫ মিগ্রা, সকালে অর্ধেক রাতে অর্ধেক খেতে পারেন। ওষুধের পাশাপাশি আরো কিছু পরামর্শ দরকার হবে। যত দ্রুত সম্ভব, সরাসরি দেখা করতে বলবেন।

ইতি,
প্রফেসর ডা. সালাহ্উদ্দিন কাউসার বিপ্লব
  • চেয়ারম্যান ও অধ্যাপক - মনোরোগবিদ্যা বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।
  • সেকশন মেম্বার - মাস মিডিয়া এন্ড মেন্টাল হেলথ সেকশন অব 'ওয়ার্ল্ড সাইকিয়াট্রিক এসোসিয়েশন'।
  • কোঅর্ডিনেটর - সাইকিয়াট্রিক সেক্স ক্লিনিক (পিএসসি), মনোরোগবিদ্যা বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।
  • সাবেক মেন্টাল স্কিল কনসাল্টেন্ট - বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্রিকেট টিম।
  • সম্পাদক - মনের খবর। চেম্বার তথ্য - ক্লিক করুন