সারাক্ষণ মৃত্যুভয় কাজ করে

আমাদের প্রতিদিনের জীবনে ঘটে নানা ঘটনা,দুর্ঘটনা। যা প্রভাব ফেলে আমাদের মনে। সেসবের সমাধান নিয়ে ‘প্রতিদিনের চিঠি’ বিভাগ। এই বিভাগে প্রতিদিনই আসছে নানা প্রশ্ন। যেগুলোর উত্তর দিচ্ছেন । আমাদের আজকের প্রশ্ন পাঠিয়েছেন লিটন সরকার (ছদ্মনাম)-

প্রতিদিনের চিঠি

চিঠি

আমার বয়স ২৪ বছর। গত মে মাসের শেষের দিকে একদিন রাতে আমার খুব খারাপ লাগা শুরু হয়। তখন রাত আনুমানিক ১ টা। আমি আবার পান খাইতাম। ঘাম হচ্ছিলো অনেক আর অস্থির লাগছিলো। মনে করলাম পানের সুপারি গরম পরছে তাই এই সমস্য। রাতে ফ্যান পুল করে দিয়ে ঘুমালাম। এর পরের দিন সব ওকে হয়ে যায়। কিন্তু কিছু দিন পর পর জিনিস গুলো রিপিট হতে থাকে। হার্টবিট বেড়ে যায়, অস্থির লাগে,মাথা ঘোরাতো এরকম আরো অনেক রকম প্রবলেম। ১০/২০ দিন পরে মনে করলাম পেশার সমস্যা। কিন্তু যত দিন যাচ্ছিলো তত জিনিস গুলো খারাপ হচ্ছিলো। পরে একজন কার্ডিওলজিষ্ট দেখালাম। উনি ইন্ডোভার ১০mg আর একটা গ্যাস্টিকের ঔষুধ দিয়েছিলেন। যখন ভালো হচ্ছিলো না তখন পুরা শরীর চেকাপ করালাম। কোন রোগ নেই। কিন্তু সারাক্ষণ মৃত্যুর ভয় আর বড় কোন অসুখ হবে বা দম বন্ধ হয়ে যাবে বা মেডিকেলাইস্ট করাতে হবে এরকম চিন্তা ঘুর পাক খেতে লাগে। পরে ভয় ভয়ে ইন্ডিয়া যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। কি যেন মনে করে আমি আবার একজন ডাক্তারের শরণাপন্ন হই। ওনি রিবোট্রিল ০.৫ দিল আর একজন সাইকোলজি ডাক্তার কে রেফার করে দিল। পরে ওখানে গিয়ে আর অনলাইনে সিন্টম গুলো সার্চ দিয়ে জানতে পারলা এটা প্যানিক। আমি গত ৭/৮ মাস ধরে এরকম। কিন্তু গত ২ মাস ধরে ঔষুধ খাচ্ছি মকনসিক ডাক্তার থেকে। ইন্ডোভার ১০ ডিপ্রাম ২০ ডেলি ৩ টা করে। রাতে ২ টা সকালে ১ টা। প্রোডেপ ২৫mg সকালে ১ টা করে। আমি গত ২ মাসে ২ বার ডাক্তারের কাছে গেছি ২ বার।  এখন হয়তো আগের মতো নেই কিন্তু এখনো মৃত্যুর ভয়,খারাপ খবর শুনলে ভয়,দম বন্ধ হওয়াে ভয়,বড় কোন রোগ হচ্ছে এটার ভয় আর গাড়িতে চড়লে ভয় হয়। এখন আমার কি করা উচিৎ? আমি কি ডাক্তার থেকে চিকিৎসা চালিয়ে যাবো? আর আমি কি পুরোপুরি সুস্থ সুন্দর আগের মতো জীবন ফিরে পাবো? কি করলে আমি খুব দ্রুত সুস্থ হবো আর তার জন্য আমার কি করা উচিৎ?

উত্তর

আপানি ঠিকই ধরেছেন। এটা আপনার প্যানিক ডিজঅর্ডার। আপনাকে যে ডাক্তার সাহেব মানসিক রোগের ডাক্তার দেখাতে বলেছেন উনাকে ধন্যবাদ। অনেক ডাক্তার আছেন যারা পরীক্ষা নিরীক্ষা করে কোনো সমস্যা না পেলে বলে দেয়, ‘আপনার কোনো রোগ নেই। আপনি হয়তো একটু চিন্তা বেশী করছেন তাই এমন সমস্যা। চিন্তা কমান ঠিক হয়ে যাবে। আসল কথা হলো, রোগ হলে সেটার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করাতে হবে। চিন্তা কি কেউ ইচ্ছা ক’রে করে? আপনি ঠিক করেছেন, সঠিক চিকিৎসকের কাছেই গেছেন এবং যথাযথ চিকিৎসাই নিচ্ছেন। এই চিকিৎসাই আপনি চালিয়ে যান। আপনার মানসিক রোগের চিকিৎসক যেভাবে বলে সেটাই করেতে থাকুন। তাড়াহুড়া করা যাবেনা। এটা তাড়াহুড়ার রোগ না। একটু ধৈর্য্য ধরেই চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে। আপনি আবার আগের মতোই সব কাজ করতে পারবেন, কোনো অসুবিধা হবেনা। শুধু সঠিক ভাবে চিকিৎসা করাতে হবে। আপানার আগাম সুস্বাস্থ্য কামনা করছি।

ইতি,
প্রফেসর ডা. সালাহ্উদ্দিন কাউসার বিপ্লব
  • চেয়ারম্যান ও অধ্যাপক - মনোরোগবিদ্যা বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।
  • সেকশন মেম্বার - মাস মিডিয়া এন্ড মেন্টাল হেলথ সেকশন অব 'ওয়ার্ল্ড সাইকিয়াট্রিক এসোসিয়েশন'।
  • কোঅর্ডিনেটর - সাইকিয়াট্রিক সেক্স ক্লিনিক (পিএসসি), মনোরোগবিদ্যা বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।
  • সাবেক মেন্টাল স্কিল কনসাল্টেন্ট - বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্রিকেট টিম।
  • সম্পাদক - মনের খবর। চেম্বার তথ্য - ক্লিক করুন