মূল পাতা / প্রতিদিনের চিঠি / স্ত্রীর সিকিউরিটি নিয়ে বেশি চিন্তা করি

স্ত্রীর সিকিউরিটি নিয়ে বেশি চিন্তা করি

আমাদের প্রতিদিনের জীবনে ঘটে নানা ঘটনা,দুর্ঘটনা। যা প্রভাব ফেলে আমাদের মনে। সেসবের সমাধান নিয়ে মনের খবর এর বিশেষ আয়োজন ‘প্রতিদিনের চিঠি’ বিভাগ। এই বিভাগে প্রতিদিনই আসছে নানা প্রশ্ন। যেগুলোর উত্তর দিচ্ছেন । আমাদের আজকের প্রশ্ন পাঠিয়েছেন আকবর আলী (ছদ্মনাম)-

প্রতিদিনের চিঠি

চিঠি

আসসালামু আলাইকুম। আমি ৩ বছর আগে একজন psychiatrist এর পরামর্শ নিয়ে relafin(50mg), clofranil(25mg), qutap (25) খেয়েছিলাম। আমি ওষুধ খাওয়া বন্ধ করেছি ২ বছর আগে। আমি কক্সবাজার চলে আসাতে ওনার পরামর্শ নিয়ে ওষুধ বন্ধ করতে পারি নি। এখন আমার কাছে মনে হচ্ছে সমস্যাগুলো পুনরায় আগের রুপ ধারণ করতেছে, আমি আমার সমস্যাগুলো বলছি-

আমি একজনকে ভালবাসি,আমাদের রিলেশন ৭ বছর হয়েছে, এখন আমরা স্বামী-স্ত্রী, আমাদের বিয়ে হয়েছে ৪ বছর আগে, তবে আমি স্ত্রীকে উঠিয়ে এনেছি ১.৫ বছর আগে। আমি চাকরির সুবাদে কক্সবাজার আছি। আমার স্ত্রী আমার গ্রামের বাড়ি থাকে। আমার মূলত সমস্যা হল স্ত্রীর সিকিউরিটি নিয়ে বেশি চিন্তা করি, অনেক সময় অহেতুক চিন্তা করি, কোন একটা ঘঠনা যেমন আমি স্ত্রীকে নিয়ে কোথাও বেড়াতে গেলে সবসময় খেয়াল রাখি কোন ছেলের সাথে ধাক্কা লাগল কিনা, কোন সমস্যা হল কিনা, এমন টাইপের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সারাদিন ভাবি, ভেবে দেখি কোন ঝামেলা হয় নি, তারপরেও বারবার ভেবে আমি সিউর হতে থাকি কোন সমস্যা হয়েছে কিনা। যদিও আসলে বাস্তবে কোন সমস্যা হয় নি। মূলত কোন ছেলের সাথে ধাক্কা লাগল কিনা এবং কোন ছেলে আমার স্ত্রীকে অপ্রস্তুত অবস্থায় দেখে ফেলে কিনা এইসব নিয়ে চিন্তা করি।  শুধু তাই না,আমি যদি স্বপ্নেও যদি স্ত্রীর সমস্যা হয়েছে এমন কিছু দেখি তারপরেও বারবার ভাবি। আমি একটানা এক ভাবনা নিয়ে পড়ে থাকি, এই ভাবনা শেষ হলে কিছুক্ষণ ঠিক থাকি, পরে অন্য চিন্তা আসে।

আমি পুনরায় ওষুধ গুলো নিতে চাচ্ছি, আমার কাছে আগের প্রেসক্রিপশন আছে, আমি প্রফেসর ডা. শাহ আলম স্যারকে দেখছিলাম। আমি উনার পরামর্শ অনুযায়ী কতদিন ওষুধ খাব? এবং ওষুধগুলো কিভাবে বন্ধ করব? বন্ধ করার সময় কি অন্য ওষুধ খেতে হবে নাকি এই ওষুধের ডোজ কমিয়ে বন্ধ করব?

উত্তর

আপনি দেরী না করে আবার চিকিৎসা শুরু করতে পারেন। খুব সম্ভব আপনি ওসিডি বা অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিজঅর্ডারে ভুগছেন। এটি এমন একটি রোগ যার সমস্যা বা সিম্পটম মাঝে মাঝে ফেরত আসতে পারে। সুতরাং ভয় পাবার কিছু নেই। বরং বিষয়টিকে বুঝে ঠান্ডামনে মোকাবেলা করাটাই ভালো। ওসিডি-তে যা হয়, দেখা যায় যুক্তিছাড়া বা কারণ ছাড়াই একটি চিন্তা বারবার মনে আসে। মন থেকে সারতে চাইলেও সেটা সরতে চায় না। আপনার স্ত্রীর সিকিউরিট নিয়ে আপনার মনে যা তৈরী হয়েছে। আপানি কক্সেসবাজারেও ডাক্তার পাবেন। ইচ্ছা করলে চট্রগ্রাম গিয়ে শাহ আলম স্যারকে আবার দেখিয়ে নিতে পারেন। তবে একেবারে ডাক্তার না দেখিয়ে বা কারো সাথে আবার কথা না বলে ওষুধ শুরু করাটা ঠিক হবে না। আর ওষুধ বন্ধ করার বিষয়ে আপনাকে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ীই বন্ধ করতে হবে। নিজে নিজে কমিয়ে আনাটা বুদ্ধিমানের কাজ হবেনা। তবে বিষয়টি এমনই ওষুধ ধীরে ধীরে কমাতে হয়।

আর যদি কোনো উপায় না থাকে তবে, আগের প্রেসক্রিপশনের ওষুধ শুরু করতে পারেন এবং যতদ্রুত সম্ভব একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সাথে দেখা করবেন। ভালো থাকবেন। দরকারে আমাদের সাথে যোগাযোগ করবেন।

ইতি,
প্রফেসর ডা. সালাহ্উদ্দিন কাউসার বিপ্লব
  • চেয়ারম্যান ও অধ্যাপক - মনোরোগবিদ্যা বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।
  • সেকশন মেম্বার - মাস মিডিয়া এন্ড মেন্টাল হেলথ সেকশন অব 'ওয়ার্ল্ড সাইকিয়াট্রিক এসোসিয়েশন'।
  • কোঅর্ডিনেটর - সাইকিয়াট্রিক সেক্স ক্লিনিক (পিএসসি), মনোরোগবিদ্যা বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।
  • সাবেক মেন্টাল স্কিল কনসাল্টেন্ট - বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্রিকেট টিম।
  • সম্পাদক - মনের খবর। চেম্বার তথ্য - ক্লিক করুন