মূল পাতা / প্রতিদিনের চিঠি / ফেইল করার ভয়ে পরীক্ষা দেওয়া বন্ধ করে দিই

ফেইল করার ভয়ে পরীক্ষা দেওয়া বন্ধ করে দিই

আমাদের প্রতিদিনের জীবনে ঘটে নানা ঘটনা,দুর্ঘটনা। যা প্রভাব ফেলে আমাদের মনে। সেসবের সমাধান নিয়ে মনের খবর এর বিশেষ আয়োজন ‘প্রতিদিনের চিঠি’ বিভাগ। এই বিভাগে প্রতিদিনই আসছে নানা প্রশ্ন। যেগুলোর উত্তর দিচ্ছেন । আমাদের আজকের প্রশ্ন পাঠিয়েছেন আশিকুর রহমান (ছদ্মনাম)-

প্রতিদিনের চিঠি

চিঠি

আসসালামু-আলাইকুম। আমার বয়স ২০ বছর। আমি একটি সরকারি মেডিকেল কলেজে দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। আমি ছোট বেলা থেকেই অ্যাজমার পেশেন্ট এবং অনেক মোটা। ওজন কমানোর চেষ্টা করলেও কমাতে না পেরে হাল ছেড়ে দিয়েছি। প্রথম দিকে ইন্জিনিয়ারিং পড়ার ইচ্ছা থাকলেও পরিবারের ইচ্ছায় মেডিকেলে ভর্তি হয়। আমার স্লিপ অ্যাপ্নিয়া থাকার কারণে কলেজ হোস্টেলে উঠতে দ্বিধাবোধ করি এবং বাসার সম্মতিতে রুম ভাড়া নিয়ে থাকার সিদ্ধান্ত নিই। প্রথম দিকে পড়াশোনার চাপ থাকলে নিজেকে মানিয়ে নিই এবং ভালোভাবেই পড়াশোনা করতে থাকি । কিন্তু ধীরে ধীরে পড়াশোনা এবং পরীক্ষার চাপ বেড়ে যাওয়ার ফলে চিন্তায় পড়ে যাই। কার্ড পরীক্ষায় ফেল আসে, সেইম পরীক্ষায় চেষ্টা পরেও বারবার ফলাফল খারাপ আসে। ধীরে ধীরে মনে হতাশা চলে আসে, পরীক্ষাভীতি চলে আসে। ফেইল করার ভয়ে পরীক্ষা দেওয়া বন্ধ করে দিই। এভাবে ২-৩ মাস চলে যায় এবং নতুন উদ্যমে পড়াশোনা শুরু করি। কিন্তু শীতকালে অ্যাজমার সমস্যা বেড়ে যাওয়ার কারণে প্রায়ই অসুস্থ থাকি। কলেজের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক স্যারের পরামর্শ নেই। পড়াশোনায় পুনরায় পিছায় পড়ার কারণে পরীক্ষায় বসতে পারিনা, অসুস্থতা বেড়ে যাওয়ায় বাসায় চলে যাই। পুনরায় বন্ধুদের থেকে অনেক পিছিয়ে পড়ি এবং হতাশা বাড়তে থাকে, পড়াশোনার চাপ বাড়তে থাকে, দুশ্চিন্তা বাড়তে থাকে, ঘুমাইতে পারিনা, পড়া মনে রাখতে পারিনা এবং অবসাদ চলে আসে। পরীক্ষা আসলে টেনশন বেড়ে যায়, বুকের মধ্যে কেমন জানি ফাঁকা ফাঁকা ভাব চলে আসে। বাসায় বিষয়গুলো জানাই কিন্তু সাপোর্ট পাই না, বকাঝকা শুনতে হয়, বন্ধুদেরও তেমন হেল্প পাই না এবং নিজেকে এখন অপরাধী মনে হয়। মাঝেমধ্যে মনে হয় সুইসাইডই এসবকিছু থেকে মুক্তি দিতে পারে। আমার স্বাভাবিক জীবনযাপনে ব্যাঘাত ঘটছে এবং আমি এসব কিছু থেকে মুক্ত হয়ে স্বাভাবিক জীবনেে ফিরে আসতে চাই।

উত্তর

তোমার সমস্যাটি পড়ে বোঝা যাচ্ছে তুমি আসলেই বেশ প্যারেসানিতেই আছো। এবং বর্তমানে তুমি বিষণ্ণতায় ভুগছো। তোমার উচিত হবে দ্রুত চিকিৎসার ব্যাবস্থা করা। তোমার পরিবার যদি এতে যুক্ত হয়, খুবই ভালো হবে। পরিবারের সহায়তা বা সহযোগিতা পেলে তোমার সমন্বিত চিকিৎসা করানো সুবিধা হবে।

তোমার যে সমস্যাগুলির কথা তুমি উল্লেখ করেছো, তার প্রত্যেকটারই গুরুত্ব আছে। এজমা নিজেই অনেক সময় কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তার সাথে এজমার চিকিৎসায় অনেক সময় স্টেরয়েড ইউজ করা হয়। স্টেরয়েড বিষণ্ণতার একটি কারণ। সুতরাং পড়াশোনা, শারীরিক সমস্যা, ওষুধ সেই সাথে ধীরে ধীরে বন্ধুহীন হয়ে যাওয়া সবকিছুই তোমার জন্য অসুবিধা। যত দ্রুত চিকিৎসা করাবে ততদ্রুতই এই সমস্যা থেকে তুমি বের হয়ে আসতে পারবে। তুমি যে মেডিকেলে পড় সেখানকার মানসিক বিভাগে গিয়ে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সাথে যোগাযোগ করে চিকিৎসা নাও। তোমার  যেহেতু স্লিপ এ্যাপনিয়া আছে, সেটার চিকিৎসা করানোও দরকার। আজকাল অনেক সুন্দর সুন্দর ডিভাইস পাওয়া যায় সেসবও তোমার জন্য উপকারী হতে পারে। সাইকোথেরাপী বা কাউন্সিলিংও প্রয়োজন হবে। বিষণ্নতার জন্য বা রোগের জন্য তোমার মুভমেন্ট যতটা কমে যাবে তোমার রোগ কিন্তু আরো পেয়ে বসবে। তুমি যদি মনে করো তবে আপাতাত টেবলেট আরপোলাক্স ২০ মিগ্রা. সকালে একটা নাস্তার পর শুরু করতে পারো। এটা কাজ করতে কয়েকদিন লাগবে। প্রয়োজনে ডোজ আরো বাড়াতে হবে। তোমার মন খারাপও কমে আসবে, সেইসাথে মৃত্যু চিন্তাও আর থাকবেনা। আবার যখন ভালোলাগা শুরু হবে দেখবা সবাই তোমাকে আগের মতেই সাপোর্ট দেয়া শুরু করেছে। তোমারও তখন ভালো লাগবে।  দ্রুত ভালো হয়ে পড়াশোনা শুরু করো সেই কামনা করছি। দরকার হলে আবার যোগাযোগ করতে পারো।

ইতি,
প্রফেসর ডা. সালাহ্উদ্দিন কাউসার বিপ্লব
  • চেয়ারম্যান ও অধ্যাপক - মনোরোগবিদ্যা বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।
  • সেকশন মেম্বার - মাস মিডিয়া এন্ড মেন্টাল হেলথ সেকশন অব 'ওয়ার্ল্ড সাইকিয়াট্রিক এসোসিয়েশন'।
  • কোঅর্ডিনেটর - সাইকিয়াট্রিক সেক্স ক্লিনিক (পিএসসি), মনোরোগবিদ্যা বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।
  • সাবেক মেন্টাল স্কিল কনসাল্টেন্ট - বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্রিকেট টিম।
  • সম্পাদক - মনের খবর। চেম্বার তথ্য - ক্লিক করুন