স্ট্রেসকী? জানেন তো! প্রতিকারের উপায়? 1

স্ট্রেসকী? জানেন তো! প্রতিকারের উপায়?

স্ট্রেস শব্দটির সাথে আমরা সবাই কমবেশি পরিচিত। তবে এখনো অনেকেইবহুল-ব্যবহৃত এই কথাটির মানে বোঝেন না। জেনে রাখা ভালো, বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে রোজকার কাজের চাপ, দুশ্চিন্তা, অ্যাংজাইটিকে কিন্তু স্ট্রেস বলেনা। কোনো চাপকে স্ট্রেস হিসেবে তখনই গণ্য করা হয়, যখন সেটা একটি মাত্রা ছাড়িয়ে যায়।

স্ট্রেসকে শব্দের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা কঠিন কাজই বটে। শব্দটি ল্যাটিন শব্দ ‘স্ট্রিং’ (যার অর্থ ‘টু ড্র টুগেদার’) থেকে এসেছে। সাধারণত মানুষের মনের অবস্থা – স্বাভাবিক, ও অস্বাভাবিক – এ দুই ধরনের হয়ে থাকে।স্ট্রেস বা মানসিক চাপের ফলে মনের অবস্থা এই দুইয়ের মাঝামাঝি পর্যায়ে চলে যায়। অর্থাত্‍ পারিপার্শ্বিক নানা চাপে মন তার স্বাভাবিকতা
হারিয়ে ফেলে। কিন্তু এই অবস্থাকে আবার অস্বাভাবিকও বলা যায় না।

বিশ্বের প্রায় সব দেশের মানুষই স্ট্রেসের সমস্যায় ভুগছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রায়৭০% প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষ ভাষ্য- তারা স্ট্রেসে আক্রান্ত। এ পরিসংখ্যান দেখে ভয় পাওয়ার কিছু নেই।খুব সহজেই স্ট্রেস থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। আর সেই উপায় রয়েছে আপনার হাতের নাগালেই –

১. স্ট্রেস থেকে মুক্তি পাওয়ার সবচেয়ে ভালো মাধ্যম শারীরিক ব্যায়াম।মাত্র ১৫ মিনিট হাঁটাই আপনাকে সারাদিন কাজের শক্তি জোগাবে। ব্যায়াম আপনার শরীরের স্ট্রেস হরমোন (যেমন কোরিটিসোল) কমাতে সাহায্য করে। সেই সঙ্গে ব্যায়াম শরীরে রাসায়নিক পদার্থ এনডোরিফিন মুক্তকরতে সহায়তাকরে, যা আপনার মেজাজ-মর্জি ভালো রাখে এবং প্রাকৃতিক ব্যথানাশক হিসেবে কাজ করে। এছাড়া, শারীরিক ব্যায়ামের কারণে আপনার ঘুমও অনেক ভালো হবে, যা আপনার মনকে চাপমুক্ত ও শান্ত রাখতে সাহায্য করবে।

২. চা, কফি, চকোলেটও এনার্জি ড্রিংকসে রয়েছে ক্যাফেইন।অতিরিক্ত ক্যাফেইন পান বা খাওয়া আপনার স্ট্রেস বাড়াতে পারে। তবে অল্প পরিমাণ ক্যাফেইন পান আপনার মন-মেজাজ ভালো করতে পারে।

৩. স্ট্রেস কমাতে খেতে পারেন চুইংগাম। কী! অবাক হচ্ছেন! তবে বিজ্ঞানের ভাষায়, স্ট্রেস কমানোর খুব সহজ ও দ্রুততম উপায় হলো চুইংগাম চিবানো। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায়, চুইংগাম চিবানো ব্যক্তিরা অন্যদের তুলনায় বেশি প্রফুল্ল থাকেন এবং তাদের মানসিক চাপও কম অনুভব করেন।

৪. বন্ধুবান্ধব বা পরিবারের সাথে সময় কাটালে স্ট্রেস কমে। একটি গবেষণায় দেখা যায়, যে নারীরা বন্ধু বা সন্তানদের সাথে সময় কাটান তাদের শরীরেঅ ক্সিটসিনের উপস্থিতি বেশি, যা তাদেরকে স্ট্রেসমুক্ত থাকতে সাহায্য করে।
আরেকটি গবেষণায় দেখা যায়, নারী-পুরুষদের মধ্যে যাদের সামাজিক সম্পৃক্ততা কম তারা অন্যদের তুলনায় বেশি বিষণ্ণতা ও অ্যাংজাইটিতে ভোগেন।

৫. স্ট্রেসমুক্ত থাকতে হাসুন, যখন তখন মন খুলে হাসতে থাকুন।হাসি খুব ভালো স্ট্রেস রিলিফের কাজ করে। এছাড়া, এটি আপনার রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়াবে। সুতরাং, আর দেরি কেন! কমেডি ধাঁচের মুভি কিংবা টিভি শো দেখতে বসে যান অথবা এমন বন্ধুর সাথে সময় কাটান, যে আপনাকে হাসাতে পারে।

৬. না বলতে শিখুন। অতিরিক্ত কাজের চাপ আপনার স্ট্রেস বা মানসিক চাপ বাড়ায়।আপনার যতটুকু সামর্থ্য আছে ঠিক ততটুকু কাজই করুন। এতে আপনার স্ট্রেসও বাড়বেনা, কাজটিও সুন্দর গুছিয়ে সম্পন্ন হবে।

৭. সব বয়সের মানুষের কাছেই স্ট্রেস কমানোর সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম যোগ ব্যায়াম।বিভিন্ন গবেষণায় এটি প্রমাণিত যে যোগব্যায়াম মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখে।এটি স্ট্রেস হরমোন কমাতে সাহায্য করে এবং রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখে।

৮. স্ট্রেস বা মানসিক চাপের অন্যতম লক্ষণ অস্বাভাবিক রক্তচাপ ও হৃদস্পন্দন। ধীর-লয়ের গান আপনার রক্তচাপ ও হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক রাখে। ফলে আপনি থাকবেন স্ট্রেসমুক্ত।

৯. আলিঙ্গন, চুমু ও শারীরিক সম্পর্কও আপনাকে স্ট্রেসমুক্ত থাকতে সাহায্য করবে।সুন্দর শারীরিক সম্পর্ক আপনার শরীরে স্ট্রেস হরমোন করটি সেলের মাত্রা কমিয়ে অক্সিটসিনের মাত্রা বাড়ায়। অক্সিটসিন আপনার উচ্চরক্তচাপ ও হৃদস্পন্দন নিয়ন্ত্রণে রাখে।মজার ব্যাপার হলো – শুধু মানুষই নয়, শিম্পাঞ্জি ও তাদের স্ট্রেস কমাতে একে অপরকে আলিঙ্গন করে।

১০. সাধারণত স্ট্রেসের ফলে হার্টবিট বেড়ে যায়।চোখটা বন্ধ করে কয়েকবার জোরে জোরে প্রশ্বাস নিন। এটি আপনার হার্ট-রেট কমিয়ে দেবে, আপনাকে শান্ত করে তুলবে।

অনুবাদ: আছিয়া নিশি

সূত্র: হেলথলাইন ডটকম

https://www.healthline.com/nutrition/16-ways-relieve-stress-anxiety#section11

https://my.clevelandclinic.org/health/articles/11874-stress