মূল পাতা / ফিচার / দুঃখ-কষ্ট জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ

দুঃখ-কষ্ট জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ

কিভাবে জীবনের কঠিন সময়গুলো থেকে শিক্ষা নেওয়া যায়-

আজ আমার ফোন থেকে কিছু ভয়েজ ক্লিপ মুছে ফেলেছি। সেগুলো আমার মায়ের শেষ সময়ের, যখন তিনি হাসপাতালে ছিলেন। রেকর্ডিং গুলোতে দেখা গেছে তিনি একই কথা বার বার বলেছেন। তিনি মারা যাচ্ছিলেন এবং তার খুব কষ্ট হচ্ছিল।

মা ছিলেন  আমার সব কিছু। আমার সুখ, দুঃখ, আনন্দ, কষ্ট সব কিছুর সাথে তিনি জড়িয়ে ছিলেন। এখন আমি আমার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সাথে ব্যস্ত থাকার চেষ্টা করি। তাদের সব কাজে সামিল হই। কিন্তু সব কিছু মুছে ফেলার পর ও তার কণ্ঠ আমার কানে এখনো বাজে।

এরপর কিছু দিন আমি মঞ্চ নাটক দেখতে গিয়েছি। সামনে দুজন ৬২ বছরের বৃদ্ধ অভিনেতা। যারা বয়সের ভারে ভারাক্রান্ত,তবু সাহসী, ক্ষমাশীল, সমব্যথী এবং ধৈর্যশীল। তারা মানুষ।

এইত গত দিন একজন রুগীর সাথে দেখা হল। আমার মনে পড়ে এক সময় তিনি কতটা চটপটে ছিলেন। আজ তিনি হুইল চেয়ারে চলাফেরা করছেন। আমরা দুজন দুজনকে দেখলাম। চার জোড়া চোখ জলে ভরে উঠেছিল।

তিনি আমার কাছে চোখ মোছার জন্য টিস্যু  চাইলেন। আমি দেখলাম তিনি আজ এই ছোট্ট কাজটি করতেও শারীরিকভাবে অক্ষম।

আমরা সেদিন একসাথে অনেকটা সময় কাটিয়েছিলাম। আমি তাকে জানালাম মৃত্যুর পর আমি আমার শরীর একটি মেডিকেল স্কুলে দান করার ব্যবস্থা করেছি। আমার কথা তাকেও অনুপ্রাণিত করল। আমি কথা দিয়েছিলাম এই কাজের জন্য প্রয়োজনীয় সাহায্য আমি তাকে করব।

কিছু সময় পরে আমার মনে হল এখন প্রস্থান করা প্রয়োজন। তিনি তার হুইল চেয়ারটিকে ঘরের দিকে ঘোরালেন। আমিও সাথে সাথে কিছু দূর গেলাম। ফিরে আসার আগে আমি তার কাঁধে হাত রেখেছিলাম। আমার দিকে তিনি ফিরে তাকাতে পারেননি। তিনি অক্ষম ছিলেন। কিন্তু কোন ভদ্রতার দরকারও বোধ করি সেদিন ছিলনা। মন সব কিছু বুঝে নিয়েছিল।

অনুবাদ করেছেন: প্রত্যাশা বিশ্বাস প্রজ্ঞা

তথ্যসূত্র: সাইকোলজি টু’ডে, https://www.psychologytoday.com/intl/blog/adaptations/201908/suffering-can-be-meaningful-part-life