মূল পাতা / ফিচার / আত্মহত্যা প্রতিরোধে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা 

আত্মহত্যা প্রতিরোধে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা 

প্রতি ৪০ সেকেন্ডে একজন মানুষ আত্মহত্যার মাধ্যমে জীবনের অবসান ঘটায়।

প্রতিবছর আত্মহত্যার মাধ্যমে মৃত্যুবরণ করে প্রায় আটলক্ষ মানুষ । ১৫ থেকে ২৯ বয়সীদের মৃত্যুর দ্বিতীয় কারণ আত্মহত্যা।

আত্মহত্যার কোনো দেশ-কাল নেই। শতকরা ৭৯ ভাগ আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে নিম্ন এবং মধ্য আয়ের দেশে।উচ্চ আয়ের দেশে বিষণ্ণতা এবং মাদকাসক্তি থেকে জন্ম নেয়া মানসিক রোগের কারণে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে থাকে।

নানামুখী চাপ সামলাতে না পারা,অর্থনৈতিক কারন, সম্পর্কের ভাঙন কিংবা দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতার কারণেও আত্মহত্যার পথ বেছে নেন অনেকে। এছাড়া সংঘাত, সহিংসতা, বিচ্ছিন্নতা এবং নির্যাতনের অভিজ্ঞতাও মানুষকে আত্মহত্যামুখী করে অনেক সময়।

বৈষম্যপূর্ণ ক্ষুদ্রগোষ্ঠী যেমন : উদ্বাস্তু, অভিবাসী, সমকামী, উভকামী, তৃতীয়লিঙ্গ এবং কারাবন্দিদের মধ্যে আত্মহত্যার হার বেশি।

পূর্বে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে এমন ব্যক্তিরা আত্মহত্যার উচ্চ ঝুঁকিতে থাকে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নে আত্মহত্যাকে অগ্রাধিকার দেয়।

ডব্লিউএইচও এর বৈশ্বিক আত্মহত্যা-প্রতিবেদন “Preventing suicide: a global imperative “ প্রকাশ হয় ২০১৪ সালে। লক্ষ্য ছিল, আত্মহত্যা প্রতিরোধের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আত্মহত্যা এবং আত্মহত্যা-প্রচেষ্টা বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা।

বিভিন্ন দেশের আত্মহত্যা প্রতিরোধ

ডব্লিউএইচও মেন্টাল হেল্থ গ্যাপ অ্যাকশন প্রোগামের (mhGAP) অগ্রগণ্য শর্ত হচ্ছে আত্মহত্যা। যেটি ২০০৮ সালে শুরু হয়।

এছাড়াও মেন্টাল হেলথ অ্যাকশন প্ল্যান ২০১৩-২০২০অনুযায়ী, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সদস্য রাষ্ট্রসমূহ ২০২০ সালের মধ্যে আত্মহত্যার হার ১০ ভাগ কমিয়ে আনার লক্ষ্যে কাজ করতে বদ্ধ পরিকর।

মানসিক স্বাস্থ্য দিবস ২০১৯ এ আত্মহত্যা প্রতিরোধের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বিশ্ব সাস্থ্য সংস্থার তথ্য মতে, বাংলাদেশে একলাখে ৮ জন আত্মহত্যার মাধ্যমে মারা যায়।

অধিকাংশ দেশে নারীদের তুলনায় প্রায় তিনগুণ পুরুষ আত্মহত্যা করেন। কিন্তু বাংলাদেশে পুরুষের তুলনায় নারীর আত্মহত্যার হার বেশি।

মিডিয়ায় কেমন হবে আত্মহত্যার সংবাদ পরিবেশন:

Preventing suicide: a resource for media professionals – update 2017 অনুযায়ী আত্মহত্যা প্রতিরোধের কার্যক্রম হিসেবে বাংলাদেশ সরকার আত্মহত্যার সংবাদ পরিবেশনের একটি নির্দেশিকা প্রণয়ন করে। নির্দেশিকা অনুযায়ী-

সংবাদ পরিবেশনকালে যা করতে হবে

  • আত্মহত্যার ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিরা কোথায় কিভাবে সাহায্য পেতে পারেন সে বিষয়ে সঠিক তথ্য প্রদান করুন
  • আত্মহত্যা এবং আত্মহত্যা প্রতিরোধ সম্পর্কিত সঠিক তথ্য দিয়ে জনগণকে সচেতন করুন
  • কিভাবে মানসিক চাপ বা আত্নঘাতী চিন্তা মোকাবেলা করা যায় এবং কিভাবে সাহায্য পাওয়া যায় সে সম্পর্কে সহায়ক সংবাদ প্রকাশ করুন
  • সেলিব্রেটি/বিখ্যাত ব্যক্তিদের আত্মহত্যার সংবাদ পরিবেশনে সর্তকতা অবলম্বন করুন
  • শোকগ্রস্ত পরিবার বা বন্ধুদের সাক্ষাৎকার গ্রহণের সময় সাবধাণতা অবলম্বন করুন; যেন আপনার কোন প্রশ্নে তার মনে আঘাত না পায়
  • আত্মহত্যার সংবাদ সংগ্রহ ও পরিবেশনকারী সংবাদকর্মী নিজেও আত্মহত্যার ঘটনা দ্বারা প্রভাবিত হতে পারেন। সেক্ষেত্রে প্রয়োজন হলে তারা বিশেষজ্ঞ পরামর্শ গ্রহণ করতে পারেন

সংবাদ পরিবেশনকালে যা করা উচিত নয়

  • আত্মহত্যার সংবাদটি খুব গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রকাশ করবেন না এবং অযথা সংবাদটি পুনরাবৃত্তি করবেন না
  • এমন কোন ভাষা ব্যবহার করবেন না যেন মনে হয় আত্মহত্যা স্বাভাবিক ঘটনা অথবা আত্মহত্যা কোন সমস্যার সমাধান
  • বিস্তারিতভাবে আত্মহত্যার পদ্ধতির বিবরণ প্রদান করবেন না
  • আত্মহত্যার স্থান নিয়ে বিশদ বিবরণ প্রদান করবেন না
  • উদ্দীপনার খোরাক দেয় এমন শিরোনাম ব্যবহার করবেন না
  • ছবি, ভিডিওি ফুটেজ বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কোন লিংক প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকুন।