ইনফিরিয়রিটি কমপ্লেক্স

ইনফিরিয়রিটি কমপ্লেক্স: হীনমন্যতায় ভোগা

ইনফিরিয়রিটি কমপ্লেক্স: হীনমন্যতায় ভোগা

হীনমন্যতা এমন একটি জটিল ভাবনা যার অনুভূতিগুলো আসলে কল্পিত। আর এই ভাবনার ফলে যে অনুভূতি সৃষ্টি হয় তা অন্যের চেয়ে নিজেকে অনেক ছোট করে দেয় নিজেরই কাছে। এর কারণে কম আত্মবিশ্বাসী হয়ে পড়তে হয় এবং নিজেকে নিয়ে অতিরিক্ত মাত্রায় সমালোচিত হতে হয়। আর তার পেছনের কারণটা আসলে তারা নিজেদের চিন্তাগুলো নিজেরাই জটিল করে ফেলে। কারণ তারা বাস্তব আর কল্পনার মধ্যে কল্পনাকেই বেশি বিশ্বাস করে। তার ভালো কিছুর চেয়েও অন্যের খারাপটাও খুব বড় লাগে। আর এর কারণটাই হলো ওই ভুল কল্পনাকে বিশ্বাস করা। যেটি আস্তে আস্তে আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দেয়। মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষক আলফ্রেড অ্যাডলার এ ধরনের মানুষদের নিয়ে বিস্তর গবেষণা চালাচ্ছিলেন। তিনি ‘সবসময় অনিরাপদ বোধ করা’ এসব মানুষদের ভেতর একটা সাধারণ বৈশিষ্ট্য লক্ষ করেন। যেটিকে তিনি ‘ইনফিরিয়রিটি কমপ্লেক্স’ নামে অভিহিত করেন।

এখন একটু জানানোর চেষ্টা থাকবে ‘ইনফিরিয়রিটি কমপ্লেক্স’ বিষয়টা আসলে কি?

গবেষণা পত্রের কিছু উদ্বৃতি দিয়ে Thrivetalk একটি ব্লগের আর্টিকেলে বলা হয়েছে এই জটিল বা নিকৃষ্ট অনুভূত হওয়া মানে সামাজিক, শারীরিক, বৌদ্ধিক বা মনস্তাত্ত্বিক গুণাবলী অনুসারে অপর্যাপ্ত বা অন্যের চেয়ে নিজেকে খুব নিচু লাগার একটা অনুভূতি হওয়া। উদাহরণস্বরূপ, একজন শিক্ষার্থী তার ভালো পারফামেন্সের কারণে নিজের ক্লাসে উজ্জ্বল হিসাবে বিবেচিত হয়েও অন্যের তুলনায় নিজেকে নিকৃষ্ট মনে করতে পারে। নিজেকে অন্যের সাথে তুলনা করা এবং নির্দিষ্ট স্কেলে অন্যের সাথে সমান না হওয়া হিসাবে নিজেকে উপলব্ধি করা থেকে নিকৃষ্ট মনে হয় নিজেকে।

যদিও প্রত্যেকে জীবনের কোনও এক পর্যায়ে এমন হীনমন্যতা বোধ করে থাকেন। তবে তা একটা সময় পর্যন্ত হলে সমস্যা নয়। জটিলতা তখনই হয় যখন বিষয়টি দীর্ঘস্থায়ী অনুভূতি হতে থাকে। এটি মূলত কোনো কারণ বর্শত শৈশব থেকেই সৃষ্টি হয় যার ফলে জীবনের প্রায় সব দিকেই প্রভাব ফেলে। হীনমন্যতার জটিলতায় ভোগা মানুষগুলোর সাধারণত যথেষ্ট ভাল লাগে না এবং তারা চরম সংবেদনশীলতা প্রকাশ করে প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই।

এছাড়াও এই জটিল পরিস্থিতে থাকা মনের এসব মানুষদের অনুভূতি এমন থাকে যখন কোনো ব্যক্তি, অন্য লোকেদের সামনে নিজেকে যথাযথ মূল্যায়ন করতে পারেন না, এবং তখন নিজের ভেতর নিজেকে ছোট ভাবার এই অবস্থা কাটিয়ে তুলতে, নিজের চারপাশেই একটা দেয়াল তুলে ধরেন। এই কাজটি কেন করেন তারা? যাতে আশপাশ মানুষের কাছে, তার এই হীনমন্যতা বা আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি ধরা না পড়ে।

এমন মানুষদের জটিলতার লক্ষণগুলো প্রায় একইরকম। তাই বেশিষ্টগুলো জানাটাও গুরুত্বপূর্ণ, যাতে তাদের ভালভাবে বুঝে তাদের এই সমস্যা থেকে বের করার চেষ্টাটা অন্তত করা যেতে পারে। এই সকল হীনমন্যতায় ভোগা মানুষগুলো;

১. সহজেই অসম্মানিত বোধ করে।
২. এদের সংবেদনশীলতা বেশি
৩. মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা করে থাকেন।
৪. ভুল খোঁজার চেষ্টায় থাকেন।
৫. সামাজিক ভাবে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখে।
৬. সব কাজে উদ্বেগ প্রকাশ পায়।

হীনমন্যতার জটিলতা থেকে বেরোতে সব চেষ্টায় নিজেকে করতে হবে। এছাড়া তেমন কোনো উপায় নেই এই হীনমন্যতা কাটানোর। মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা এই পরিস্থিতিতে যে কাউন্সিলিং গুলো করে থাকেন বা পরামর্শ দিয়ে থাকেন সেটি হলো:

১. নিজেকে নিয়ে অনুশীলন করতে হবে।
২. আপন শক্তি চিনতে চেষ্টা চালাতে হবে।
৩. ইতিবাচক সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে।
৪. অনুশীলনে নিজেকে দৃঢ় করতে হবে।
৫. না বলতে শিখতে হবে।

যদি নিজেকে নিজে পছন্দ না করতে শেখা হয়, ভালো না বাসা যায় তবে অন্যের কাছ থেকে তা আশা করাটাও ভুল যাবে। মানুষ সেভাবেই দেখবে যেভাবে নিজেকে নিজে দেখা হয়। শেষ কথা নিজেকে ভালবাসতে হবে, নিজেকে সময় দিতে হবে।

আর এরকম সমস্যায় ভোগাটা কোনো অপরাধ নয়। কোনো আঘাতে বা পারিপ্বার্শিক কারণে এমন হীনমন্যতার সৃষ্টি হয়। তাই এমন মানুষদেরকে করুণা না করে ভালো জীবন যাপনের ক্ষেত্রে সকলের সহযোগিতা থাকাটা জরুরী।

নিজেকে ভালোবাসতে হবে, নিজেকে সময় দিতে হবে। আপনি যদি নিজেকে পছন্দ না করতে পারেন, ভালো না বাসতে পারেন তবে অন্যের কাছ থেকে কিভাবে তা আশা করবেন। মানুষ আপনাকে সেভাবেই দেখবে আপনি নিজেকে যেভাবে দেখেন। সুতরাং নিজেকে প্রথমে ভালোবাসুন।

লিখেছেন: প্রান্তী সরোয়ার