অবিবাহিতদের মানসিক স্বাস্থ্য বনাম বিবাহিতদের মানসিক স্বাস্থ্য

অবিবাহিতদের মানসিক স্বাস্থ্য বনাম বিবাহিতদের মানসিক স্বাস্থ্য

আমাদের সমাজে অবিবাহিত বা বৈবাহিক সম্পর্ক এড়িয়ে চলা মানুষদের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। অনেকেই মনে করেন বৈবাহিক সম্পর্ক এড়িয়ে চললেই সবাইকে নিয়ে সুখী জীবন যাপন করা যায়। আবার এর বিপরীত মানসিকতার লোকও কম খুঁজে পাওয়া যাবেনা। কিন্তু সত্য বলতে, সুখী হওয়ার অর্থ বিবাহিত বা অবিবাহিত হওয়া নয় বরং সবার সাথে একটি শক্ত পোক্ত সামাজিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা।

মানুষের মাঝে ব্যক্তি স্বাধীনতা বোধ যত বেশি বাড়ছে মানুষ ততোটাই বৈবাহিক জীবন বিমুখ হয়ে পড়ছে। তাদের মতে ব্যক্তিগত, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক বলয়ের মাঝে থাকতে হলে অবিবাহিত জীবন যাপন করাই সব থেকে ভাল উপায়। তাহলে কি অবিবাহিত মানুষের মাঝে বন্ধু সুলভ মানসিকতার অভাব থাকে? তারা কি অন্যদের সাথে সামাজিকতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়? তাদের মাঝে কি ব্যক্তি স্বাধীনতার অভাব থাকে? এই প্রশ্ন গুলোর উত্তর আজ আমরা খুঁজব।

সামাজিক ধারণা অনুযায়ী একজন ব্যক্তির বৃদ্ধ বয়সে সর্বক্ষণ একজন সহানুভূতিশীল সঙ্গীর প্রয়োজন এবং তাকে সাহায্য ও দেখাশোনা করার জন্য তার সঙ্গীর থেকে ভাল আর কেউ হয়না। বিবাহ করা একটি সামাজিক নিরাপত্তামূলক কাজ ও বটে। এই কারণে তাদের মতে অবিবাহিত লোকজন বৃদ্ধ বয়সে অধিক একাকী এবং অসহায় হয়ে থাকে যারা প্রয়োজনের সময় কাউকেই পাশে পায়না। তবে বর্তমানে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে যে এটি নিতান্তই একটি জনশ্রুতি। সুখী থাকা, সেটি যে কোন বয়সেই হোক না কেন, বৈবাহিক সম্পর্কের সাথে সম্পর্কিত নয়। বরং এটি সবার সাথে একটি দৃঢ় মনস্তাত্বিক সম্পর্কে জড়িয়ে থাকার সাথে সম্পর্ক যুক্ত।

একজন ষাটোর্ধ ব্যক্তির অন্যান্যদের সাথে মনস্তাত্বিক সম্পর্ক কতোটা দৃঢ় সেটি তার মানসিক এবং শারীরিক স্বাস্থ্যের পরিচায়ক। কখনোই তার পারিবারিক অবস্থা দেখে তার স্বাস্থ্যের বিষয়ে ধারণা করা সম্ভব হয়না। যখন ধীরে ধীরে মানুষের বয়স বাড়ে তাদের শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্যের উপর অন্যান্যদের সাথে তার মনস্তাত্বিক ভাবের আদান প্রদানের মাত্রা কতোটা তার প্রভাব বাড়তে থাকে। অবিবাহিতএবং বিবাহিত মানুষের বন্ধুর পরিমাণ হয়তো খুব বেশি পরিমাণ কম বেশি হয়না, তবে অবিবাহিত মানুষের সাথে তাদের বন্ধুদের সম্পর্ক, বিবাহিত মানুষের সাথে তাদের বন্ধুদের সম্পর্কের তুলনায় অধিক ঝামেলা মুক্ত এবং কার্যকরী হতে দেখা যায়।

অবিবাহিত মানুষের জীবনে তাদের বন্ধুদের প্রভাব অনেক বেশি হয়। তাদের মাঝে সবার সাথে সবার মত করে মেশার মনের জোরও অধিক পরিমাণে থাকে। কিন্তু বিবাহিত ব্যক্তিদের মানসিকতা কিছুটা সংকীর্ণ হয়ে থাকে যা শুধুমাত্র তার পরিবার কেন্দ্রিক হয়ে যায়। তাই বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেখা যায় বিবাহিত ব্যক্তিদের, অবিবাহিত ব্যক্তিদের থেকে বন্ধুর সংখ্যা অনেকটাই কম হয়। বিবাহিত ব্যক্তিরা অনেক ক্ষেত্রে তাদের বন্ধুদের পরিত্যাগ করে পরিবার এবং সঙ্গীর সাথেই সময় অতিবাহিত করে। তাদের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু হয় পরিবার এবং পারিবারিক সমস্যা।

এছাড়াও অবিবাহিত ব্যক্তিদের মাঝে তাদের বন্ধু বান্ধব, প্রতিবেশীদের মন মানসিকতা বুঝে তাদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখার পারদর্শিতা বিবাহিত ব্যক্তিদের থেকে বেশি থাকে। কারণ বিবাহিত ব্যক্তিরা পারিবারিক সমস্যা সমাধানেই তাদের ধৈর্য এবং সময় অধিক মাত্রায় ব্যায় করে ফেলে। তাই বলা যায় বিভিন্ন দিক থেকে বিয়ে একজন মানুষের মানসিকতা এবং অন্যান্যদের সাথে তার সম্পর্কের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। অন্য দিকে অবিবাহিত ব্যক্তিরা এই প্রভাব মুক্ত হন। তারা তাদের বন্ধু বান্ধব, প্রতিবেশী এবং অন্যান্যদের সাথে ইতিবাচক মানসিক সম্পর্ক বজায় রাখতে সমর্থ হন।

এটি নিঃসন্দেহে সঠিক যে যাদের জীবনে বন্ধুদের সংখ্যা বেশি থাকে, তারা মানসিকভাবে অনেক বেশি সুস্থ এবং উন্নত স্বাস্থ্যের অধিকারী হয়ে থাকে। মানুষের সুস্থ্যভাবে বেঁচে থাকার জন্য সমাজের অন্যান্যদের সাথেও একটি স্বাস্থ্যকর সম্পর্কে জড়িয়ে থাকা প্রয়োজন। তাই অবিবাহিত মানুষেরা বিবাহিত মানুষের তুলনায় অধিক একাকী বা শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত এটি মনে করা মোটেও সঠিক ধারণা নয়।

সূত্র: সাইকোলজি টুডে- https://www.psychologytoday.com/us/blog/happy-singlehood/201904/the-impact-friendships-single-and-married-people?collection=1138425

অনুবাদ করেছেন: প্রত্যাশা বিশ্বাস প্রজ্ঞা