যেভাবে একটুখানি হাসি আপনার ইতিবাচক মানসিকতার পরিচায়ক হয়ে উঠতে পারে

একটুখানি হাসি আপনার ইতিবাচক মানসিকতার পরিচায়ক হয়ে উঠতে পারে

হাসি সুখানুভূতি প্রকাশের সব থেকে উৎকৃষ্ট মাধ্যম। একটুখানি হাসি আপনার মনকে অনেকটাই হালকা করে দিতে পারে। নিজের মন যখন প্রফুল্ল থাকে তখন মনে হয় যেন সমস্ত পৃথিবীই হাসছে। তাছাড়াও যখন আপনার মন কোন কারণে অবসন্ন থাকে, এই হাসিই আপনাকে কষ্টের অনুভূতি থেকে মুক্তি দিতে পারে। এমন অনেক কিছুই আছে যা আপনাকে সুখানুভূতি প্রদান করতে পারে। কিন্তু এগুলোর মধ্যে সব থেকে কম আয়াসে এবং সহজে আপনার মন ভাল করে দিতে পারে, সেটি হল আপনার মুখের একটুখানি হাসি।

একজন ব্যক্তি যখন হাসেন তখন তার মস্তিষ্ক সেটিকে সুখের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই গণ্য করে। যখন একজন ব্যক্তি কোন কারণে খুশি হন তার মাঝে কিছু রাসায়নিক বিক্রিয়া হয় এবং কিছু নির্দিষ্ট হরমোন নিঃসরিত হয়। এবং এর ফলশ্রুতিতে আমরা হাসি। একইভাবে, যখন আমরা হাসি, আমাদের মস্তিষ্ক এটিকে সুখের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে ধরে নেয় এবং একই সুখের হরমোন নিঃসরণ করে। হাসির এই শক্তিকে যদি আমরা আমাদের ইতিবাচক মানসিকতার বিকাশে কাজে লাগাই এবং সব ধরণের নেতিবাচক পরিস্থিতেও হাসতে পারি, তাহলে আমাদের মন সব সময়ই প্রফুল্ল থাকবে।

খুব সহজ ৪টি উপায়ে আমরা এই চর্চা করতে পারি-

১) সব কিছুর মধ্যে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ধরে রাখা এবং হাসাঃ আমাদের চারপাশে সব সময়ই কিছু না কিছু ঘটছে। সব সময় সব কিছু ইতিবাচক ভাবে ভাবতে চেষ্টা করতে হবে। নেতিবাচক পরিস্থিতিতেও মুখে হাসি ধরে রেখে ইতিবাচক মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে হবে। তাই পরিস্থিতি যেমন ই হোক, ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ধরে রাখার প্রতি মনোনিবেশ করুন এবং প্রাণ খুলে হাসুন।

২) মুখে সব সময় হাসি-হাসি ভাব ধরে রাখাঃ এটি বুদ্ধ ধর্মের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। তাদের মতে, মুখে হাসি হাসি ভাব ধরে রাখতে পারলে সুখানুভূতির বৃদ্ধি ঘটে। নিজের জীবনে এটির চর্চা করে দেখতে পারেন। এতে মুখে বিদ্যমান পেশী সমূহেরও ব্যায়াম হয় এবং সেগুলো ভাল থাকে। আপনার যদি সব সময় হাসি হাসি থাকে তাহলে যে কেউ আপনার দিকে তাকিয়ে মনে করবে আপনিও তার প্রতি ইতিবাচক মানসিকতা পোষণ করেন এবং এতে তিনিও আপনার প্রতি ইতিবাচক থাকবেন।

৩) অন্যদের সাথে ভাবের আদান প্রদানের সময় হাসাঃ মুখের হাসিটাকে আপনি সামাজিক ভাব প্রদানের একটি অঙ্গ হিসেবেও ভাবতে পারেন। অন্যদের সাথে দেখা হলে বা কথা বলার সময় আপনি যদি একটু হেসে কথা বলেন এটি আপনার সামনের মানুষের মাঝেও ইতিবাচক ভাবের সঞ্চার করে। তখন তিনিও আপনার প্রতি ইতিবাচক হয়ে ওঠেন এবং উভয়ের মাঝেই ইতিবাচক সুখের অনুভূতি তৈরি হয়।

৪) কষ্টের অনুভূতি হলেও মুখে হাসি ধরে রাখার চেষ্টা করাঃ যখন কোন বিষয় মনকে বিচলিত করে, কষ্ট দেয় এবং উদ্বেগের সৃষ্টি করে, সেই সময়ে মুখ গোমড়া করে না থেকে স্বাভাবিক একটি হাসি মুখে ধরে রাখার চেষ্টা করুন। এটি আপনার মন ভাল করতে সাহায্য করবে। আপনার মাঝে ইতিবাচক শক্তির সঞ্চার করবে এবং আপনি সেই উদ্বেগ উৎকণ্ঠা থেকে মুক্ত থাকতে পারবেন।

জীবনের এই ছোট ছোট পরিবর্তন আপনার জীবনকে আরও সুশৃঙ্খল এবং আপনার মানসিকতাকে আরও ইতিবাচক দিকে নিয়ে যাবে। আপনি আপনার জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত সুখের করে তুলতে পারবেন।

সূত্র: সাইকোলজি টুডে- https://www.psychologytoday.com/us/blog/making-change/202001/how-simple-smile-can-help-change-your-life

অনুবাদ করেছেন: প্রত্যাশা বিশ্বাস প্রজ্ঞা

মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে চিকিৎসকের সরাসরি পরামর্শ পেতে দেখুন: মনের খবর ব্লগ
করোনায় মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক টেলিসেবা পেতে দেখুন: সার্বক্ষণিক যোগাযোগ
করোনা বিষয়ে সর্বশেষ তথ্য ও নির্দেশনা পেতে দেখুন: করোনা ইনফো
করোনায় সচেতনতা বিষয়ক মনের খবর এর ভিডিও বার্তা দেখুন: সুস্থ থাকুন সর্তক থাকুন