মূল পাতা / জীবনাচরণ / মন প্রতিদিন / সাহায্য নাকি এড়িয়ে যাওয়া

সাহায্য নাকি এড়িয়ে যাওয়া

আমাদের চলার পথে কোনো মানুষকে বিপদে দেখলে আমরা কি করি, কি করা উচিত, কি করা ভুল, কি করলে লোকটার উপকার হয় বা হতো, এটি মনে হয় আমার মতো অন্যদেরও ভাবায়। বিজ্ঞানীদেরও ভাবিয়ে তুলেছিল আমাদের প্রতিদিনের ছোটোখাটো কাজগুলোর সূক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণ থেকে। গবেষণায় দেখা গেছে আমরা কাউকে বিপদে দেখলে কয়েকটা স্তরে চিন্তা করি।

অবস্থাকে সংজ্ঞায়িত করা :
কাউকে বিপদে দেখলে আমরা প্রথমত চিন্তা করি আমাদের আশেপাশে আর কেউ আছে কিনা, বিপদটা কতটুকু সাংঘাতিক, সাহায্যের দরকার আছে কিনা। তারপর চিন্তা করি, আমার যাওয়ার দরকার আছে কিনা।

দায়িত্ব ভাগ করে ফেলার চেষ্টা :
যখন দেখি মানুষটির বিপদ বেশ সাংঘাতিক, সাহায্যের প্রয়োজন আছে, তখন চিন্তা করি আমি না গেলেও আশেপাশের অন্য কেউ সেটা থেকে সাহায্য করতে পারবে ইত্যাদি ইত্যাদি। গবেষণায় পাওয়া গেছে মানুষ যখন একা থাকে তখন সে অন্যের সাহায্যের জন্য বেশি বাড়ে এবং দ্রুত এগিয়ে আসে। যখন দলবদ্ধ থাকে বা একই যায়গায় অন্যদের দেখলে, তার দায়িত্বকে এড়িয়ে গিয়ে অন্যেরা করবে বলে ভাবতে থাকে।

উদ্দীপনা এবং সন্তুষ্টি-ব্যয় পর্যালোচনা:
যখন ভাবা হয় বিপদটি সাংঘাতিক, আমারই সহযোগিতা করা দরকার, তখন মনে মনে প্রশ্ন আসে উপকার করলে আমার কি লাভ হবে এবং বিপদমুক্ত করার জন্য আমার কি সম্পদ আছে, আমার কত খরচ হবে। এখানে একটা কথা উল্লেখ করা দরকার যে, লাভ বলতে কোনো অর্থনৈতিক বা দৃশ্যমান লাভ নাও হতে পারে। কাউকে বিপদে দেখলে আমাদের মনের মধ্যে যে উত্তেজনা বা ভাবনার তৈরি হয়, সেটা কমিয়ে দেওয়াও লাভ হিসাবে গণ্য করেছেন গবেষকরা।

অন্যের কষ্ট দূর নাকি নিজের আরাম:
অনেক বিজ্ঞানী মনে করেন মানুষ সৃষ্টিগত ভাবে সাহায্যপরায়ণ। অনেকে আবার দ্বিমত পোষণ করে বলেছেন মানুষ তার নিজের কষ্ট থেকে মুক্তি লাভের জন্য অন্যের উপকার করেন।