মূল পাতা / জীবনাচরণ / নিজের যত্নে জরুরি বিষয়াবলী

নিজের যত্নে জরুরি বিষয়াবলী

নিজের নিয়ন্ত্রণ, উদ্যোগ ও ইচ্ছা প্রসূত হয়ে শরীরের যত্ন নেয়াকে সেলফ কেয়ার বা নিজের যত্ন নেয়া বলে। মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নিতে হলে আগে নিজের যত্ন নেয়া জরুরি। আমেরিকান মনোবিজ্ঞানী ও বিখ্যাত লেখক স্টিফেন মোল্টন সারকিস বলেন, জীবনমান উন্নত করতে নিজের যত্ন নেয়ার কোনো বিকল্প নেই। সাম্প্রতিক সময়ে সেলফ কেয়ার নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। তবে এটি কি এবং কিভাবে এটি আপনাকে সাহায্য করতে পারে তা কি আপনি জানেন?

নিজের যত্নে ৭টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের আলোকপাত করেছেন বিখ্যাত এই মনোবিজ্ঞানী। চলুন দেখে নেয়া যাক সে বিষয়গুলো:

০১. আগে নিজের যত্ন: নিজের প্রয়োজন গুলোকে আগে গুরুত্ব দিতে শিখুন। তা না হলে আপনি কার্যকরভাবে অন্যদের সহায়তা করতে পারবেন না। যেমন আপনি বিমানে করে কোথাও যাচ্ছেন। এ সময় বিমানবালা আপনাকে বিপদে অন্যকে সাহায্য করার আগে নিজের অক্সিজেন মাক্স পরার নির্দেশ দেন। মনের স্বাস্থ্যের জন্য এই একই প্রক্রিয়া প্রযোজ্য।

০২. নিয়মিত যত্ন: মনোবিজ্ঞানী সারকিস নিজের যত্নে প্রোঅ্যাকটিভ বা প্ররোচক হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, যখন আপনি সেলফ কেয়ারে সক্রিয় হবেন তখন নিজের যত্নে আপনি নিয়মিত সময় দিতে থাকবেন। তার মতে কোনো মানুষ মানসিক বিপর্যয়ে পড়ার আগেই তাকে নিজের যত্নে মনোযোগী হওয়া উচিত। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হওয়ার পর নিজের যত্ন নেয়াকে প্রতিক্রিয়াশীল বা রিঅ্যাকটিভ সেলফ কেয়ার বলে। এটির থেকে প্রোঅ্যাকটিভ সেলফ কেয়ার বেশি কার্যকরী। এর ফলে মানসিক বিপর্যয়ের মুখে আরো বেশি স্থিতিশীল ও সহনশীল থাকা সম্ভব হয়।

০৩. প্রত্যেকের নিজের যত্নে ভিন্নতা: একজন ব্যক্তির সেলফ কেয়ারের অনুশীলন অন্য কারো জন্য সহায়ক হতে পারে না এবং এটাই স্বাভাবিক। সবার সাথে মিশতে পারেন এমন যে কেনো ব্যক্তি প্রিয় বন্ধুদের সাথে সময় কাটানোর মাধ্যমে নিজের যত্ন নিতে পারেন। আবার ইন্ট্রোভার্ট বা একা সময় কাটাতে ভালোবাসে এমন ব্যক্তি নিজের যত্ন বা সেলফ কেয়ারের জন্য বই পড়তে পারেন। যে যেভাবে নিজের যত্ন নিতে স্বাচ্ছন্দবোধ করবেন তাকে সেভাবেই নিয়মিত নিজের যত্ন নেয়া উচিত।

০৪. থেরাপি: নিজের যত্ন নেয়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধা থাকলে, নিজের জন্য সময় কাটাতে বা নিজেকে যত্ন নেয়ার বিষয়ে নিশ্চিতভাবে অনুভব করতে না পারলে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের স্মরণাপন্ন হতে বলেছেন সারকিস। তার মতে, একজন পেশাদার মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ আপনাকে নিজের সম্পর্কে আরো বেশি কিছু জানতে এবং নিজের যত্ন নেয়ার ক্ষেত্রে ‘দ্রুতগতি’ হতে পারে এমন আচরণের নিদর্শনগুলি খুঁজে বের করতে সহায়তা করতে পারেন।

০৫. সীমানা নির্ধারণ: কেউ যখন ভালোভাবে নিজের যত্ন নিতে শুরু করে তখন সে নিজের সময় ও প্রয়োজনের সীমানা নির্ধারণ করতে পারে। স্বাস্থ্যবান মানুষ সীমানা বা গন্ডিকে সম্মান করেন। নিজের যত্ন নেয়ার ক্ষেত্রে তার তাদের গন্ডি বা সীমানাকে মেনে নিতে পারেন। নিজের যত্নে ও মানসিক-শারীরিক সুস্থতার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধির গন্ডি বা সীমানা মেনে চলা উচিত বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

০৬. লিখে রাখা: মানসিক ও শারীরিক শক্তি সরবরাহ করে এমন ক্রিয়াকলাপ বা আগ্রহসমূহ লিখে রাখার কথাও বলেছেন সারকিস। তিনি বলেন, এটা হতে পারে আপনার পোষ্য কুকুরটিকে নিয়ে হাটতে বের হওয়া, প্রিয় বন্ধুর সাথে আলাপ কিংবা আড্ডা দেয়া, পছন্দের সিনেমা দেখা ইত্যাদি। এই লিস্টটি সবসময় চোখে পড়ে এমন স্থানে রাখুন। যখনই আপনি মানসিক চাপ অনুভব করবেন তখন আপনি এই লিস্ট থেকে পছন্দের কাজগুলি করতে পারেন। নিজের যত্ন নেয়ার বিষয়টি একেবারেই আপনার হাতের মুঠোয় এবং এটি আপনার মানসিক চাপ কমাতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে।

০৭. অনুশীলন: অনুশীলনের কোনো বিকল্প নেই। কার্যকরীভাবে নিজের যত্ন নিতে হলে নিয়মিত অনুশীলন আবশ্যক। অনেকেই আছেন যারা শুরুতে কোনো কাজ ভাল লাগলে তা খুব আগ্রহ নিয়ে করেন। কিন্তু পরবর্তীতে সে কাজটি আর ভালোভাবে করতে না পারলে একেবারেই কাজটি ছেড়ে দেন। এটি একেবারেই উচিত নয়। কোনো কাজ শুরু করলে সেটি শেষ করা উচিত। নিজের যত্ন নেয়ার ক্ষেত্রেও পরিকল্পনা করা উচিত বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। মনোবিজ্ঞানী সারকিস বলেছেন, কোনো কারণে সপ্তাহজুড়ে নিজের যত্ন নিতে না পারলে থেমে যাবেন না। পুনরায় শুরু করে দিন।

 

তথ্যসূত্র: সাইকোলজি টুডে।
অনুবাদটি করেছেন তৌহিদ সোহান।