মূল পাতা / জীবনাচরণ / অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সামলাবেন যেভাবে

অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সামলাবেন যেভাবে

বন্ধু, আত্মীয় বা পরিচিত কেউ আড্ডার এক পর্যায়ে হঠাৎ দুঃখের কথা বলতে শুরু করলে আমরা সাধারণত বিব্রত হই। এমন পরিস্থিতিতে আপনি কি করবেন? দ্রুত সমস্যা সমাধান করার চেষ্টা করবেন, নাকি পরিস্থিতি এড়াতে প্রসঙ্গ পাল্টে ফেলবেন?

যদি আপনি সহমর্মী মানসিকতার হন অথবা হন খোলামেলা, কৌতূহলী ও সহনশীল- তাহলে দ্রুত ওই ব্যক্তির মনের গভীরে প্রবেশ করতে পারবেন।

অন্য কষ্ট বোঝা সত্যিই অনেক কঠিন ব্যাপার, তবে খুব সহজেই এ পরিস্থিতি সামলে নিয়ে ওই ব্যক্তিকে কিছুটা হালকা করা সম্ভব।

শুধু শুনুন: এটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। মনে হতে পারে এতে তার কোনো উপকার হবে না, আপনারও না। কিন্তু যিনি বলছেন, নিঃসন্দেহে তার উপকার হবে।

•    নিজের ব্যক্তিত্বকে কাজে লাগিয়ে সমবেদনা জানান, আনন্দ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করুন।

মূল সমস্যা ধরার চেষ্টা করুন: কখনও কখনও মানুষ তার সমস্যার মূল কথাটা সরাসরি বলতে পারে না। অনেক কথা শোনার পরে নিজেকে প্রশ্ন করুন ‘সমস্যার শুরু কোথায়’।

•    তার জায়গায় নিজেকে দাঁড় করিয়ে ভাবতে পারেন।

অনুভব করার চেষ্টা করুন: এটা খুবই কঠিন বুঝে ফেলা আপনার সামনে থাকা মানুষটির মনের অবস্থা এখন কেমন। তবে যদি মুখে উনি কষ্টের কথা বলেন, চেষ্টা করলে আপনি ধারণা করতে পারবেন- কতটা কষ্ট।

•    ভাবুন, এমন অবস্থায় আপনি নিজেকে কি বলতেন।

প্রথমেই আশা দেবেন না: যখন কোনো ব্যক্তি নেতিবাচক অবস্থার মধ্যে দিয়ে যায়, হতাশায় ভোগে- তখন কোনো ইতিবাচক বিষয়ই তার নজর কাড়ে না। গ্রহণ করার মতো অবস্থায় আসার পরেই কাউকে আশা দিন।

•    নিজের ব্যক্তিত্ব দিয়ে প্রভাবিত করার চেষ্টা করুন।

দলবদ্ধভাবে সাহায্য করুন: একই চিন্তাধারার কয়েকজন মিলে কারও পাশে দাঁড়ালে পরিস্থিতি পাল্টে যেতে পারে।

•    খুঁজে বের করুন, কারা সমস্যাগুলো বুঝতে পারে এবং সহযোগিতার মানসিকতা রাখে।

চিঠি লিখতে পারেন: আধুনিক এ যুগে চিঠি লেখার পরামর্শ খুবই হাস্যকর। রাগও হতে পারে। কিন্তু গবেষকদের মতে, চিঠি খুবই শক্তিশালী একটি মাধ্যম। চিঠি লেখা ও চিঠি পড়ার সঙ্গে আবেগের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। পৃথিবীজুড়ে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, মনোবিজ্ঞানী এবং গবেষকরা বিষণ্ন সঙ্গীকে সাহায্য করতে চিঠি লেখার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

তারা শুরু করতে বলেন, ‘প্রিয়___, আমি জানি তুমি অনেক সমস্যার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছো। তুমি আমাকে জানাতে পারো তোমার সমস্যা-কষ্টের কথা…’।
•    নিজের প্রকাশভঙ্গি দিয়ে আকর্ষণীয় করে তুলুন আপনার বক্তব্য।

কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন: রাগ হলে মানুষ অন্যের সব ভালো বিষয় ভুলে যায়। শ্রদ্ধা করুন, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন। আপনার এ আচরণে ওই ব্যক্তি তার চেতনার শান্ত অবস্থায় ফিরে আসার সুযোগ পাবে।

•    যাকে বলছেন বা লিখছেন, তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন।