মানসিক আঘাতজনিত ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার উপায় 1

মানসিক আঘাতজনিত ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার উপায়

মানসিক আঘাত বিভিন্ন কারণে লাগতে পারে। যেমন, অসুস্থতা, কাছের মানুষের মৃত্যু, বিবাহ বিচ্ছেদ, বন্ধ্যাত্ব, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, প্রাকৃতিক দূর্যোগ ইত্যাদি। এছাড়াও অনেক সুদূরপ্রসারী কারণে মানসিক আঘাত লাগতে পারে। একজন মনোবিজ্ঞানী হিসেবে আমি বলতে পারি, প্রায় সবার মাঝেই মানসিক আঘাত কাটিয়ে ওঠার একটা আশ্চর্য ক্ষমতা আছে। এই ক্ষমতা যেমনি ঐশ্বরিক, তেমনি তাদের ব্যক্তিত্ব ও দৃঢ়। জীবনের উত্থান পতন থাকবেই। কিন্তু সকল বিপদ কাটিয়ে উঠে আবার সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।

মানসিক আঘাতের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া: একজন মানুষ যদি কোন বিষয় নিয়ে অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করে কিংবা নিজেকে অতিরিক্ত  অসহায়, একা এবং নির্যাতনের শিকার বলে মনে করে তাহলে সে বিভিন্ন মানসিক কষ্টের সম্মুখীন হয়। এর ফলে অনেকেই বাঁচার অর্থ হারিয়ে ফেলে। এসব কারণে তাদের আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলাটাও বেশ স্বাভাবিক। কিন্তু মনে রাখতে হবে আপনার মনে যেমন দুর্বলতা আছে তেমনি দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার শক্তিও আছে। জীবনে যেমন অপ্রাপ্তি আছে তেমনি মানুষের প্রাপ্তিও কম নয়। প্রত্যাশা এবং প্রাপ্তির মধ্যে ভারসাম্য  রেখে চললেই জীবনে সুখী হওয়া যায়।

জীবনে অনেক সময় আসে যখন মনে হয় পৃথিবীতে আপনার থেকে দুঃখী কেউ নেই। মনে হয় আপনিই সব থেকে কষ্টে আছেন। কেউ আপনাকে গুরুত্ব দেয়না। এসব ক্ষেত্রে নিজেকে প্রশ্ন করুন। নিজের অবস্থান যাচাই করুন। অন্যদের সমালোচনাকে গুরুত্ব না দিয়ে নিজেকে গুরুত্ব দিন। প্রতিদিন শরীরচর্চা এবং যোগ বেয়াম করলেও শারীরিক ও মানসিক উন্নতি হয়।

অন্যদের সাথে মিশুন সহজভাবে: আমাদের সবার জীবনেই কিছু বিশ্বস্ত মানুষের প্রয়োজন পড়ে। যারা বিপদে আপদে আমাদের পাশে থাকবে এবং ভাল বুদ্ধি দেবে। মনরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ডানিয়েল শেগেল বলেন, মানসিক ধাক্কা সামলে উঠে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার মাঝে মানুষের মাঝে ধনাত্মক চিন্তাধারা বৃদ্ধি পায়। যাদের মাঝে এর অভাব থাকে তারা জীবনে কাউকে বিশ্বাস বা ভরসা করতে পারেনা।

মানসিক কষ্টের যথাযথ কারন অনুসন্ধান: মনের মধ্যে জমাট বাঁধা কষ্ট কারও কাছে প্রকাশ করলে তার মাত্রা অনেকাংশেই কমে যায়। মানুষ কষ্টে থাকলে তার মাঝে বিভিন্ন প্রশ্নের উদয় হয়। যেমন, “আমিই কেন?” আমার সাথেই কেন এমন হয়?”,”এখন আমি কি করব?” ইত্যাদি। এসব কথা যদি নিজের বন্ধু-বান্ধব,পরিবার পরিজনের সাথে ভাগ করে নেওয়া যায় তাহলে মনের ভার অনেকটাই নেমে যায় এবং মনের জোর ও ফিরে পাওয়া যায়।

নিজের জীবনকে গুরুত্ব দেওয়া: নিজেকে গুরুত্ব দিলে, নিজের সাথে নিজের সম্পর্ককে দৃঢ় করলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ সুগম হয়। অন্যদের সাথে বেশি বেশি মেশা, কথা বলা, মনের ভাব বিনিময় করা এগুলো নিজেকে ভালো রাখার জন্য খুব প্রয়োজন। নিজেকে নিজের মাঝে আবদ্ধ না রেখে নতুনভাবে বাঁচতে শিখুন। সব দুঃখকে জয় করে সুখী জীবনযাপন করুন।

অনুবাদ করেছেন: প্রত্যাশা বিশ্বাস প্রজ্ঞা

তথ্যসূত্র:  https://www.psychologytoday.com/intl/blog/the-now/201908/thriving-after-loss