মূল পাতা / জীবনাচরণ / কুসংস্কার / ডিপ্রেশন বা বিষণ্ণতা সম্পর্কে কিছু ভুল ধারণা

ডিপ্রেশন বা বিষণ্ণতা সম্পর্কে কিছু ভুল ধারণা

ড্রিপেশন বা বিষণ্ণতা এমন একটা অসুখ, যেটাকে অনেকেই তেমন কোনো গুরুত্ব দেন না৷ ডিপ্রেশন সম্পর্কে কিছু ভুল ধারণা থাকার কারণেই এমনটা ভাবেন তাঁরা৷  পাঠকের জন্য তুলে ধরছি তেমনই কিছু ভুল ধারণার কথা৷

বিষণ্ণতা কোনো অসুখই নয়

বেশিরভাগ মানুষেরই ধারণা, বিষণ্ণতা বা ডিপ্রেশন কোনো অসুখই নয়৷ এটা একটা ভুল ধারণা, কারণ যাঁরা বিষণ্ণতায় ভোগেন তাঁদের চিকিৎসা প্রয়োজন৷

নিজে থেকে ভালো হয়ে যাবে

নিজে থেকে ক’দিন পরেই বিষণ্ণতা কেটে যাবে – এমন ধারণা অনেকেরই, যা ভুল৷ তবে বিষণ্ণতা যদি দু-তিন সপ্তাহের বেশি থাকে, তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত৷ তখন ডাক্তারই বুঝবেন রোগীকে কোনো বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠাতে হবে কিনা৷

হাসিখুশি পরিবেশে গেলেই ঠিক হয়ে যাবে

হাসিখুশি পরিবেশে গেলেই বিষণ্ণতা ঠিক হয়ে যাবে – এই ধারণাটিও ভুল৷ ভিন্ন পরিবেশে সাময়িকভাবে হয়ত বিষণ্ণতা কিছুটা কাটে, তবে রোগী সুস্থ হন না৷ তাই কারুর ডিপ্রেশন হলে তা মনের ভেতর রেখে একা একা কষ্ট না পেয়ে পরিবার এবং কাছের মানুষদের সাথে আলোচনা করা উচিত৷

বিষণ্ণতা শুধু হৃদয়ের অসুখ

এ ধারণাও সম্পূর্ণ ভুল৷ কারণ ডিপ্রশনের রোগীদের মাথা ব্যথা, মাথা ঘোরা, কোমর ব্যথা, কানের ভেতরে শব্দ হওয়া, পেটের সমস্যা – সবই হতে পারে৷ অবশ্য বেশিভাগ ক্ষেত্রে যেটা হয়, সেটা হলো ক্লান্তি, মন খারাপ, কোনো কিছুতে আগ্রহ বা ইচ্ছা না থাকা বা হতাশ হওয়া৷ এছাড়াও বিষণ্ণতায় ভোগেন যাঁরা, তাঁরা অন্যের সমস্যার কারণগুলোও নিজের মধ্যে খুঁজে বেড়ান৷

বিষণ্ণতার কথা ‘না’ জানালে কেউ বুঝবে না

এটাও একটি ভুল ধারণা৷ বিষণ্ণ রোগীর আচরণ দেখে প্রথমে হয়ত কেউ বোঝেন না – এ কথা ঠিক হলেও, বুঝতে কিন্তু খুব বেশি সময় লাগে না৷ বরং এই অসুখ অন্যদের কাছ থেকে লুকিয়ে রাখলে রোগী এবং পরিবার – দু’তরফেরই ক্ষতিই হয়৷ তাই লজ্জা বা ভয় না পেয়ে অন্যদের সাথে আলোচনা করলে উপকার হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি৷