জেনে নিন আতংকগ্রস্থতা বা প্যানিক ডিজঅর্ডারের উপসর্গসমূহ 1

জেনে নিন আতংকগ্রস্থতা বা প্যানিক ডিজঅর্ডারের উপসর্গসমূহ

আতংকগ্রস্থতা উদ্বিগ্নতার একটা পর্যায়, যেখানে হঠাৎ উপসর্গগুলো দেখা দেয়। উপসর্গগুলো সাধারণভাবে কয়েক মিনিট থাকে তারপর কোনো ওষুধ ছাড়াই ভালো হয়ে যায়। এই রোগের উপসর্গের মধ্যে কিছু মানসিক; যেমনঃ অস্বাভাবিক কোনো কিছু ঘটে যাওয়ার ভয়, নিজের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলার লক্ষণ, অস্বাভাবিক অনুভূতি, মৃত্যু ভয় সহ আরও অনেক উপসর্গ দেখা যায়।

এই রোগের একটা বড় অংশ রোগীদের শারীরিক উপসর্গ নিয়ে অস্বস্তিতে থাকেন; যেমনঃ বুক ধড়ফড় করা, জোরে জোরে হার্ট বিট করা, রিদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, ঘাম বেশি হওয়া, শরীরে কাঁপুনি হওয়া, দম বন্দ হয়ে আসা, বমি বমি ভাব বা পেটে অস্বস্তি হওয়া, মাথা ঘুরা, হাত পা ঝিনঝিন করা, অতিরিক্ত ঠাণ্ডা বা গরম অনুভব করা ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দেয়।

প্রথম একটা অ্যাটাক হওয়ার পর রোগীরা আর একটা অ্যাটাকের খুব ভয় পান এবং সেটা এড়ানোর জন্য উপায় খুজতে থাকেন। কেও ওই সাম্ভাব্য পরিস্থিতি এড়িয়ে জান সম্পূর্ণভাবে। একটা বড় অংশ রোগীরা বিশ্বাস করেন এটা হার্টের অসুখের জন্য হচ্ছে এবং অনেকদিন যাবত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে চিকিৎসা নিতে থাকেন। অনেক পরীক্ষা করেও হার্টের রোগ শেষ পর্যন্ত পাওয়া যায় না। মানসিক রোগের প্রতি একটু বাঁকা মনোভাবের কারণে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে আসতে সংকোচ বোধ করেন।

এই রোগ সাধারণত বিশের দশকে দেখা যায়, তবে এটা যেকোনো বয়সে দেখা যেতে পারে। সাধারণত এই রোগ পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের বেশি দেখা যায়। এটার প্রাদুর্ভাব ৬ মাসে প্রায় ১% পর্যন্ত হতে পারে, তবে সারা জীবনের প্রাদুর্ভাব প্রায় ১-৪%। এই রোগে বংশগতির ভূমিকা বিদ্যমান। দৈনন্দিন জীবনে যারা চাপ কম নিতে পারেন এবং বেশি চাপে থাকেন তাদের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

এই রোগটি যেহেতু হঠাৎ তীব্র সংকট তৈরি করে, যেখানে মৃত্যু ভয় এসে যায় তাই এই রোগ এবং এর চিকিৎসায় আর্তসামাজিক ক্ষতির পরিমাণ বেশ বেশি। পরিবারের লোকদের আতঙ্ক ও চিকিৎসায় সহযোগিতা অনেক সময় অনেকের জন্য বোঝার অনুভূতি তৈরি করে, যদি কিনা রোগটি দ্রুত নির্ণয় ও চিকিৎসা শুরু করা না হয়।

এই অ্যাটাক Panic Disorder নির্ধারণ করার আগে অন্যান্য মানসিক ও শারীরিক রোগের সম্ভাবনা গুলোকে ভালভাবেই খতিয়ে দেখতে হবে। সাথে সাথে এই রোগের সাথে আরও অনেক মানসিক রোগ একসঙ্গে দেখা দিতে পারে; যেমনঃ বিষণ্ণতা অন্যতম।

চিকিৎসাঃ সঠিক রোগ নির্ণয় করার পর চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করাই উত্তম। ওষুধের সাথে সাথে সাইকথেরাপি, দৈনন্দিন জীবনের অভ্যাসের পরিবর্তন প্রয়োজন হতে পারে।