মাঞ্চুউসেন সিনড্রোম

মনোরোগবিদ্যায় অনেক নামই বেশ কঠিন। বিদেশে এবং ভিন্ন ভিন্ন সমাজ বা জায়গা বা অবস্থা থেকে নাম করণ করার ফলে হতে পারে। আজকের রোগটাও বেশ এমন কঠিনই সেটা যেমন নামে, তেমন নির্ণয় ও চিকিৎসায়। এ রোগের রোগীরা নিজেদেরকে রোগীর ভান করেন ও এমন এমন উপসর্গ তৈরি করেন যা দেখে  ডাক্তাররাও অনেক সময় উপসর্গগুলোকে সঠিক মনে করেন ও চিকিৎসা দিতে থাকেন। এটাকে অনেকে hospital addiction, polysurgical addiction, বা professional patient syndrome ও বলে। এই রোগীরা নিজেদের পছন্দ মত রোগের উপসর্গ তৈরি করতে পারেন বা উপসর্গের ভান করতে পারেন। তারা তাদের পরিচিত রোগ অনুযায়ী ইতিহাস, উপসর্গ সবই মিলায়ে সামঞ্জস্যপূর্ণ অবস্থার তৈরি করে বিভিন্ন হাসপাতালে ঘুরতে থাকে ও চিকিৎসা নিতে থাকে। জ্বর, পেট ব্যথা, রক্ত বমি, খিচুনি, রক্তমিস্রিত কাশি সহ বিভিন্ন উপসর্গ তৈরি করতে পারেন।

প্রধানত তিন ধরনের দেখা যায়।

১) Wandering: এই প্রকার রোগীরা প্রধানত পুরুষ, হাসপাতাল থেকে হাসপাতাল ঘুরে বেড়ায়। এরা মাদকাসক্ত হতে পারেন এবং এদের উপসর্গের ধরন বেশ নাটকীয় হয় ও হঠাৎ  হঠাৎ পরিবর্তন হতে পারেন।

২) Non-wandering: এই প্রকার রোগীরা প্রধানত মহিলা, হাসপাতাল থেকে হাসপাতাল কম ঘুরে, একই জায়গায় বেশি উপস্থিত হয়। এরা স্বাস্থ্য সেবার সাথে জড়িত হতে পারেন এবং এই রোগের সঙ্গে সঙ্গে অন্যান্য রোগও দেখা যেতে পারেন।

৩) By proxy: এই প্রকার রোগীরাও প্রধানত মহিলা। তারা যাদের সেবা প্রদান করেন তাদেরকে ব্যবহার করেন ও উপসর্গ উপস্থাপন করেন। যেমনঃ মা তার বাচ্চাকে অত্যাচার করেন ও ডাক্তারের কাছে বলেন তার বাচ্চা খেলতে গিয়ে আঘাত পেয়ে অসুস্থ। নার্স, ডে-কেয়ার প্রভৃতি সেবা প্রদানকারী ব্যক্তির মধ্যে পাওয়া যেতে পারেন।

রোগ নির্ণয়:

এই রোগ নির্ণয় বেশ কষ্টকর। হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থায় তার পুরা ইতিহাস, উপসর্গ, পরীক্ষা রিপোর্ট বার বার খতিয়ে দেখা, রোগীকে ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণ সহ পারিপার্শ্বিক সুযোগ সুবিধা অনুযায়ী আরও ব্যাবস্থার দরকার হতে পারেন। মুশকিল হল রোগীরা যখন বুঝতে পারেন যে তারা ধরা পড়তে যাচ্ছেন তখনই তারা হাসপাতাল থেকে পালিয়ে অন্য হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার চেষ্টা করেন। সেবা প্রদানকারী ডাক্তারদের প্রতি ক্ষেত্রেই সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়।