অ্যাস্পারগারস্‌ সিনড্রম: পর্ব-২ 1

অ্যাস্পারগারস্‌ সিনড্রম: পর্ব-২

এখনও পর্যন্ত এই সমস্যার নির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করে বোঝা সম্ভব হয়নি।  পরিবারের মধ্যে কারোর যদি এইধরনের সমস্যা থেকে থাকে তাহলে জিনগত কারণে সেই পরিবারের অন্য কারোর মধ্যে এই রোগ দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সাধারণভাবে মনে করা হয়। কিন্তু নির্দিষ্টভাবে কোন জিনের প্রভাবে এই সমস্যা দেখা যাচ্ছে, তা নির্ধারণ করা যায়নি।

এই সমস্যা মেয়েদের তুলনায় ছেলেদের মধ্যে বেশি দেখা যায়।

বাচ্চার অভিভাবক বা পরিচর্যাকারী এবং তাদের শিক্ষকদের সঙ্গে কথাবার্তা বা আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে এই রোগ নির্ণয় করা হয়। একজন বিশেষজ্ঞ বাচ্চার সর্বাঙ্গীন বিকাশের ইতিহাস, তাদের সামাজিক আদানপ্রদানগত দক্ষতা এবং আচরণগত তথ্যের উপর নির্ভর করে এই রোগ নির্ণয় করে থাকেন। সাধারণত পাঁচ থেকে ন’বছর বয়সি বাচ্চাদের মধ্যে এই অসুখ নির্ণয় করা হয়। কিন্তু অনেকসময় রোগের লক্ষণ ঠিকঠাক বুঝতে না পারার জন্য প্রায়শই এই রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞরা ধন্ধের মধ্যে পড়ে যান অথবা এডিএইচডি, ওসিডি বা টওরেট সমস্যার সঙ্গে অ্যাস্পারগারস্‌ সমস্যা নিয়ে তাদের মনে সংশয় জেগে ওঠে।

যদিও এই সমস্যার সঠিক সমাধানের উপায় জানা না থাকলেও, এমন অনেক কার্যকরী ব্যবস্থা রয়েছে, যার সাহায্যে এই অসুখে আক্রান্ত একটি বাচ্চার দৈনন্দিন  জীবনযাপনে যাতে এই রোগের প্রভাব না পড়ে তার ব্যবস্থা করা যায়। যেমন- স্পিচ থেরাপি এবং সামাজিক  দক্ষতাজনিত প্রশিক্ষণ একটি শিশুর সামাজিক যোগাযোগ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। কগনিটিভ বিহেভিয়র থেরাপির সাহায্যে এই সমস্যায় আক্রান্ত বাচ্চাদের উপর স্কুলে ভয় দেখানো বা আর পাঁচজনের থেকে আলাদা করে রাখার উপর রাশ টানা যায়। অকুপেশনাল থেরাপির মাধ্যমে শিশুদের হাঁটাচলা এবং অতিসংবেদনশীলতাজনিত সমস্যার সাথে মোকাবিলা করতে শেখানো হয়। এই ধরনের প্রতিকারগুলির সাহায্যে শুধু বাচ্চারা নয়, তাদের অভিভাবক এবং পরিচর্যাকারীরাও উপকৃত হন।